উত্তরের দুই ট্রেন দেরিতে ছাড়ল, আন্তনগরে আজ থেকে নারীদের জন্য বিশেষ বগি
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে ট্রেনে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিনে আজ সোমবার ঢাকা ছাড়ছেন মানুষ। ১৫ মে যাঁরা অনলাইনে ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন, আজ তাঁরা বাড়ি ফিরছেন।
আজ কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা যায়। এর মধ্যে দুটি ট্রেন নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে দেরিতে ছেড়ে গেছে। এতে অনেকে ভোগান্তিতে পড়েন।
আন্তনগর ট্রেনে আজ থেকে নারীদের জন্য বিশেষ বগি চালু করা হয়েছে। দূরপাল্লার ঢাকা-সিলেট রুটের ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেনে এই সেবা চালু হয়েছে। এটি ঈদের পরও চলবে বলে জানিয়েছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন।
কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, দুপুর পর্যন্ত দুটি আন্তনগর ট্রেন দেরিতে ছেড়েছে। নীলসাগর এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। আর রংপুর এক্সপ্রেস ১ ঘণ্টা ৪০ মিনিট দেরিতে ছেড়েছে। দুটি ট্রেনই উত্তরবঙ্গের।
রাজধানীর ধানমন্ডি থেকে এসেছিলেন হাফিজুর রহমান। তিনি রংপুরে যাবেন। ১৫ মে অনলাইনে টিকিট কেটেছিলেন। আজ সকালে স্টেশনে এসে তাঁকে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা করতে হয়েছে। ক্ষোভ প্রকাশ করে হাফিজুর বলেন, ‘সব সময় উত্তরবঙ্গের ট্রেনই দেরি করে। অন্য ট্রেন ঠিক সময়ে যায়। উত্তরবঙ্গে কেন এমন হয়, আমরা জানি না। প্রতি ঈদে এই একই ভোগান্তি।’
কমলাপুর স্টেশন থেকে দুটি ট্রেন বাদে বাকি সব ট্রেন ঠিক সময়ে ছেড়ে গেছে। স্টেশনের ম্যানেজার জানান, দুপুর পর্যন্ত ১৩টি আন্তনগর এবং ৯টি কমিউটার ট্রেন সঠিক সময়ে ঢাকা ছেড়েছে। আজ সারা দিনে কমলাপুর থেকে মোট ৬৭টি ট্রেন ছেড়ে যাবে। এর মধ্যে ৪৩টি আন্তনগর, ২৩টি কমিউটার এবং ১টি ঈদ স্পেশাল ট্রেন রয়েছে।
এবার টিকিট ছাড়া কাউকে ভেতরে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে টিকিটের নাম মিলিয়ে দেখা হচ্ছে। মিল না থাকলে স্টেশন থেকে বের করে দেওয়া হচ্ছে বলেও জানান স্টেশন ম্যানেজার।
ট্রেনের ছাদে কোনো যাত্রী দেখা যায়নি। সামনে পোশাক কারখানা ছুটি হলে এই নিয়ম ধরে রাখা যাবে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. কবীর উদ্দীন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা কঠোরভাবে শৃঙ্খলা ধরে রাখার চেষ্টা করছি। আশা করছি, শেষ পর্যন্ত সবকিছু ঠিকঠাক থাকবে।’
৫১টি বাড়তি বগি, প্রতিদিন যাচ্ছেন ৬৫ হাজার যাত্রী
রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক করতে বিভিন্ন গন্তব্যের ট্রেনে নতুন ৫১টি বগি যুক্ত করা হয়েছে। এর ফলে প্রতিদিন বাড়তি ৪০ হাজার মানুষ বাড়িতে যেতে পারছেন।
বর্তমানে প্রতিদিন ৪৫ হাজারের বেশি আসনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া যাত্রার ২ ঘণ্টা আগে ২৫ শতাংশ স্ট্যান্ডিং টিকিট দেওয়া হচ্ছে। সব মিলিয়ে প্রতিদিন ৬০ থেকে ৬৫ হাজার যাত্রী কমলাপুর স্টেশন ছেড়ে যাচ্ছেন।
নারীদের জন্য বিশেষ বগি
আজ কমলাপুর স্টেশন পরিদর্শনে আসেন রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। তিনি জানান, আন্তনগর ট্রেনে নারীদের জন্য বিশেষ বগি চালু হয়েছে। আজ থেকে দূরপাল্লার ঢাকা-সিলেট রুটের ‘জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস’ ট্রেন দিয়ে এই সেবা শুরু হলো। এটি শুধু ঈদের জন্য নয়, ঈদের পরও চালু থাকবে বলে জানান এই কর্মকর্তা।
মহাপরিচালক বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা ছিল নারীদের যাত্রা নিরাপদ করার। তাই এই ব্যবস্থা। নারী ও শিশুরা এখন নির্ভয়ে ভ্রমণ করতে পারবেন। পর্যায়ক্রমে অন্য রুটেও এমন বগি যুক্ত করা হবে।
কিছু ট্রেন দেরি হওয়ার বিষয়ে মহাপরিচালক বলেন, ঈদের সময় যাত্রী বেশি থাকে। স্টেশনে তাদের নামতে ও উঠতে সময় বেশি লাগে। অনেকে শেষ মুহূর্তে দৌড়ে ট্রেনে ওঠেন। তাই চালকদের একটু বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়। এ ছাড়া এখন ঝড়বৃষ্টির দিন। লাইনে গাছ পড়ে অনেক সময় দেরি হয়।