প্রকৌশলী আসিফের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি

প্রকৌশলী আসিফ করিম হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন করা হয়
ছবি: আশিকুজ্জামান

গাজীপুরের জয়দেবপুরে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী প্রকৌশলী আসিফ করিমের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের দাবিতে দুই সপ্তাহের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়।

আসিফ করিম হত্যার প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই এসব কথা বলেন আয়োজকেরা। ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্ট (আইটিইটি) ও ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশের (আইইবি) টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিভিশন এ আয়োজন করে।

এতে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরাও অংশ নেন।

প্রকৌশলী আসিফ গত ২৬ জুন গাজীপুরে নিজ কর্মস্থলে যাওয়ার পথে দুষ্কৃতকারীদের হামলায় গুরুতর আহত হন। পরে ৩০ জুন চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শাহ্ আলিমুজ্জামান বলেন, একজন শিক্ষার্থীর পেছনে রাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ করেছে, আর সেই শিক্ষার্থীর যখন দেওয়ার পালা, তখন তাঁকে হত্যা করা হলো। তিনি আরও বলেন, ‘সন্ত্রাসীরা আমাদের শিক্ষার্থীকে হত্যা করেছে। কুচক্রী মহল যারা চায় না বাংলাদেশে বস্ত্রশিল্প ওপরে উঠুক, পরিকল্পনা করে তারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।’

সংবাদ সম্মেলনে দ্য ইনস্টিটিউট অব টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড টেকনোলজিস্টের (আইটিইটি) সভাপতি সফিকুর রহমান বলেন, দেশে প্রকৌশলীরা এখন আর নিরাপদ নন—একটি মহল এমন বার্তা ছড়িয়ে দিতে চাইছে। এর অংশ হিসেবে আসিফকে হত্যা করা হয়েছে।

কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকৌশলী আসিফ করিম হত্যা মামলায় অভিযুক্ত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। তা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরে নিজ বাসায় ইন্টারনেটের সংযোগ নিয়ে স্থানীয় একটি সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সঙ্গে কথা–কাটাকাটি হয় আসিফের। পরে ওই প্রতিষ্ঠানের কয়েকজন কর্মী তাঁর ওপর হামলা করেন। গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তাঁর। এ ঘটনায় মামলা করা হলেও চারজন আসামির মধ্যে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এতে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের বস্ত্র প্রকৌশলীদের মধ্যে।

সংবাদ সম্মেলনে বিভিন্ন বস্ত্র প্রকৌশল সংগঠনের নেতা এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন ও বর্তমান শিক্ষার্থীরা  বক্তব্য দেন।