উত্তরায় শপিং কমপ্লেক্সে ভাঙচুরের ঘটনায় ১১ জন রিমান্ডে

গতকাল রোববার রাত ১১টার দিকে উত্তরা ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ সড়কে অবস্থিত স্কয়ার শপিং মলে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ঢাকা। ১৬ মার্চছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর উত্তরায় ‘উত্তরা স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্সে’ হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিপণিবিতান কর্তৃপক্ষের করা মামলায় ১১ আসামির দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

পুলিশের রিমান্ড আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আজ মঙ্গলবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন এ আদেশ দেন।

ঢাকা মহানগর পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক শামীম বলেন, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উত্তরা পশ্চিম থানার উপপরিদর্শক মো. সুমন মিয়া আসামিদের আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। আসামিদের পক্ষে আইনজীবীরা রিমান্ড বাতিল চেয়ে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া আসামিরা হলেন মো. মনির আলম (৩২), মো. মজিবর রহমান (২০), মো. হৃদয় (১৯), মো. মঞ্জুরুল (৩২), মো. মহব্বত আলী (১৮), শাহ পরান (১৯), মো. শাকিল (১৯), মো. রশিদুল ইসলাম ওরফে রশিদ (২৭), মো. সাজু (২৪), মো. লিটন (২৪) ও জিহাদ (১৯)।

রিমান্ড আবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার মূল হোতা ও উসকানিদাতাদের শনাক্ত করাসহ লুণ্ঠিত ১৫ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার এবং এ ঘটনায় জড়িত অজ্ঞাতনামা অন্যদের গ্রেপ্তারের স্বার্থে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড প্রয়োজন। ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার সন্দেহে গতকাল সোমবার পুলিশ তাঁদের গ্রেপ্তার করে।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টায় উত্তরা পশ্চিম থানাধীন ১৩ নম্বর সেক্টরের সোনারগাঁও জনপথ রোডে ‘স্কয়ার শপিং কাম কমার্শিয়াল কমপ্লেক্স’–এর সামনে এক রিকশাচালকের সঙ্গে দায়িত্বরত এক নিরাপত্তারক্ষীর বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে রিকশাচালক ও তাঁর সঙ্গে থাকা আরও ১৫–২০ অজ্ঞাতনামা রিকশাচালক মিলে ওই নিরাপত্তারক্ষীর ওপর চড়াও হন। তখন শপিং কমপ্লেক্সের অন্য নিরাপত্তারক্ষীরা তাঁকে উদ্ধারে এগিয়ে গেলে রিকশাচালকেরা তাঁদের ওপর চড়াও হন। তাঁদের এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করেন। পরবর্তী সময় এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন গুজব ছড়িয়ে ৬০০–৭০০ উত্তেজিত লোক লাঠিসোঁটা ও রড নিয়ে শপিং কমপ্লেক্সে হামলা চালান। হামলাকারীরা কমপ্লেক্সের নিচতলা ও দোতলার গ্লাস ভাঙচুর করেন। এ সময় সুযোগ বুঝে আসামিরা শপিং কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত ‘খাজানা ভ্যারাইটিজ স্টোর’ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল ও ‘কেজেড মিটেশন জুয়েলারি’ দোকান থেকে পাঁচ লাখ টাকার গয়না লুট করে নিয়ে যান। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে উত্তেজিত জনতা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ওপরও ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন এবং রাস্তায় আগুন ধরিয়ে দেন। এতে কমপ্লেক্সের প্রায় ৯ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। দীর্ঘ সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ও কাঁদানে গ্যাসের শেল নিক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ঘটনাস্থল থেকে ১১ জনকে গ্রেপ্তার করে।

শপিং কমপ্লেক্সটিতে ভাঙচুরের ঘটনায় গতকাল কমপ্লেক্সটির ইলেকট্রিশিয়ান আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে উত্তরা পশ্চিম থানায় মামলা করেন।