টার্মিনালের বাইরের বাস কাউন্টার উচ্ছেদ হচ্ছে, অথচ ভেতরেও জায়গা নেই
রাজধানী ঢাকায় টার্মিনালের বাইরে থাকা বাস কাউন্টারগুলো উচ্ছেদে অভিযানে নেমেছে নগর কর্তৃপক্ষ। বলা হচ্ছে, সড়ক বিশৃঙ্খলা ও যানজটমুক্ত রাখতে এই উদ্যোগ। তবে এতে দুর্ভোগে পড়েছেন দূরপাল্লার বাসের যাত্রীরা। বাসমালিকেরাও পড়েছেন বিপাকে।
টার্মিনালের বাইরে থাকা অবৈধ বাস কাউন্টারগুলো টার্মিনালের ভেতরে নিতে হবে, বলছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু তাঁরাও স্বীকার করছেন, টার্মিনালের ভেতরে নতুন কাউন্টার বসানোর জায়গা এখন নেই।
বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, ‘মৌসুমি’ এই উদ্যোগে আসলে এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে আরেক সমস্যা বাড়বে। তাতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার শঙ্কা থাকে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) কর্তৃপক্ষ উচ্ছেদ অভিযান শুরুর পর বিষয়টি আলোচনায় আসে। সায়েদাবাদ আন্তজেলা বাস টার্মিনালের বাইরে (টিটিপাড়া মোড় থেকে ধোলাইপাড় মোড় পর্যন্ত) মোট ২৪০টি অবৈধ কাউন্টার চিহ্নিত করেছে ডিএসসিসি। গত সপ্তাহে অভিযান চালিয়ে দেড় শর বেশি কাউন্টার উচ্ছেদ করা হয়। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলোও উচ্ছেদের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
ডিএসসিসির হিসাবে দেখা যাচ্ছে, সায়েদাবাদ টার্মিনালে এখন মোট কাউন্টার আছে ১১০টি। তার মধ্যে বিভিন্ন বাস কোম্পানিকে বরাদ্দ দেওয়া আছে ১০৪টি। বাকি ৬টি বরাদ্দবিহীন। অর্থাৎ টার্মিনালের চেয়ে বাইরেই কাউন্টার বেশি।
সায়েদাবাদ টার্মিনাল নিয়ে গত ২৭ জানুয়ারি ডিএসসিসির তৎকালীন প্রশাসক মাহমুদুল হাসানের সভাপতিত্বে একটি সমন্বয় সভা হয়েছিল। সেখানে সিদ্ধান্ত হয়েছিল, টার্মিনালের ভেতরে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির টিকিট কাউন্টার আবার বরাদ্দ দেওয়া হবে এবং বরাদ্দ শেষ হওয়ার পরে টার্মিনালের বাইরের সড়কের পাশের সব কাউন্টার অপসারণ করা হবে।
বাসমালিকসহ সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কাউন্টার বরাদ্দ না দিয়েই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে অভিযান শুরু করেছে ডিএসসিসি কর্তৃপক্ষ।
টার্মিনালের বাইরে থাকা অবৈধ বাস কাউন্টারগুলো টার্মিনালের ভেতরে নিতে হবে, বলছেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। কিন্তু তাঁরাও স্বীকার করছেন, টার্মিনালের ভেতরে নতুন কাউন্টার বসানোর জায়গা এখন নেই।
শহরে ৪৪২টি অবৈধ কাউন্টার
ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) সায়েদাবাদ, গাবতলী ও মহাখালী টার্মিনালের বাইরে থাকা ৪৪২টি অবৈধ ও অনুমোদনহীন কাউন্টারের একটি তালিকা করেছে সম্প্রতি।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি অবৈধ কাউন্টার ঢাকা মহানগরের পুলিশের ওয়ারী বিভাগ এলাকায়, ১৫৫টি। এই বিভাগেই সায়দাবাদ বাস টার্মিনাল।
এ ছাড়া ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন ডিএমপির মতিঝিল বিভাগে ৯৮টি, রমনা বিভাগে ২২টি ও লালবাগ বিভাগে ১২টি অবৈধ কাউন্টার রয়েছে। আর ঢাকা উত্তর সিটির আওতাধীন ডিএমপির মিরপুর বিভাগে ৫৯টি, উত্তরা বিভাগে ৫৮টি, গুলশান বিভাগে ২৩টি এবং তেজগাঁও বিভাগে ১৫টি অবৈধ বাস কাউন্টার রয়েছে।
বিপরীতে ঢাকা দক্ষিণ সিটির আওতাধীন সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন গাবতলী ও মহাখালী বাস টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টার আছে মোট ৩২৫টি। সায়েদাবাদে ১১০টি, গাবতলীতে ২১৫টি ও মহাখালীতে ৪০টি।
তিন টার্মিনালের মধ্যে গাবতলীতে ১২টি ও সায়েদাবাদে ৬টি কাউন্টার বরাদ্দবিহীন অবস্থায় খালি আছে। মহাখালীতে কোনো খালি কাউন্টার নেই। উল্টো সেখানে করপোরেশনের নির্ধারিত কাউন্টারে জায়গা না পেয়ে বাসমালিকেরাই টার্মিনালের ভেতরে কাউন্টার তৈরি করে নিয়েছেন। সিটি করপোরেশনের সূত্রে, এমন কাউন্টারের সংখ্যা প্রায় অর্ধশত। এগুলো করপোরেশনের বরাদ্দের বাইরে।
দুই সিটি করপোরেশন তাদের আওতাধীন টার্মিনাল ইজারা দেওয়ার আগে কোন টার্মিনাল থেকে দৈনিক গড় কতটি বাস চলাচল করে, এর একটি হিসাব করে।
ওই হিসাবে গাবতলী টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে দেড় হাজার বাস দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। সায়েদাবাদ থেকে ছাড়ে ১ হাজার ২০০ বাস এবং মহাখালী থেকে ছাড়ে ১ হাজার বাস। সব মিলিয়ে এই তিন টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে ৩ হাজার ৭০০টি বাস (ট্রিপ) চলাচল করে। প্রতি বাসে গড়ে ৩০ জন যাত্রী হিসেবে দিনে প্রায় ১ লাখ ১১ হাজার যাত্রী চলাচল করেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, বাইরে ছড়িয়ে থাকা কাউন্টারগুলো যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবের সময় যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে, রাস্তায় একাধিক জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানোর কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।
তিনি বলেন, ‘যখন সবাই টার্মিনালে আসে, তখন নিয়ন্ত্রণ রাখা সহজ হয়। এতে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।’
গাবতলী টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে দেড় হাজার বাস দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে ছেড়ে যায়। সায়েদাবাদ থেকে ছাড়ে ১ হাজার ২০০ বাস এবং মহাখালী থেকে ছাড়ে ১ হাজার বাস। সব মিলিয়ে এই তিন টার্মিনাল থেকে দিনে গড়ে ৩ হাজার ৭০০টি বাস (ট্রিপ) চলাচল করে।
টার্মিনালগুলোর বর্তমান অবস্থা
রাজধানীর যানজট পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হাতে যথেষ্ট সময় রেখে যাত্রীদের বাস টার্মিনালে যেতে হয়। কখনো নির্ধারিত সময়ের আধঘণ্টা-এক ঘণ্টা আগেই যাত্রীরা টার্মিনালে পৌঁছে যান। আবার যানজটের কারণে বাসগুলোরও নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে বিলম্ব হয়। এই দুই ক্ষেত্রেই যাত্রীদের অপেক্ষা করতে হয়।
সরেজমিন দেখা যায়, গাবতলী, মহাখালী ও সায়েদাবাদে টার্মিনালের ভেতরে যেসব জায়গা থেকে (বাস-বে) বাস ছাড়ে, সেই অংশে যাত্রীদের বসে অপেক্ষার সুযোগ কোথাও নেই, কোথাও আবার সীমিত। টার্মিনাল ভবনের ভেতরে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে তার অবস্থান বাস ছাড়ার নির্ধারিত স্থান থেকে কিছুটা দূরে হওয়ায় যাত্রীরা সেদিকে কমই ভেড়েন। মহাখালী ও সায়েদাবাদ টার্মিনাল ভবনে দুই শতাধিক যাত্রীর বসার ব্যবস্থা থাকলেও সেগুলো ফাঁকা পড়ে থাকে।
বাইরে ছড়িয়ে থাকা কাউন্টারগুলো যানজট ও বিশৃঙ্খলার কারণ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বিভিন্ন উৎসবের সময় যাত্রী চাপ বেড়ে গেলে, রাস্তায় একাধিক জায়গা থেকে যাত্রী ওঠানোর কারণে যানজট সৃষ্টি হয়।ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান
গাবতলী টার্মিনাল ভবনে যাত্রীদের বসার জায়গাটি এখন পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের পর যাত্রীদের বসার জায়গায় লুটপাট হয়। তখন শীতাতপ নিয়ন্ত্রণযন্ত্র ও বসার বেঞ্চ-সোফা সব লুট করা হয়। দেড় বছরের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ ওই জায়গাটি এখনো মেরামত করেনি। ৯ এপ্রিল দুপুরে গিয়ে ওই জায়গায় ভবঘুরে ও ছিন্নমূলদের এলোমেলো ঘুমিয়ে থাকতে দেখা গেছে।
গাবতলী ও সায়েদাবাদে দুটি শৌচাগার বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হওয়ায় মোটামুটি পরিষ্কার। তবে অন্য শৌচাগারগুলো নোংরা ও দুর্গন্ধযুক্ত।
টার্মিনালের ভেতরটা অনেক বাস কোম্পানি তাদের অচল-অকেজো বাস রেখে ডিপোতে পরিণত করেছে। অনেক বাসের মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজও টার্মিনালের ভেতরেই করা হচ্ছে। টার্মিনালের ভেতরে অবৈধ দখল ও ভ্রাম্যমাণ দোকান রয়েছে।
সায়েদাবাদে বন্ধ, অন্য জায়গায় খোলা
গত সপ্তাহে উচ্ছেদ অভিযান চলার পর ৯ এপ্রিল বিকেলে গিয়ে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের বাইরে থাকা সব কোম্পানির টিকিট বিক্রির কাউন্টার বন্ধ দেখা গেছে। কাউন্টারের সামনে বাস কোম্পানির ব্যানার-সাইনবোর্ডও খুলে ফেলা হয়েছে।
কাউন্টার বন্ধ থাকায় কিছু বাস কোম্পানির প্রতিনিধিরা ফুটপাতে টেবিল-চেয়ার পেতে টিকিট বিক্রি করছিলেন। অনেকে হাতে টিকিট নিয়ে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যাত্রীদের ডাকাডাকি ও টিকিট বিক্রি করছিলেন। ব্যাগপত্র নিয়ে যাত্রীদের রাস্তায় দাঁড়িয়ে কিংবা বসে বাসের অপেক্ষায় থাকতে দেখা গেছে।
তবে কল্যাণপুর, মিরপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত অনুমোদনবিহীন বাস কাউন্টারগুলো অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ ও সিলগালা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এসব জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
গাবতলী টার্মিনালের বাইরে সড়কের দুই পাশে বিভিন্ন পরিবহন কোম্পানির কাউন্টার খোলাই দেখা গেছে। এ ছাড়া শ্যামলী, কলাবাগান, আরামবাগ, মতিঝিল, ফকিরাপুল ও কমলাপুর—সব এলাকাতেই টিকিট বিক্রির কাউন্টার খোলা দেখা গেছে। এসব কাউন্টারের সামনে যাত্রীবাসী বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী ওঠাতেও দেখা যায়।
তবে কল্যাণপুর, মিরপুর ও টেকনিক্যাল মোড় এলাকায় অবৈধভাবে নির্মিত অনুমোদনবিহীন বাস কাউন্টারগুলো অভিযান চালিয়ে উচ্ছেদ ও সিলগালা করেছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্তৃপক্ষ। গত সোমবার এসব জায়গায় অভিযান চালানো হয়।
প্রয়োজন নতুন কাউন্টার
দুই সিটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ ও অনুমোদনহীনভাবে গড়ে ওঠা কাউন্টারগুলো বন্ধ করে টার্মিনালের ভেতরে জায়গা দিতে হলে নতুন করে কাউন্টার নির্মাণ প্রয়োজন। পাশাপাশি টার্মিনালের পড়ে থাকা অচল-অকেজো বাস অপসারণ, টার্মিনালের ভেতরের অবৈধ দখল উচ্ছেদ ও যাত্রীসেবা নিশ্চিতে প্রয়োজনীয় কিছু অবকাঠামো নির্মাণ করতে হবে।
ডিএসসিসির পরিবহন বিভাগের ব্যবস্থাপক গোলাম মোর্শেদ প্রথম আলোকে বলেন, প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন করে কাউন্টার নির্মাণ বা শেড তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। টার্মিনাল ব্যবস্থাপনার বর্তমান কাঠামোও পুরোপুরি কার্যকর নয়। টার্মিনাল এখন অনেকটাই ডিপো হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
টার্মিনালের ভেতরে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কাউন্টার স্থাপন করা যাবে বলে জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান।
তিনি প্রথম আলোকে বলেন, টার্মিনালের ভেতরেও অবৈধ দখল ও স্থাপনা রয়েছে। সায়েদাবাদে প্রায় ১২০টি অবৈধ স্থাপনা চিহ্নিত করা হয়েছে। কিছু উচ্ছেদ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে অন্যগুলোও উচ্ছেদ করা হবে।
টার্মিনালের ভেতরে যে পরিমাণ জায়গা রয়েছে, তাতে প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন কাউন্টার স্থাপন করা যাবে বলে জানান ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান।
ডিএনসিসির পরিবহন বিভাগের ব্যবস্থাপক মেহেদী হাসান প্রথম আলোকে বলেন, সব বাস কোম্পানিকে জায়গা দিতে হলে মহাখালীতে প্রায় ১০০টি এবং গাবতলীতে আরও প্রায় ৫০টির মতো নতুন কাউন্টার তৈরি প্রয়োজন হতে পারে।
গাবতলী টার্মিনাল স্থানান্তরের পরিকল্পনা থাকায় ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের বসার জায়গাটি মেরামত করা হচ্ছে না বলেও জানান মেহেদী হাসান।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ট্রাফিক) আনিসুর রহমান বলেন, সিটি করপোরেশন টার্মিনালের ভেতরে পর্যাপ্ত বসার ব্যবস্থা, বাথরুম এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করলে এই উদ্যোগ টেকসই হবে।
আনিসুর রহমান আরও বলেন, শহরের একাধিক স্থানে একই সঙ্গে একাধিক পরিবহনের টিকিট বিক্রির ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে মালিকদের বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে না এবং সুশৃঙ্খল পরিবেশ বজায় থাকবে।
বাসমালিকেরা বিপাকে, বিশেষজ্ঞদের মতও ভিন্ন
একে টার্মিনালে জায়গার সংকট, তার মধ্যে বাইরে উচ্ছেদ অভিযানে বাসমালিকেরা উদ্বিগ্ন।
বাংলাদেশ বাস-ট্রাক ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ও হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মো. হানিফ প্রথম আলোকে বলেন, পরিকল্পনা ছাড়া এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন যাত্রীরা।
মো. হানিফ আরও বলেন, ‘সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা বন্ধ করা অবশ্যই যৌক্তিক। এতে যানজট কমবে এবং শৃঙ্খলা ফিরবে। কিন্তু টিকিট কাউন্টার পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া সঠিক সিদ্ধান্ত নয়।’
‘আমরা নিজেরাও চাই, সব গাড়ি টার্মিনালের ভেতর থেকে ছাড়ুক। বাইরে কাউন্টার রাখলে আমাদেরই বাড়তি খরচ-ভাড়া, লোকবল, ব্যবস্থাপনা। কিন্তু পরিস্থিতি তৈরি না করে হঠাৎ বন্ধ করলে সমস্যাই বাড়বে,’ বলেন মো. হানিফ।
টার্মিনালের বাইরের কাউন্টার উচ্ছেদের এই অভিযানকে ‘মৌসুমি উদ্যোগ’ বলছেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) অধ্যাপক ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ শামসুল হক।
শামসুল হক প্রথম আলোকে বলেন, এটি মূল সমস্যার সমাধান নয়, বরং ‘উপসর্গভিত্তিক’ পদক্ষেপ। এ ধরনের অভিযান আসলে সমস্যার শিকড় স্পর্শ করে না। অতীতেও এমন অভিযান হয়েছে, কিন্তু কোনোটি টেকসই হয়নি।
‘মূল সমস্যায় হাত না দিয়ে এ ধরনের পদক্ষেপ চালিয়ে গেলে জনভোগান্তি বাড়বে এবং সরকারের ভাবমূর্তিও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে,’ বলেন শামসুল হক।
শামসুল হকের মতে, বিশৃঙ্খলার মূল কারণ কাঠামোগত। তিনি বলেন, ঢাকার টার্মিনালগুলো বাস পার্কিং বা গ্যারেজে পরিণত হয়েছে। এই অদক্ষ ব্যবস্থাপনার কারণেই টার্মিনালে জায়গার সংকট তৈরি হচ্ছে।