এবার ঈদের প্রথম তিন দিনে চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থী কম
রাজধানীর মিরপুরের জাতীয় চিড়িয়াখানায় সাধারণত ঈদুল আজহার পরের দুই দিন দর্শনার্থীর ঢল নামে। তবে এবার তা হয়নি। বৃষ্টির কারণে ঈদের দিন ও পরের দুই দিন দর্শনার্থী কম ছিল। তবে গতকাল রোববার ও আজ পঞ্চম দিনে দর্শনার্থী বেড়েছে।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বলছে, বৃষ্টির কারণে ঈদের প্রথম তিন দিন দর্শনার্থী কম ছিল। তবে বৃষ্টি কিছুটা কমায় এবং মানুষ গ্রাম থেকে ঢাকায় আসতে শুরু করায় ঈদের চতুর্থ দিন ও আজ পঞ্চম দিন দর্শনার্থী বেড়েছে।
জানা যায়, ঈদের প্রথম তিন দিনে চিড়িয়াখানায় এক লাখের মতো দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। যদিও গত কোরবানির ঈদে এক দিনেই (ঈদের দ্বিতীয় দিন) এক লাখ দর্শনার্থীর সমাগম ঘটেছিল বলে ওই সময় জানিয়েছিল চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
এবার সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে ঢাকায় ঈদের আগের দিন থেকে বৃষ্টি শুরু হয়। ঈদের দিন সকাল থেকে বেলা তিনটা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়। এরপর থেমে থেমে বৃষ্টি হয়। ঈদের দ্বিতীয় দিন সকালে না থাকলেও দুপুর গড়াতেই ঝুম বৃষ্টি শুরু হয়। ঈদের তৃতীয় দিনও ঝুম বৃষ্টি ছিল। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এই তিন দিনে প্রায় ৩০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
ঈদের পরদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চিড়িয়াখানার মূল ফটকের সামনে দর্শনার্থীদের তেমন ভিড় ছিল না। বেলা দুইটার দিকে বৃষ্টি শুরু হয়। তখন দর্শনার্থীরা রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন স্থাপনার নিচে আশ্রয় নেন। এরপর বৃষ্টি আবার শুরু হলে তা দীর্ঘ সময় ধরে চলে। এতে প্রায় সব দর্শনার্থী আধভেজা কিংবা পুরোপুরি ভিজে যান। মূলত বৃষ্টির কারণে দুপুরের পর দর্শনার্থীরা সেদিন আর চিড়িয়াখানা ঘুরে দেখতে পারেননি।
ওই দিন বৃষ্টি শুরু হলে চিড়িয়াখানার ভেতরে দর্শনার্থীদের বিশ্রামাগারে আশ্রয় নেন রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থেকে স্ত্রী ও তিন মেয়েকে নিয়ে আসা মো. আবদুস সাত্তার। সেখানে দাঁড়িয়ে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘পরিবার নিয়ে চিড়িয়াখানায় দুপুরে আসি। একটু পরই একবার বৃষ্টিতে আটকা পড়ি। এখন আবার আটকা পড়লাম। এখনো অনেক দেখা বাকি।’
বৃষ্টিতে দর্শনার্থীদের বেশি ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে যানবাহন পাওয়া নিয়ে। নির্দিষ্ট রুটের গাড়ির সংখ্যা ছিল তুলনামূলক কম। ফলে অনেককে অন্য রুটের গাড়িতে উঠে মাঝপথে নামতে হয়েছে। আর যেসব পরিবহন চলাচল করেছে, সেগুলো যাত্রীদের তুলে কাছ থেকে বাড়তি ভাড়া আদায় করে। তবে বাস পর্যন্ত যেতেই দর্শনার্থীরা ভিজে যাচ্ছিলেন।
ঈদের চতুর্থ দিন গতকাল চিড়িয়াখানা এলাকার দোকানদারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, এবার চিড়িয়াখানায় দর্শনার্থীর আগমন কম। ফলে বিক্রি কম হওয়ায় দোকানের মালামালের বড় একটা অংশ রয়ে গেছে।
অবশ্য চিড়িয়াখানার পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম তালুদকার প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম তিন দিনে দর্শনার্থী কম হলেও চতুর্থ দিনে এক লাখের মতো মানুষ হয়েছে। আজ পঞ্চম দিনেও ৮০ হাজারের মতো দর্শনার্থীর আগমন ঘটতে পারে।