বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ, সংঘাত ও বিভাজনের বাস্তবতায় মানুষে মানুষে সংযোগ তৈরি এবং শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন আলোচকেরা। তাঁরা বলেন, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধ সংরক্ষণের মাধ্যমে জাদুঘর কেবল অতীতকেই ধারণ করে না, বরং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সহনশীলতা ও ঐক্যের বার্তাও দেয়। তবে সমন্বয়ের অভাব ও দক্ষ জনবলের সংকটে দেশে জাদুঘরগুলো এখনো প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না।
শুক্রবার রাজধানীর আগারগাঁও মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের সেমিনার হলে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় বক্তারা এ কথাগুলো বলেন। ‘ইকোস অব টুমরো: মিউজিয়াম ফর ইউনিটি’ শীর্ষক এ আলোচনা সভার আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর ও আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ (আইকম) বাংলাদেশ।
এবার আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল ‘বিভক্ত বিশ্বের মেলবন্ধনে জাদুঘর’। দিবসটি উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইকম বাংলাদেশের চেয়ারপারসন অধ্যাপক সুফি মোস্তাফিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি ও সদস্যসচিব মফিদুল হক।
অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের তোশাখানা জাদুঘরের কিউরেটর রাশেদুল আলম প্রদীপ। আলোচনায় অংশ নেন আইকম বাংলাদেশের সদস্য ও হেরিটেজ ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেন।
সভাপতির বক্তব্যে সুফি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, বর্তমান বিশ্বে শান্তি আনতে জাদুঘর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিভক্ত বিশ্বের মেলবন্ধনের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে জাদুঘর। এটি এখন সময়েরও দাবি। কিন্তু প্রয়োজনীয় সমন্বয়ের অভাবে জাদুঘরগুলো যথাযথ ভূমিকা রাখতে পারছে না।
সুফি মোস্তাফিজুর রহমান আরও বলেন, জাদুঘরকে কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের যথাযথ পদে দায়িত্ব দিতে হবে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ দৃষ্টি দেওয়া প্রয়োজন। জাদুঘর দিবসের ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক জাদুঘর পরিষদ ১৯৭৭ সালে গঠিত হওয়ার পর ১৯৭৮ সাল থেকে আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস পালিত হয়ে আসছে। বর্তমানে বিশ্বের ১৫৮টি দেশে দিবসটি পালিত হচ্ছে।