সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ভাসমান আলোকচিত্র প্রদর্শনী
ফেলানী দিবস উপলক্ষে সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনির একক আলোকচিত্র প্রদর্শনী ‘বর্ডার দ্যাট ব্লিডস’ শুরু হয়েছে। আজ শুক্রবার রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তি–সংলগ্ন লেকে এই ভাসমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়।
২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) সদস্যরা কিশোরী ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করে। কাঁটাতারে তার মরদেহ ঝুলে ছিল প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। এক যুগের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এই হত্যাকাণ্ডের বিচার হয়নি।
আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনি ২০১২ সাল থেকে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের বিভিন্ন সীমান্ত এলাকায় হত্যা ও মানবিক বিপর্যয়ের ঘটনা নিয়ে কাজ করছেন। তাঁর তোলা ছবি থেকে বাছাই করা সাতটি ছবি দিয়ে সাজানো হয়েছে প্রদর্শনীটি। কড়াইল বস্তি–সংলগ্ন লেকের পানিতে ছবিগুলো ভাসমান ইনস্টলেশন হিসেবে প্রদর্শন করা হচ্ছে। প্রদর্শনীটি সবার জন্য উন্মুক্ত।
প্রদর্শনীর স্থান নির্বাচন নিয়ে পারভেজ আহমদ রনি প্রথম আলোকে বলেন, সীমান্তে সাধারণত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মানুষই মারা যান। মারা গেলে তাঁরা কোনো বিচার পান না। তাঁদের দুর্দশা নিয়ে কেউ ভাবে না।
পারভেজ আহমদ রনি আরও বলেন, একইভাবে ঢাকার অভিজাত গুলশান এলাকার পাশের কড়াইল বস্তির মানুষের দুর্দশা নিয়েও কেউ ভাবে না। কিছুদিন আগে আগুনে তাঁদের ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। অথচ পাশেই দেশের নীতিনির্ধারকেরা থাকেন। কিন্তু তাঁদের কথা শোনেন না।
এই আলোকচিত্রী বলেন, একটি প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষকে আরেকটি প্রান্তিক গোষ্ঠীর মানুষের কাছে তুলে ধরতেই কড়াইল বস্তি–সংলগ্ন লেকে এই প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। তিনি জানান, যত দিন ছবিগুলো নষ্ট না হবে, তত দিন এই প্রদর্শনী চলবে।
এর আগে ফেলানীর বাড়ির উঠান এবং গুলশানের বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ পার্কে এ ধরনের প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলেন বলে জানান আলোকচিত্রী পারভেজ আহমদ রনি।