ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহারের দাবি সিপিজের
সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ প্রত্যাহার করে অবিলম্বে তাঁদের মুক্তি দেওয়ার দাবি জানিয়েছে কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে)। সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার নিউইয়র্কভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংগঠনটি আজ সোমবার এক বিবৃতিতে এ দাবি জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) প্রসিকিউটররা সোমবার একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ২০১৩ সালের মে মাসে রাজধানীর শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে দমন-পীড়নের ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত এ মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ অপর ৩৯ জনের সঙ্গে এই দুই সাংবাদিকের নাম রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দিনের ঘটনায় ৫৮ জন নিহত হন।
ফারজানা রুপা একাত্তর টেলিভিশনের সাবেক প্রধান প্রতিবেদক ও উপস্থাপক। আর মোজাম্মেল বাবু চ্যানেলটির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রধান সম্পাদক। গত ১৪ মে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তাঁদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানান, বাবুর নির্দেশনায় রুপা একাত্তর টেলিভিশনের জন্য শাপলা চত্বরের ওই ঘটনা নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র তৈরি করেছিলেন। তাতে শাপলা চত্বরে কেউ মারা যাননি বলে মিথ্যা দাবি করা হয়েছিল।
সিপিজের এশিয়া-প্যাসিফিক কর্মসূচির সমন্বয়ক কুনাল মজুমদার বলেন, ‘নিজেদের কাজ করার জন্য সাংবাদিক ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা একেবারেই অগ্রহণযোগ্য। কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই এসব অভিযোগ প্রত্যাহার করতে হবে এবং সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে দলীয় রাজনৈতিক প্রতিহিংসার চক্র ভেঙে ফেলতে হবে।’
বিবৃতিতে সিপিজে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, দোষী সাব্যস্ত হলে ফারজানা রুপা ও মোজাম্মেল বাবুর মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। কারণ, এই ট্রাইব্যুনালের সুনির্দিষ্ট অপরাধের জন্য সাজা দেওয়ার কোনো পাইপলাইন নেই।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত পৃথক হত্যা মামলায় ওই বছর আগস্ট থেকে এই দুই সাংবাদিক কারাগারে আছেন। এসব মামলায় হাইকোর্ট তাঁদের জামিন দিলেও আপিল বিভাগ তা স্থগিত করেন। এমনকি ওই স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হলেও আইসিটির মামলার কারণে কর্তৃপক্ষ তাঁদের কারাগারে আটকে রাখতে পারবে।
সিপিজে বলেছে, এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য তাদের পক্ষ থেকে ই–মেইলে অনুরোধ জানানো হলেও বাংলাদেশের আইন মন্ত্রণালয় ও চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয় থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।