এর আগে নাদিয়া সুলতানার সহপাঠীরা নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন। এক পর্যায়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিক্ষোভ করতে করতে কাওলা মোড়ে এসে সড়ক অবরোধ করেন। তবে কাওলা মোড়ে অবরোধ করে রাখলেও বিদেশগামী যাত্রী ও রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সকে রাস্তার পাশ দিয়ে যেতে দেন শিক্ষার্থী। তারা যানবাহনের লাইসেন্স দেখে দেখে গাড়ি ছাড়েন। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকার কারণে একটি যাত্রী বাস আটকে রেখে পুলিশকে দিয়ে মামলা করায় শিক্ষার্থীরা। পরে বেলা সোয়া ১টার দিকে সড়ক ছেড়ে দেন শিক্ষার্থীরা।

এর আগে রাজধানীতে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাদিয়া সুলতানাকে চাপা দেওয়া বাসের চালক ও তাঁর সহকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার সকাল সাড়ে আটটার দিকে রাজধানীর মিরপুরের শাহ আলী এলাকা থেকে দুজনকে গ্রেপ্তার করে ভাটারা থানার পুলিশ। ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উপকমিশনার আবদুল আহাদ প্রথম আলোকে এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

গতকাল রোববার ক্লাস না থাকায় এক বন্ধুর সঙ্গে তাঁর মোটরসাইকেলে করে বই কিনতে উত্তরার বাসা থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় যাচ্ছিলেন নাদিয়া (১৯)। কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায় তাঁদের মোটরসাইকেলটিকে ধাক্কা দেয় ভিক্টর ক্ল্যাসিক পরিবহনের একটি বাস। এতে তাঁরা রাস্তায় ছিটকে পড়েন।

বাসটি নাদিয়াকে চাপা দিলে ঘটনাস্থলেই তিনি নিহত হন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন নাদিয়ার বন্ধু মোটরসাইকেলচালক মেহেদি। তবে তাঁর আঘাত গুরুতর নয় বলে জানা গেছে।

নাদিয়া নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায়। তিন বোনের মধ্যে সবার বড় নাদিয়া। তাঁর বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন একটি পোশাক কারখানায় সহকারী মহাব্যবস্থাপক পদে চাকরি করেন।

নাদিয়ার বাবা জাহাঙ্গীর হোসেন গতকাল প্রথম আলোকে বলেছিলেন, তাঁর মেয়ের স্বপ্ন ছিল বড় ফার্মাসিস্ট হবে। কিন্তু সব শেষ হয়ে গেল।