এক বহুমাত্রিক গুণী মানুষকে নিয়ে ব্যতিক্রমী আয়োজন

শিল্পী ও উদ্যোক্তা শেখ রবিউল হকের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত চিত্রকর্ম প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন বিশিষ্ট অতিথিরা। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়ছবি: দীপু মালাকার

প্রত্যেক মানুষের মধ্যেই কোনো না কোনো বিশেষ গুণ জন্মগতভাবেই থাকে। পরবর্তী সময়ে সচেতন পরিচর্যায় অনেকে সেই গুণের উৎকর্ষ সাধনে সফল হন। আবার অনেকের ক্ষেত্রে অনেক রকম গুণের সন্নিবেশ লক্ষ করা যায়। শেখ রবিউল হক তেমনই একজন মানুষ, যাঁর মধ্যে বহুবিধ গুণের সমাবেশ ঘটেছে এবং তিনি সেসবের পরিচর্যা করে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিখরস্পর্শী সাফল্য অর্জন করেছেন। একাধারে তিনি কবি, কথাসাহিত্যিক, গীতিকার, সুরকার, গায়ক, চিত্রকর, উদ্যোক্তা ও সমাজসেবী। জীবন চলার পথে ৮০ বছর অতিক্রম করলেন এই বহুমাত্রিক গুণীজন। সে উপলক্ষেই তাঁর সৃজনসম্ভার নিয়ে এক ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল রোববার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়।

‘শেখ রবিউল হক: ৮০ বছরের সৃজনযাত্রা’ নামের এ অনুষ্ঠান শুরু হয়েছিল বিকেলে জাতীয় চিত্রশালা মিলনায়তনে। চিত্রশালা প্লাজায় মোমবাতি প্রজ্বালন ও ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্যসুন্দর’ গানের সঙ্গে শিশুদের নৃত্য পরিবেশনা দিয়ে শুরু হয়েছিল অনুষ্ঠান। জাতীয় চিত্রশালার ৭ নম্বর গ্যালারিতে শেখ রবিউল হকের চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন বরেণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবী। উপস্থিত ছিলেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা, বিশিষ্ট আবৃত্তি শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান, শিল্পী মনিরুজ্জামানসহ বিশিষ্টজন, লায়ন্স ক্লাবের কর্মকর্তা, শেখ রবিউল হকের পরিবারের সদস্য ও তাঁর নির্মাণ প্রতিষ্ঠান ট্রপিক্যাল হোমস লিমিটেডের কর্মকর্তারা।

জন্মদিন উপলক্ষে শেখ রবিউল হকের বাছাই করা ৮৫টি চিত্রকর্ম নিয়ে শুরু হলো ১০ দিনব্যাপী প্রদর্শনী। বাস্তব ও বিমূর্ত উভয় ধারার কাজই আছে প্রদর্শনীতে। তিনি বাংলার নিসর্গ, ফুল, গ্রামের দৃশ্য, নদীর তীরে সূর্যাস্ত, কোভিডকালে মানুষের বেকারত্ব, শীতের খেজুর গাছের রস সংগ্রহ, গ্রামীণ কিশোরদের দুরন্তপনা—এমন অনেক দৃশ্য এঁকেছেন।

শেখ রবিউল হকের চিত্রকর্ম প্রদর্শনী দেখছেন বরেণ্য শিল্পী ইমেরিটাস অধ্যাপক রফিকুন নবীসহ অতিথিরা। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়
ছবি: প্রথম আলো

উদ্বোধন করে শিল্পী রফিকুন নবী বলেন, শেখ রবিউল হক চিত্রকলায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহণ করেননি। স্বশিক্ষিত শিল্পী তিনি। তাঁর বিষয়বস্তু নির্বাচন ও রঙের বিন্যাস চমৎকার। একটি বৃহৎ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনার পাশাপাশি তিনি এত সময় দিয়ে এত ছবি এঁকেছেন, লেখালেখি করেছেন—এটা সত্যি বিস্ময়কর। শেখ রবিউল হকের কাজের পরিমাণ দেখে তিনি একই সঙ্গে বিস্মিত ও আনন্দিত।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাচিক শিল্পী জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, লায়ন্স ক্লাবের জেলা গভর্নর নওজাত সারওয়ার ইসলাম, ট্রপিক্যাল হোমসের নির্বাহী পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ওয়াহিদুল ইসলাম তালুকদার প্রমুখ।

শিল্পী ও উদ্যোক্তা শেখ রবিউল হকের ৮০তম জন্মবার্ষিকী উদ্‌যাপন অনুষ্ঠানে নৃত্যু পরিবেশন করে শিশু শিল্পীরা। রোববার সন্ধ্যায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় চিত্রশালায়
ছবি: প্রথম আলো

অনুষ্ঠানে শেখ রবিউল হকের উপন্যাস টেল অব টু স্লাম–এর মোড়ক উন্মোচন করা হয়।

জন্মদিনের এই আয়োজন সম্পর্কে শেখ রবিউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখনো কাজ করছি, ব্যস্ত আছি—এটাই সবচেয়ে আনন্দের। এমন আয়োজন করে জন্মদিন করা হয় না। এবার সবাই মিলে এই এত বড় আয়োজন করল। তাদের ধন্যবাদ।’

আয়োজনে সাংস্কৃতিক পর্বে শেখ রবিউল হকের জীবন ও কর্মের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবার অনুরোধে তিনি স্ত্রী মারুফা হককে নিয়ে মঞ্চে এসে ‘এই সুন্দর স্বর্ণালি সন্ধ্যায়’ গানটি গেয়ে শোনান। অনুষ্ঠানে বেহালায় রবীন্দ্রসংগীতের সুর বাদন করে তাঁর নাতি শেখ ফারজিন, রবীন্দ্রসংগীত পরিবেশন করেন রেফুল করিম, শেখ রবিউল হকের গান পরিবেশন করেন বাউল গরিব মুক্তার।