তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা, না পেয়ে ক্ষোভ

‘তেল না থাকার’ কথা নোটিশে লিখে রাজধানীর একটি পাম্প বন্ধ রাখা হয়েছে। মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

পাম্পের বাইরে তেলের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও প্রাইভেট কারের চালকেরা। কিন্তু পাম্পগুলো থেকে বলা হচ্ছে, তেল নেই।

আজ রোববার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত রাজধানীর বেশ কয়টি পাম্প ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করে। ইরানও পাল্টা জবাব দিচ্ছে। যুদ্ধের কারণে তেল ও গ্যাসের উৎপাদন বিঘ্নিত হচ্ছে, সরবরাহ কঠিন হয়ে পড়ছে, দাম বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশে শুরু হয়েছে আতঙ্কের কেনাকাটা, যেখানে মানুষ দীর্ঘ লাইন ধরে বেশি বেশি জ্বালানি তেল কিনছেন। এতে হঠাৎ চাহিদা বেড়ে গেছে, যা সরকারের মজুত কমিয়ে দিচ্ছে।

রাজারবাগ ফিলিং স্টেশনে সকাল সাড়ে ১০টার সময় দেখা যায়, সরকারি কিছু গাড়ি ছাড়া অন্য কোনো গাড়িতে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

পাম্পটির বাইরে মোটরসাইকেল নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকা কয়েকজনকে এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়।

কয়েকটি পাম্প ঘুরে এসে তেল পাননি বলে এখানে অভিযোগ করেন মো. শাহনুর নামের এক চালক। তিনি বলেন, ‘আমাদের বলেছে, বেলা দুইটার আগে তেল দেওয়া যাবে না। অথচ এখন ঠিকই সরকারি লোকদের তেল দিচ্ছে। কিন্তু আমাদের সাধারণ জনগণকে দেয়নি। আমরা কি এ দেশে ভাড়াটিয়া?...কেন আমাদের তেল দেবে না?’

রাজারবাগ পাম্পের কোষাধ্যক্ষ (ক্যাশিয়ার) রিয়াজ উদ্দিন বলেন, ‘ডিপো থেকে এখনো তেল আসেনি। আগে আমাদের কিছু তেল ছিল। আমরা সেগুলো পুলিশ, প্রশাসন ও জরুরি যানবাহনে অল্প অল্প করে দিচ্ছি। ডিপো থেকে তেল আসা ছাড়া সবাইকে তেল দিতে পারব না।’

রাজধানীর একটি পাম্প থেকে তেল নিতে মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির দীর্ঘ সারি।মোহাম্মদপুর, ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো

বেলা ১১টার দিকে দৈনিক বাংলা মোড়ে অবস্থিত বিনিময় ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, কয়েকটি গাড়িতে পেট্রল দেওয়া হচ্ছে। কোনো বাইকে তেল দেওয়া হচ্ছে না।

এই পাম্পের ব্যবস্থাপক জিয়াউর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, ডিপো থেকে তেল আনতে গেছে গাড়ি। তেল এলে তাঁরা সবার কাছে তা বিক্রি করতে পারবেন।

মতিঝিলের কারিম অ্যান্ড সন্স ফিলিং স্টেশনে বেলা একটার সময় দেখা যায়, কোনো তেল বিক্রি হচ্ছে না। সামনে একটি বোর্ডে লেখা—‘অকটেন, ডিজেল নেই।’

এই পাম্পের মালিক আবদুস সালাম বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ডিপো থেকে আসা রিজার্ভের সব তেল বিক্রি করে শেষ করে ফেলেছি। এখন পাম্পে কোনো তেল নেই। আর এখন পর্যন্ত ডিপো থেকে পাম্পে তেল আসেনি। গাড়ি পাঠিয়েছি, কিন্তু বলা হচ্ছে, সেখানেও লম্বা সিরিয়াল। এখন ডিপো থেকে তেল আসার পর বিক্রি করতে পারব।’

আগে ডিপো থেকে প্রতিদিন পাম্পে ৩০ হাজার লিটার তেল আসত বলে জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘আজকে মাত্র আড়াই হাজার লিটার তেল আসবে। এই তেল আসার পর কাকে কী দেব, জানি না। গতকাল (শনিবার) তেল শেষ হয়ে যাওয়ার পর চালকদের সঙ্গে আমার কর্মচারীদের হাতাহাতি হয়েছে। আজ পরিস্থিতি কোথায় গিয়ে দাঁড়ায় কে জানে।’

এই পাম্পের সামনে বেলা ১১টা থেকে তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন পাঠাও চালক দেলোয়ার হোসেন। ক্ষোভ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার বলেছে, ৪০ দিনের রিজার্ভ তেল রয়েছে। ৪০ দিনের রিজার্ভের তেল কি দুই দিনেই শেষ? আমরা কেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও তেল পাচ্ছি না? তাহলে বোঝাই যাচ্ছে, এই যুদ্ধটা যদি আরেকটু দীর্ঘস্থায়ী হয়, বাংলাদেশে একবারে টোটালি তেল পাওয়া যাবে না।’