অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের সভাপতি ফওজিয়া মোসলেম। তিনি বলেন, মহিলা পরিষদ নারী আন্দোলনের মাধ্যমে সমাজে নারী নির্যাতনের বিষয়ে সবাইকে সচেতন ও সোচ্চার করতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।

সেগুলো পোস্টারের মাধ্যমে পরিস্ফুটিত হয়েছে। নারীর প্রতি সমাজের সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিও প্রতিযোগিতায় ফুটে উঠেছে।

ফওজিয়া মোসলেম আরও বলেন, নারী–পুরুষ দুজনেই পরিবার ও সমাজ থেকে প্রাপ্ত রীতিনীতি ও শিক্ষা থেকে নারী নির্যাতনকারী হয়ে উঠতে পারে। তাই সেদিকে সবাইকে সচেতন হতে হবে।

প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন চিত্রশিল্পী ও প্রথম আলোর প্রধান শিল্পনির্দেশক অশোক কর্মকার। তিনি বলেন, পোস্টারে নারী, শিশুসহ সমাজের নিপীড়িত ও অবহেলিত মানুষের প্রতি নির্যাতন, নিপীড়ন, শোষণ ও বৈষম্যের চিত্র ফুটে উঠেছে। যাঁরা পোস্টারের মাধ্যমে এমন কাজ করতে পেরেছেন, তাঁরা নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা ও নির্যাতন প্রতিহত করতে ভবিষ্যতে বড় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক মালেকা বানু। তিনি বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা বিশ্বে ক্রমে উদ্বেগে পরিণত হচ্ছে। নারীকে সহিংসতামুক্ত করতে প্রতিটি দেশ নানান উপায় খুঁজছে। নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধের আন্দোলনে তরুণদের আরও সম্পৃক্ত করতে প্রথমবারের মতো এ পোস্টার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে অনেক তরুণ সাড়া দিয়েছেন। নারী নির্যাতন ও নারীর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধে সমষ্টিগত ভাবনার যে প্রতিফলন ঘটেছে, তা নারী আন্দোলনের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার পান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সায়েদ কবির; দ্বিতীয় পুরস্কার জেতেন একই বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী ঐশী মিত্র এবং তৃতীয় হন সিদরাতুল আফিয়া। বিজয়ীদের এ সময় সনদ, স্মারক এবং বই প্রদান করা হয়। এতে বিশেষ পুরস্কার পান সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজের উম্মে হাবিবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুরিমা নিয়োগী ও মৌমিতা দাস।

অনুষ্ঠানে মহিলা পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সীমা মোসলেম, কেন্দ্রীয় কমিটির একাধিক নেতা, পাড়া কমিটি ও পাঠচক্রের সদস্য, সংগঠনের কর্মকর্তাসহ শতাধিক মানুষ উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সংগঠনের গবেষণা কর্মকর্তা আফরুজা আরমান।