‘মব’ তৈরি করে দোকান বন্ধ, নাকি ‘অফার’ দিয়ে বিপাকে নবীন ফ্যাশন
রাজধানীর মগবাজারে বিশাল সেন্টারের ‘নবীন ফ্যাশন’ নামের একটি পোশাকের দোকান ‘মব’ সৃষ্টি করে বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন প্রতিষ্ঠানটির মালিক এনামুল হাসান নবীন।
কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করায় ব্যবসায়ী ‘সিন্ডিকেটের’ হুমকির কারণে দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এই অভিযোগ তুলে তিনি গত ঈদের পর ২৪ মার্চ রাতে চীন চলে যান।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনা ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। কেউ কেউ ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলছেন। আবার কেউ কেউ পুরো ঘটনাটি নিয়ে সন্দেহের কথা তুলে ধরছেন।
ঘটনাটি নজরে এসেছে আদালতেরও। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান স্বপ্রণেদিত হয়ে গত বুধবার দোকানটি খুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। পাশাপাশি পুলিশের উপস্থিতিতে দোকান বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় হাতিরঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মর্তুজাকে কারণ দর্শাতে বলেন আদালত।
অবশ্য গত দুই দিনে খোঁজ নিয়ে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ঘটনাটির সূত্রপাত পাঞ্জাবি কিনলে বিনা মূল্যে পাঞ্জাবি ও মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার ‘অফারকে’ কেন্দ্র করে।
কম দামের পাঞ্জাবি
ঢাকার ঈদবাজারে নবীন ফ্যাশন আলোচনায় এসেছে তুলনামূলক কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করে। দেশের সুপরিচিত ও বড় ব্র্যান্ডগুলোর পাঞ্জাবির দাম শুরু হয় ২ হাজার টাকা বা এর বেশি দিয়ে। বছর দুয়েক আগেও যেসব পাঞ্জাবি দুই থেকে আড়াই হাজার টাকার মধ্যে ছিল, তা এবার বিক্রি হয়েছে আড়াই থেকে সাড়ে তিন হাজার টাকা দামে।
পাঞ্জাবি তথা ঈদপোশাকের চড়া দাম পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার বিষয় ছিল।
নবীন ফ্যাশন পাঞ্জাবি বিক্রি করে তিনটি দরে—৯৯০ টাকা, ১ হাজার ৫০০ টাকা ও ৩ হাজার ৯৯০ টাকায়। তারা ফেসবুকে বিপণন বেশি করে। তাদের ফেসবুক পেজের অনুসারী ৬ লাখের বেশি।
নবীন ফ্যাশনের কর্মীরা জানিয়েছেন, এটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৮ সালে। ঢাকায় তাদের ১২টি বিক্রয়কেন্দ্র রয়েছে। এর একটি মগবাজারের বিশাল সেন্টারে, যা চালু হয় তিন বছর আগে।
২৪ মার্চ বিশাল সেন্টারে নিজের দোকানের সামনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল। তিনি ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ তোলেন।
ওই দিন রাতে চীন যাওয়ার আগে বিমানবন্দরে কয়েক ব্যক্তির সঙ্গে তোলা একটি ছবি ফেসবুকে দিয়ে এনামুল লেখেন, ‘সিংহের মতো বাঁচতে চাই। কিন্তু সিন্ডিকেটের গুলিতে সন্তানদের এতিম করতে চাই না। তাই দেশ ছেড়ে চলে যাচ্ছি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে হয়তো একদিন দেশে ফিরব ইনশাআল্লাহ।’
এনামুলের এই ফেসবুক পোস্ট ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ দেশের আইনশৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য নিয়ে নানা বক্তব্য দেন।
সমালোচনার একপর্যায়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আসে বিশাল সেন্টারের দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেনের বক্তব্য। তিনি দাবি করেন, চমকপ্রদ ‘অফার’ দেওয়া নিয়েই ঘটনার শুরু।
সরোয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার প্রথম আলোকে বলেন, নবীন ফ্যাশন ঈদের আগে পাঞ্জাবির সঙ্গে ইঞ্জিন অয়েল দেওয়াসহ কিছু চমকপ্রদ অফার দেন। সেই অফারে প্রচুর ক্রেতা জড়ো হলে মার্কেটে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। অন্য দোকানিরাও এই ঘটনার প্রতিবাদ করেন। পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে দোকানটির কর্মকর্তারাই দোকান বন্ধ করে দেন। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণেদিতভাবে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
আসলে কী হয়েছিল
চমকপ্রদ অফার দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে গিয়ে দেখা যায়, ঈদুল ফিতরের আগের দিন, অর্থাৎ ২০ মার্চ দুপুরে নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে দুটি চমকপ্রদ অফার দেওয়া হয়। একটিতে বলা হয়, ‘৯৯০ টাকার দুটি পাঞ্জাবি কিনলে চারটি পাঞ্জাবি ফ্রি (বিনা মূল্যে)। এর পাশাপাশি বৃষ্টি উপেক্ষা করে যারা মোটরসাইকেল নিয়ে আসবেন তাদের জন্য অ্যারাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল ফ্রি দেওয়া হবে। আর যারা রিকশায় আসবেন তাদের জন্য রিকশা ভাড়া দেওয়া হবে।’
আরেকটি ফেসবুক পোস্টে বলা হয়, ‘৩ হাজার ৯৯০ টাকার একটি কাবুলি পাঞ্জাবি সেট কিনলে দুটি কাবুলি পাঞ্জাবি সেট ফ্রি দেওয়া হবে।’
গতকাল দুপুরে বিশাল সেন্টারে গিয়ে নবীন ফ্যাশন খোলাই পাওয়া যায়। নবীন ফ্যাশনের বিশাল সেন্টার শাখার ব্যবস্থাপক সারোয়ার আল ফায়সাল প্রথম আলোকে বলেন, অফার দুটি দেওয়া হয়েছিল এবং ঘোষণা অনুযায়ী তাঁরা সেদিন বেশ কয়েকজন মোটরসাইকেল চালককে ইঞ্জিন অয়েল এবং কয়েকজন ক্রেতাকে রিকশা ভাড়া দেন। সেই ভিডিও তাঁরা তাঁদের ফেসবুক পেজেও শেয়ার করেন।
সারোয়ার আল ফায়সাল দাবি করেন, একপর্যায়ে মোটরসাইকেলের চালকদের ভিড় বাড়তে থাকলে বিপণিবিতানটির দোকান মালিক সমিতির নেতাদের পাশাপাশি অন্য দোকানিরা এসে ‘মব’ (দলবদ্ধ বিশৃঙ্খলা) করে তাঁদের দোকান বন্ধ করে দেন। তিনি বলেন, এ সময় পুলিশের মাধ্যমেও তাঁদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা হয়। বাধ্য হয়ে তাঁরা অফারটি বন্ধ করে দোকানের সামনের দরজা বন্ধ করে দেন।
অবশ্য বিশাল সেন্টার দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেনের দাবি, অফার দেওয়ার পর দোকানটিতে ক্রেতারা ভিড় জমাতে থাকেন। একপর্যায়ে বিপণিবিতানটির সামনে প্রায় ২০০ মোটরসাইকেল জড়ো হয়। ফলে অস্বাভাবিক যানজট তৈরি হয়। সেখানে দায়িত্বরত নিরাপত্তাপ্রহরী ও পুলিশ সদস্যরা ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছিলেন।
সরোয়ার হোসেনের ভাষ্য, পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছিল বুঝতে পেরে তখন নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে আরেকটি পোস্ট দিয়ে ইঞ্জিন অয়েল দেওয়ার অফারটি বন্ধ করা হয়। এতে উপস্থিত মোটরসাইকেলের চালকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে মারমুখী আচরণ শুরু করেন। ওই অবস্থায় পরিস্থিতি সামলাতে না পেরে নবীন ফ্যাশন কর্তৃপক্ষ নিজেই দোকানের শাটার বন্ধ করে দেন। পরিস্থিতি দেখে বিপণিবিতানের অন্য ক্রেতারা ভীত হয়ে চলে যান।
নবীন ফ্যাশনের ফেসবুক পেজে অফার বন্ধের ঘোষণায় বলা হয়েছিল, মগবাজার শাখায় বাইকারদের বিশৃঙ্খলার কারণে অ্যারাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল প্রদান করা বন্ধ ঘোষণা করা হলো।
নবীন ফ্যাশনের কর্মীরা জানিয়েছেন, অ্যারাবিয়ান ইঞ্জিন অয়েল নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুলের প্রতিষ্ঠানেরই একটি পণ্য।
এদিকে মালিক সমিতির দাবি, খবর পেয়ে সমিতির সভাপতি তৈয়ব আলী, সাধারণ সম্পাদক সরোয়ার হোসেন ও সহসভাপতি মো. মাইকেল পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে দোকানটিতে যান। তাঁরা আগে থেকে না জানিয়ে চমকপ্রদ অফার দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরির বিষয়ে জানতে চান। একপর্যায়ে নবীন ফ্যাশনের কর্তমকর্তাদের সঙ্গে তাঁদের উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় হয়। পরে তাঁরা প্রতিষ্ঠানটির মালিককে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য আসতে বলে সেখান থেকে চলে আসেন।
মালিক সমিতির নেতারা বলছেন, এ ঘটনার একটি খণ্ডিত ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে বিভ্রান্তি তৈরি করা হয়েছে।
নবীন ফ্যাশনের ফেসবুকে দেওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সমিতির নেতারা বলছেন, বিপণিবিতানটিতে মালিক সমিতি রয়েছে। নবীন ফ্যাশন কারও সঙ্গে কোনো কিছু নিয়ে আলাপ করে না, অনুমতি নেয় না, আইনকানুন মানে না। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, মালিক সমিতির নেতাদের সঙ্গে পুলিশ সদস্যরাও রয়েছেন। একজন নেতা নবীন ফ্যাশনের কর্মীদের উদ্দেশে বলছেন, ‘যে দামে আপনারা দেন, পারলে ব্যবসা না করে রাস্তায় দাঁড়িয়ে রিলিফ দিয়ে দেন।’
অন্য আরেকটি ভিডিওতে দেখা যায়, দোকান মালিক সমিতির সহসভাপতি মো. মাইকেল নবীন ফ্যাশনের সামনে থেকে একাধিক ব্যক্তিকে সরিয়ে দিচ্ছেন, যাঁরা ক্রেতা ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুল। ওই সময় পুলিশ সদস্য ও দোকান মালিক সমিতির অন্য নেতারাও সেখানে ছিলেন।
এদিকে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য প্রচারের জন্য নবীন ফ্যাশনকে দোকান মালিক সমিতির পক্ষ থেকে ২২ মার্চ কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। যদিও নবীন ফ্যাশন বলছে, তারা নোটিশ পেয়েছে বৃহস্পতিবার।
অন্য দোকানকর্মীরা যা বলছেন
বিশাল সেন্টারটি দোতলা একটি ভবন। সেখানকার দোকান সব কটি এখনো চালু হয়নি। নিচতলায় চারটি পোশাকের দোকান, তিনটি দরজির দোকান, একটি দাঁতের চিকিৎসার সরঞ্জামের দোকান, একটি ইলেকট্রনিকসের দোকান ও একটি মোবাইল অপারেটরের গ্রাহক সেবা কেন্দ্র রয়েছে।
গতকাল বিশাল সেন্টারের বেশির ভাগ দোকান বন্ধ ছিল। তবে ইলেকট্রনিসকের দোকান খোলা ছিল। পাশের একটি খাবারের দোকানও খোলা পাওয়া যায়। নবীন ফ্যাশনও খোলা।
বিপণিবিতানটির এস আর ইলেকট্রনিকসের ব্যবস্থাপক রিয়াদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রির রেষারেষিতে নবীন ফ্যাশন বন্ধ হয়নি। যাঁরা কম দামে পাঞ্জাবি কিনতে চান, তাঁরা নবীন ফ্যাশনে যান। যাঁরা বেশি দামে কেনেন, তাঁরা অন্য দোকানে যান। তিনি বলেন, সেদিন মোটরসাইকেলের চালকদের তৈরি বিশৃঙ্খলার কারণেই ঘটনার সূত্রপাত। ইঞ্জিন অয়েলের অফার দেওয়ায় অনেক ক্রেতা চলে আসছিলেন। তাঁরা নিরাপত্তাপ্রহরী ও পুলিশের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডায় জড়ান। এ কারণেই নবীন ফ্যাশন দোকান বন্ধ করে দেওয়া হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরেক দোকানমালিক বলেন, ‘নবীন ফ্যাশন তিন বছর ধরে এভাবে কম দামে পাঞ্জাবি বিক্রি করছে। কখনো তো কিছু হয়নি। এবার অস্বাভাবিক অফার দিয়ে তারা বিপুল ক্রেতাকে হাজির করে। সেটা নিয়েই ঝামেলাটি হয়।’
বিদেশ চলে যাওয়া
নবীন ফ্যাশনের মালিক এনামুলের টেলিভিশন, ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ও খুচরা যন্ত্রাংশ, ইঞ্জিন অয়েলসহ নানা ব্যবসা রয়েছে। এা শুরু করেছিলেন তাঁর বাবা। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, তিনি প্রায়ই চীনে যান। সেখানে দীর্ঘদিন থাকেন। মাঝে মাঝে বাংলাদেশে আসেন।
চীনে থাকা এনামুল গতকাল রাতে মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, চীনের শেনঝেন ও জুয়াংজুতে তাঁর ব্যবসা রয়েছে। চীনে তাঁর বাসা আছে। তাঁর পরিবারও চীনে যাওয়া-আসার মধ্যে থাকে।
হত্যার হুমকি পেয়েছিলেন কি না, জানতে চাইলে এনামুল বলেন, তিনি ফোনে হত্যার হুমকি পেয়েছেন। থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছিলেন কি না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, জিডি করেননি। কারণ, জিডি করতে তাঁকে থানায় সেই পুলিশ সদস্যদের কাছে যেতে হতো, যাঁরা জোর করে তাঁর দোকান বন্ধ করে দিয়েছেন।
ডিএমপির তদন্ত কমিটি
এ ঘটনায় পুলিশের সংশ্লিষ্টতা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। একই সঙ্গে গত বুধবার ওসি গোলাম মর্তুজা ও ঘটনাস্থলে থাকা সহকারী উপপরিদর্শক আরিফুল ইসলামকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এ–সংক্রান্ত ডিএমপির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ২০ মার্চ ওই মার্কেটের একটি দোকানে পাঞ্জাবি বিক্রির অফার নিয়ে মালিক সমিতির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দোকানের একটি অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। এ ঘটনায় কোনো পুলিশ সদস্যের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, দোকান খোলা নিশ্চিত করতে গতকাল বিশাল সেন্টারে গিয়েছিলেন হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজা (প্রত্যাহারকৃত)। তিনি সেখানে প্রথম আলোকে বলেন, সেদিন ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাপে মার্কেটের সামনের রাস্তা আটকে যায়। পুলিশ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছিল না। পরে কিছুক্ষণ দোকান বন্ধ ছিল।
গোলাম মর্তুজা বলেন, তিনি ওই দিন রাতে দোকানের মালিকের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন। দোকান খুলতে সমস্যা হলে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। দোকান মালিক সমিতির সঙ্গে বসে বিষয়টি মীমাংসা করে নেওয়ার কথাও বলেন। অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তোলা হচ্ছে।