দুপুরে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, মোটরসাইকেলচালকেরা ট্যাংক পরিপূর্ণ করার কথা বললে বিক্রয় প্রতিনিধিরা নোটিশ দেখিয়ে দিচ্ছেন। আর বলছেন, ৪০০ টাকার বেশি জ্বালানি তেল বিক্রি করতে পারবেন না।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সহকারী প্রকল্প পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা প্রথম আলোকে বলেন, দৈনিক মোট চাহিদার বিপরীতে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মা থেকে ৩০ ভাগ বরাদ্দ কমিয়ে দিয়েছে। এ কারণেই বিক্রি সীমিত করা হয়েছে।

বেলা পৌনে একটার দিকে ওই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নেওয়ার জন্য গাড়ি ও মোটরসাইকেলের ভিড় দেখা গেছে। পরে ১টা ১০ মিনিটের দিকে এই ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জাকির হোসেন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রচুর চাহিদার বিপরীতে কম বরাদ্দ পাওয়ার কারণে বিক্রি সমন্বয় করতেই পাম্প স্টেশন সাময়িক বন্ধ রাখা হয়েছে। দুপুরে আধা ঘণ্টার মতো স্টেশন বন্ধ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর মধ্যে ট্রাস্টে গ্রাহকের ভিড় বেশি হয়। এ প্রতিষ্ঠানের জ্বালানি তেলের মান তুলনামূলক ভালো বলেও একটা ধারণা প্রচলিত রয়েছে।

এর আগে বেলা ১১টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আসাদগেট এলাকার সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশন ও তালুকদার ফিলিং স্টেশন এবং কল্যাণপুরের সোহরাব ফিলিং স্টেশন ও খালেক ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, আগের মতোই গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি তেল বিক্রি করা হচ্ছে। ওই সব ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল বিক্রি সীমিত করার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি যমুনার পরিবেশক আসাদগেটের সোনার বাংলা ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক হিমু লাল মণ্ডল প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিক্রি সীমিত করার বিষয়ে এখনো কোনো নির্দেশনা হাতে পাইনি। বরাদ্দ কম দেওয়া হবে, এমন আলোচনা মুখে মুখে শুনছি। কিন্তু আমাদের এই স্টেশন থেকে প্রায় ৪০টি সরকারি প্রতিষ্ঠানের যানবাহনে জ্বালানি তেল দেওয়া হয়। বরাদ্দ কমিয়ে দিয়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সেবা দেওয়া যাবে না।’

হিমু লাল মণ্ডল আরও বলেন, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৩০ হাজার লিটার ডিজেল ও অকটেন লাগে। লোডশেডিংয়ের কারণে আগের চেয়ে ২৫ ভাগ ডিজেলের বিক্রি বেড়েছে। তবে অকটেনের চাহিদা আগের মতোই রয়েছে।

এই ফিলিং স্টেশনের উল্টো দিকে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মার পরিবেশক তালুকদার ফিলিং স্টেশন। এখানেও আগের মতোই জ্বালানি তেল বিক্রি করতে দেখা গেছে।
ফিলিং স্টেশনটির হিসাবরক্ষক বিমল কৃষ্ণ মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, দৈনিক প্রায় ৪০ হাজার লিটার অকটেন ও সাড়ে ৬ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। কিন্তু অকটেন ২৮ হাজার লিটার এবং ডিজেল ৪ হাজার লিটারে সীমিত করে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। এর পরেও আগের কিছু জ্বালানি তেল মজুত থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক এখনো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে।

বিমল কৃষ্ণ মৃধা আরও বলেন, এভাবে বরাদ্দ কমিয়ে তেল সরবরাহ করা অব্যাহত থাকলে গ্রাহকদের চাহিদা মোতাবেক জ্বালানি তেল বিক্রি করা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে দৈনিক অন্তত ১ হাজার লিটার ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে বলেও তিনি জানান। ফিলিং স্টেশন ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার বিপরীতে ১২ ঘণ্টা খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলেও জানান তিনি।

পরিকল্পিত লোডশেডিং শুরুর পর গত এক সপ্তাহে ডিজেল বিক্রি বেড়েছে। জ্বালানি তেল পরিবেশকেরা (ডিলার) বলছেন, ডিজেল জেনারেটরের ব্যবহার বাড়তে থাকায় চাহিদা বেড়েছে। সংকটের ভয়ে কেউ কেউ বাসায় মজুত করছেন। কেউ কেউ গাড়িতেও বেশি নিচ্ছেন। এখন এই বাড়তি চাহিদা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে জ্বালানি তেল সরবরাহকারী কোম্পানিগুলো।

সরকার অনুমোদিত পরিবেশকদের নিয়মিত জ্বালানি তেল সরবরাহ করে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) অধীনে থাকা তিন রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা। এ জ্বালানি তেল কিনে নিয়ে পরিবেশকেরা নিজস্ব পেট্রলপাম্প থেকে ডিজেল, পেট্রল ও অকটেন বিক্রি করে গ্রাহকের কাছে।

পেট্রলপাম্প ব্যবসায়ীদের দাবি, এক সপ্তাহে ডিজেলের চাহিদা বেড়েছে প্রায় ২০ শতাংশ। আর অকটেন ও পেট্রলের চাহিদা বেড়েছে ১০ শতাংশ। তাই তাঁরা বেশি হারে জ্বালানি তেলের চাহিদা দিচ্ছেন। তবে চাহিদা অনুসারে জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হবে না বলে গতকাল সোমবার কোম্পানিগুলোর পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। সপ্তাহে ৫০ হাজার লিটারের চাহিদা থাকলে ৩৫ হাজারের বেশি দেওয়া হবে না।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন