‘উল্লুক অনেক ডাকাডাকি করেছে, খেলাও দেখিয়েছে’

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীদের বেশ ভিড় দেখা যায়ছবি: প্রদীপ সরকার

মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানার ভেতরে উটপাখির খাঁচার সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন মো. শামীম। বেষ্টনীর কাছে আসা একটি উটপাখি দেখছিলেন তিনি। সঙ্গে ছিলেন তাঁর স্ত্রী ও ছেলে।

শামীম বললেন, তিনি অনেকবার জাতীয় চিড়িয়াখানায় এসেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে ছেলে চিড়িয়াখানার আসার জন্য বারবার বলছে। ছেলের আবদারের কারণে গাজীপুর থেকে আজ আবার স্ত্রী ও ছেলেকে নিয়ে জাতীয় চিড়িয়াখানায় এলেন।

পবিত্র ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনে রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় শামীমের মতো অনেক দর্শনার্থী ভিড় জমিয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে এ চিত্র দেখা যায়।

ঢাকার স্থানীয় বাসিন্দা এবং ঈদের সময়ও ঢাকায় থেকে যাওয়া মানুষজন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এ ছাড়া ঢাকার আশপাশের জেলার মানুষও আজ এসেছেন। দর্শনার্থীদের বড় অংশই শিশু-কিশোর। সন্তানদের পশুপাখি দেখানোর জন্য এসেছেন অনেক অভিভাবক।

শামীমের ছেলে মো. আসাদুল ইসলাম (১২) মাদ্রাসাশিক্ষার্থী। আসাদুল বলে, সে এর আগে একবার এসেছিল। তখন তার ভালো লেগেছিল। এ কারণে আবার সে এল। এবার তার বেশি ভালো লেগেছে উল্লুক।

বাবা শামীম বলেন, আজ উল্লুক অনেক ডাকাডাকি করেছে। আবার খেলাও দেখিয়েছে। সে কারণে তাঁর ছেলের উল্লুক ভালো লেগেছে।

চিড়িয়াখানায় আজ পশু–পাখির সব খাঁচার সামনেই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল
ছবি: প্রথম আলো

দেখা যায়, পশু–পাখির সব খাঁচার সামনেই দর্শনার্থীদের ভিড়। জিরাফের খাঁচার সামনে কথা হয় মো. শাহাদাত হোসেনের সঙ্গে। রাজধানীর লালবাগ এলাকা থেকে স্ত্রী, এক মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে তিনি ঘুরতে এসেছেন।

শাহাদাত হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, বাচ্চারা পশুপাখি দেখতে চায়, মূলত এ কারণে আসা। তাঁর মেয়ে জান্নাত প্রথম আলোকে বলে, সে হাতি, জিরাফ, বানর, বাঘ, জলহস্তীসহ অনেক পশুপাখি দেখেছে। তার বেশি ভালো লেগেছে বানর।

জাতীয় চিড়িয়াখানার ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে চিড়িয়াখানায় ১৩৫ প্রজাতির ৩ হাজার ৩৪২টি প্রাণী ও অ্যাকুয়ারিয়াম ফিশ প্রদর্শিত হচ্ছে।