আট বছর ধরে বন্ধ, শাহবাগের শহীদ জিয়া শিশুপার্ক খুলতে পারে আগামী জুনে

শাহবাগের প্রায় ১৫ একর জায়গায় অবস্থিত শিশুপার্কটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ছবি: প্রথম আলো

প্রায় আট বছর ধরে বন্ধ রয়েছে রাজধানীর শাহবাগের শহীদ জিয়া শিশুপার্ক। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর আগামী বছরের জুনের মধ্যে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য খুলে দেওয়ার আশা করছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। তবে যে প্রকল্পের আওতায় পার্কটি আধুনিকায়ন করা হচ্ছে, সেই প্রকল্পের মূল মেয়াদ ইতিমধ্যেই শেষ হয়ে গেছে। এদিকে এখন পর্যন্ত কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ।

আজ রোববার বিকেলে শিশুপার্ক প্রকল্প এলাকায় পূবালী ব্যাংক পিএলসির ‘শিশুপার্ক শাখা’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির প্রশাসক মো. আবদুস সালাম জানান, তাঁদের আশা, ২০২৭ সালের ৩০ জুনের মধ্যে পার্কটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা সম্ভব হবে।

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নিয়ে পার্কের অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানান আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে প্রকল্পের ভৌত অগ্রগতি ৩০ শতাংশ। শিশুদের বিনোদনের জন্য ১৫টি অত্যাধুনিক রাইড ক্রয়ের লক্ষ্যে ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। এই রাইডগুলোই পুরো প্রকল্পের প্রায় ৭৫ শতাংশ কাজ। আশা করি, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমরা শিশুদের একটি আধুনিক পার্ক উপহার দিতে পারব।’

শাহবাগের প্রায় ১৫ একর জায়গায় অবস্থিত শিশুপার্কটি ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতাস্তম্ভ নির্মাণের তৃতীয় পর্যায়ের কাজের অংশ হিসেবে পার্কের নিচে ভূগর্ভস্থ গাড়ি পার্কিং নির্মাণ করা হয়। এ সময় পুরোনো অনেক রাইড সরিয়ে নেওয়া হয়। এর পর থেকে শিশুদের জন্য পার্কটি আর খোলা হয়নি।

শহীদ জিয়া শিশুপার্কের কাজের ভৌত অগ্রগতি মাত্র ৩০ শতাংশ। ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ছবি: প্রথম আলো

পরবর্তী সময়ে পার্ক আধুনিকায়নে ৬০৩ কোটি ৮১ লাখ টাকার প্রকল্প নেয় ডিএসসিসি। ২০২৩ সালের আগস্টে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদন পায়। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ছিল ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত। সেই সময়সীমা পেরিয়ে গেলেও কাজ এখনো শেষ হয়নি।

প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে ৪৮৩ কোটি টাকা সরকারের এবং ১২০ কোটি টাকা ডিএসসিসির নিজস্ব তহবিল থেকে দেওয়ার কথা। প্রকল্পের সবচেয়ে বড় ব্যয় বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১৫টি রাইড কেনা ও স্থাপনের জন্য। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪৪১ কোটি টাকা।

অনুষ্ঠানে আবদুস সালাম ঢাকা শহরকে ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ হিসেবে গড়ে তুলতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে সামাজিক দায়বদ্ধতা তহবিল থেকে পরিচ্ছন্নতা, সৌন্দর্যবর্ধন ও বৃক্ষরোপণে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। ডেঙ্গু প্রতিরোধে বাসাবাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখা এবং কোথাও তিন দিনের বেশি পানি জমতে না দেওয়ার আহ্বানও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে পূবালী ব্যাংক পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ আলীসহ ডিএসসিসি ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।