খাঁচায় মশা আটকে ওষুধের ধোঁয়া, ২৪ ঘণ্টা পর পাওয়া গেল ফল

খাঁচায় ওষুধ প্রয়োগের ২৪ ঘণ্টা পর মশাগুলো বেঁচে আছে কি না, তা পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। ১৭ সেপ্টেম্বরছবি: ডিএনসিসির সৌজন্যে

জাল দিয়ে মোড়ানো ৯টি খাঁচা। প্রতিটি খাঁচায় ছিল ৫০টি করে মোট সাড়ে ৪০০ মশা। তিনটি পৃথক কক্ষ থেকে একে একে খাঁচাগুলো বের করে দেখা হচ্ছিল, মশাগুলোর কী অবস্থা। দেখা গেল, একটি মশাও আর বেঁচে নেই।

গতকাল বুধবার বিকেল চারটায় ফগার যন্ত্রের মাধ্যমে ধোঁয়া দিয়ে ওই খাঁচাগুলোয় মশা নিধনের ওষুধ ম্যালাথিয়ন প্রয়োগ করা হয়েছিল। এরপর অপেক্ষা করা হয় ২৪ ঘণ্টা। আজ বৃহস্পতিবার একই সময়ে ওই খাঁচাগুলো পরীক্ষা করে এই ফল পাওয়া যায়।

অন্যদিকে একই সময়ে পৃথক তিনটি খাঁচায় কন্ট্রোল টেস্ট (নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা) করে দেখা হয়। অর্থাৎ ওই তিন খাঁচায় কোনো ওষুধ না দিয়ে শুধু খাবার দিয়ে মশা আটকে রাখা হয়েছিল। দেখা হয়, স্বাভাবিকভাবে কতটি মশার মৃত্যু হয়। আজ ২৪ ঘণ্টা পর ওই খাঁচাগুলো পরীক্ষা করে দেখা যায়, প্রথম দুটি খাঁচায় একটি করে দুটি মশা এবং তৃতীয় খাঁচায় তিনটি মশা মারা গেছে।

ঠিকাদারের সরবরাহ করা নতুন ওষুধ গ্রহণ ও ব্যবহারের আগে ওষুধটির কার্যকারিতা এভাবেই মাঠপর্যায়ে পরীক্ষা করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। ওষুধ প্রয়োগের এক দিন পর করা এই পরীক্ষাকে মৃত্যুর হার পরীক্ষা বলা হয়। গতকাল ওষুধ প্রয়োগের ২০ মিনিটের মধ্যে করা নকডাউন বা নিস্তেজ করার পরীক্ষায়ও ওই খাঁচাগুলোয় থাকা দুটি মশা ছাড়া সব কটিই নিস্তেজ হয়েছিল।

ঢাকা উত্তর সিটির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী প্রথম আলোকে বলেন, গতকাল মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার পর ২৪ ঘণ্টা অপেক্ষা করে আজ মশার মৃত্যুর হার পরীক্ষা করা হয়েছে। ওষুধ প্রয়োগ করা ৯টি খাঁচার সব মশাই মারা গেছে। আর নিয়ন্ত্রণ খাঁচায় পাঁচটি মশা মারা গেছে।

আরও পড়ুন
জালের বাক্সে আটকে রাখা মশার ওপর ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। ১৬ সেপ্টেম্বর
প্রথম আলো ফাইল ছবি

এই কর্মকর্তা বলেন, ম্যালাথিয়নের কার্যকারিতা যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ের পরীক্ষার পাশাপাশি আরও দুটি পরীক্ষা করা হবে। একটি হবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর)। সেখানে ওষুধটির কার্যকারিতা বা বায়ো–ইফিক্যাসি পরীক্ষা করা হবে। আর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্ভিদ সংরক্ষণ উইংয়ে পরীক্ষা করা হবে ওষুধের সক্রিয় উপাদান ও রাসায়নিক গঠন নির্ধারিত মান অনুযায়ী আছে কি না।

আগামী সপ্তাহে বাকি দুটি পরীক্ষার ফল হাতে পাওয়ার পর তিনটি পরীক্ষাতেই ঠিকাদারের সরবরাহ করা ওষুধ উত্তীর্ণ হলেই ওই ম্যালাথিয়ন ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।