মিরপুরে দেয়ালধসের ঘটনায় আরও একজনের মৃত্যু

ধসে পড়া মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সীমানা প্রাচীরের অংশ বিশেষ। ২৮ জুলাইছবি: তানভীর আহাম্মেদ

রাজধানীর মিরপুরে সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ–টিসিবির সাশ্রয়ী মূল্যের পণ্য কিনতে এসে দেয়ালধসের ঘটনায় বিউটি বেগম (৫০) নামের আরও একজনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এ ঘটনায় তিনজনের মৃত্যু হলো। দেয়ালধসের ঘটনায় আহত আরও সাতজন বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিউটি বেগমের মৃত্যু হয়। মিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে বেলা দেড়টার দিকে মিরপুর বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের পেছনে দেয়াল ধসের ঘটনা ঘটে। এ সময় অন্যান্য দিনের মতো সেখানে অনেক মানুষ টিসিবির পণ্য কিনতে সারিতে দাঁড়িয়ে ছিলেন।

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, দেয়াল ধসের ঘটনায় বিউটি বেগম গুরুতর আহত হয়েছিলেন। তাঁকে উদ্ধার করে পঙ্গু হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। সাশ্রয়ী মূল্যে টিসিবির পণ্য কিনতে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি।

হাফিজুর রহমান আরও বলেন, বিউটি বেগম ঘটনাস্থলের পাশেই একটি ভাড়া বাসায় থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায়।

পুলিশ জানায়, দেয়ালধসের ঘটনায় মারা যাওয়া অপর দুজন হলেন নাসিমা বেগম (৪৪) ও মো ফিরোজ (৪৩)। নাসিমা বেগম রাজধানীর মিরপুরে ইউসেপ টেকনিক্যাল স্কুলে পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন; আর ফিরোজ মিরপুরের শাহ আলীবাগ এলাকায় থাকতেন।

ঘটনাস্থল নিরাপত্তা বেষ্টনী দিয়ে ঘিরে রেখেছে পুলিশ। ২৮ জুলাই
ছবি: প্রথম আলো

মিরপুর থানা–পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কলেজের পেছনের ওই দেয়াল ঘেঁষে প্রতিদিনই ট্রাকে করে টিসিবির পণ্য বিক্রি হয়। কিছুটা কম দামে নিত্যপণ্য সংগ্রহ করতে নিম্ন আয়ের মানুষেরা সেখানে ভিড় করেন। প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবারও অনেক মানুষ পণ্য সংগ্রহের সাারিতে দাঁড়িয়েছিলেন।

দুপুরের দিকে হঠাৎই দেয়ালটি সারিতে দাঁড়ানো মানুষের ওপর ধসে পড়ে। এতে কয়েকজন দেয়ালচাপা পড়েন। দুজনের মুখ ও পা থেঁতলে যায়। সেখানে থাকা লোকজন ভাঙা দেয়াল সরিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে। পরে তাঁদের রাজধানীর বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।

আরও পড়ুন

ঢাকা মেডিকেল সূত্রে জানা গেছে, এ ঘটনায় আহত তিনজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাঁরা হলেন রাজিয়া বেগম (৫৫), মনোয়ারা বেগম (৩৭) ও মোশাররফ হোসেন (১৯)। তাঁদের মধ্যে রাজিয়া বেগম ডান পায়ে, মনোয়ারা বেগম হাতে ও বুকে এবং মোশাররফ হোসেন পায়ে আঘাত পেয়েছেন।

আহত রাজিয়া বেগমের মেয়ে মাহফুজা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তাঁর মা সকালে মিরপুর ৬ নম্বর এলাকার বাজারে যাবেন বলে বাসা থেকে বেরিয়েছিলেন। পথে টিসিবির গাড়ি দেখতে পেয়ে সেখানে গিয়েছিলেন; হঠাৎ দেয়াল ধসে পড়লে আহত হন।

আরও পড়ুন