ডিসেম্বরের মধ্যে ১৬ জেলার দূরপাল্লার বাস কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা

কাঁচপুর বাস টার্মিনালের চলমান নির্মাণকাজ পরিদর্শন করেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। ৩০ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস কাঁচপুরে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ আবারও সামনে এসেছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে দূরপাল্লার বাস কাঁচপুর বাস টার্মিনালে নেওয়ার লক্ষ্য ঠিক করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ ১৬ জেলার বাস কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির।

কাঁচপুর বাস টার্মিনালের চলমান নির্মাণকাজ পরিদর্শন শেষে আজ বুধবার ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম নতুন সময়সীমার কথা জানান।

তবে কাঁচপুরে দূরপাল্লার বাস নেওয়ার ঘোষণা এবারই প্রথম নয়। ২০২৩ সালের আগস্টে নতুন আন্তজেলা বাস টার্মিনালটির নির্মাণকাজ উদ্বোধন করা হয়েছিল। ওই বছরের ডিসেম্বরে তৎকালীন ডিএসসিসি মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস বলেছিলেন, ২০২৪ সালে টার্মিনালটি চালু হলে চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের ১৬ জেলার বাস আর ঢাকার ভেতরের টার্মিনাল ব্যবহার করবে না। তবে সেই সময়ের মধ্যে টার্মিনালটি চালু হয়নি।

ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, প্রধানমন্ত্রীর অনুশাসন বাস্তবায়নে দ্রুততম সময়ে টার্মিনাল নির্মাণের কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে সেখানে অস্থায়ী শেড নির্মাণ করা হবে। এরপর চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা, নোয়াখালীসহ দূরপাল্লার ১৬ জেলার বাস সায়েদাবাদ থেকে কাঁচপুরে নেওয়া হবে। ধীরে ধীরে সেখানে স্থায়ী অবকাঠামো গড়ে তোলা হবে।

ডিএসসিসির তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনটি প্যাকেজে টার্মিনালের নির্মাণকাজ চলছে। পুরো প্রকল্পের গড় অগ্রগতি এখন ৩০ শতাংশ। এর মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণের কাজ ৭৫ শতাংশ এবং অভ্যন্তরীণ প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ ২৫ শতাংশ শেষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক কাজ শেষ করে টার্মিনালটি চালু করার লক্ষ্য রয়েছে।

প্রায় ১২ একর জায়গার ওপর নির্মাণাধীন টার্মিনালে ৪০৫টি বাস ধারণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৭৮টি বাস পার্কিং, ২২টি বাস বে এবং ৫টি ওয়াশিং বে থাকবে। এ ছাড়া ৪০টি গাড়ি পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

যাত্রীদের জন্য ৪৮০ আসনের অপেক্ষাগার এবং ১০৬টি টিকিট কাউন্টার করার পরিকল্পনা রয়েছে। পুরুষদের জন্য ১০টি ও নারীদের জন্য ৬টি শৌচাগার থাকবে। পাশাপাশি ৬৫ বর্গমিটার অফিস স্পেস এবং ৫০ বর্গমিটার ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল কক্ষের সংস্থান রাখা হয়েছে।

ডিএসসিসি মনে করছে, দূরপাল্লার বাস রাজধানীর মূল শহরে প্রবেশ না করলে যানজট কমবে। তবে কাঁচপুরে বাস নামার পর ঢাকাগামী যাত্রীদের যাতায়াতের বিষয়টিও সামনে আসছে। এ জন্য কাঁচপুর থেকে সায়েদাবাদ পর্যন্ত বিশেষ ‘শাটল সার্ভিস’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রশাসক। পরিবহনমালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সায়েদাবাদের পাশাপাশি গুলিস্তান বাস টার্মিনালও সরানোর পরিকল্পনা রয়েছে। আবদুস সালাম বলেন, গুলিস্তান বাস টার্মিনালটি বুড়িগঙ্গার ওপারে স্থানান্তরের জন্য জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

গত ২৪ জুন কাঁচপুর এলাকা পরিদর্শন করে সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশীদ ছয় মাসের মধ্যে টার্মিনালের কাজ শেষ করার কথা জানিয়েছিলেন। এরপর ৮ জুলাই অর্থনৈতিক বিষয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি কাঁচপুর টার্মিনালে শেড, টিকিট কাউন্টার, টয়লেট ও অফিসকক্ষসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণের প্রস্তাব নীতিগতভাবে অনুমোদন করে।

আজকের পরিদর্শনে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান এবং প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রকৌশলীরা উপস্থিত ছিলেন। পরিদর্শনের সময় কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করা, নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা এবং নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার না করতে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও ঠিকাদারদের নির্দেশ দেন ডিএসসিসি প্রশাসক।