‘শুধু বৃষ্টি কেন, তুফান হলেও তেল নিতে হবে’
পড়ন্ত বিকেলে রাজধানীতে নেমেছে ঝোড়ো বৃষ্টি। সেই বৃষ্টি উপেক্ষা করেই জ্বালানি তেলের জন্য ফিলিং স্টেশনগুলোতে সারিবদ্ধ হয়ে অপেক্ষা করছিলেন মোটরসাইকেল ও ব্যক্তিগত গাড়ির চালকেরা। তাঁরা বলছেন, ঝড়বৃষ্টি যা–ই হোক না কেন, তেল নিতেই হবে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, আগের চেয়ে অপেক্ষার সময় অনেকটাই কমেছে।
আজ রোববার বিকেলে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে অবস্থিত রমনা ফিলিং স্টেশনে দেখা যায়, বৃষ্টিতে ভিজেই তেলের জন্য দাঁড়িয়ে আছেন মোটরসাইকেলচালকেরা। তাঁদেরই একজন রোহিত দাস। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘শুধু বৃষ্টি কেন, তুফান হলেও তেল নিতে হবে।’
রোহিত আরও বলেন, ‘তেলের এই সংকট না থাকলে এত চিন্তা করা লাগত না, পরে নিলেও হতো। এখন সে উপায় নেই। ঝড়বৃষ্টি যা–ই হোক না কেন, তেল নিয়ে তারপর বাসায় যেতে হবে।’
হাইকোর্টে চাকরি করেন জানিয়ে রোহিত বলেন, প্রতিদিন কেরানীগঞ্জের বাসা থেকে তাঁকে হাইকোর্টে যাতায়াত করতে হয়। মাঝপথে তেল শেষ হয়ে গেলে চরম বিপাকে পড়তে হবে, তাই এখান থেকেই নিয়ে যাচ্ছেন। তবে তেলের জন্য ভোগান্তি আগের চেয়ে অনেকটা কমে এসেছে বলে জানান তিনি।
ভোগান্তি কমার বিষয়টি উল্লেখ করেন ফরিদুল ইসলাম নামের আরেক চালক। তিনি জানান, আগে তেল নিতে অনেক সময় লাগলেও এখন তা অর্ধেকে নেমে এসেছে। কম সময়ে তেল নিতে পারছেন তাঁরা। প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে যথাযথ তেল সরবরাহ করা হলে ভোগান্তি পুরোপুরি দূর হবে বলে আশাবাদী তিনি।
বিকেল চারটার সময় রমনা ফিলিং স্টেশনে ৭৫টি মোটরসাইকেল ও ৮টি ব্যক্তিগত গাড়িকে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে দেখা যায়।
এরপর বিকেল পাঁচটার দিকে রাজধানীর পরীবাগে অবস্থিত ব্যস্ততম ফিলিং স্টেশন মেঘনা মডেল সার্ভিসিং সেন্টারে গিয়ে তেলের জন্য অপেক্ষার সারি অনেকটা ছোট দেখা যায়। সেখানে মাত্র ৪৫টি মোটরসাইকেল ও ১০টি ব্যক্তিগত গাড়ি তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল। অথচ কয়েক দিন আগেও এই ফিলিং স্টেশনে শত শত গাড়ি ও মোটরসাইকেলকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
এই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য লাইনে দাঁড়ানো মোটরসাইকেলচালক ইব্রাহিম রাজ প্রথম আলোকে জানান, ৪৫ মিনিট ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এর মধ্যেই বৃষ্টি নামে। কিন্তু বৃষ্টি উপেক্ষা করে মোটরসাইকেল ঠেলে ফিলিং স্টেশনের দিকে এগোতে হয় তাঁকে।
ইব্রাহিম রাজ বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে বাইকটিকে টেনে আনতে একটু কষ্ট হয়েছে, কিন্তু কিছু তো করার নেই। তেল যেহেতু লাগবে, তাই একটু কষ্ট হলেও নিতে হবে। তবে স্বস্তির বিষয় হচ্ছে, আগের চেয়ে সময় কম লাগছে। আগে যেখানে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকা লাগত, এখন এক ঘণ্টার মধ্যেই তেল পেয়ে যাচ্ছি।’
একই ফিলিং স্টেশনে তেলের জন্য অপেক্ষা করছিলেন ব্যক্তিগত গাড়ির চালক মো. শহীদুল্লাহ। তাঁর কথাও একই রকম। তিনি বলেন, এখন আগের মতো ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা আর দাঁড়িয়ে থাকতে হয় না। অল্প সময়ের ভেতরেই তেল নেওয়া যাচ্ছে।