ঢাকা দক্ষিণ সিটিতে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিক্রি শুরু, নিতে হবে বুয়েটের ছাড়পত্র
রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশার (ই-রিকশা) নিবন্ধনের আবেদন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার থেকে ১০০ টাকায় এ ফরম পাওয়া যাচ্ছে।
তবে আবেদন করার পরই কোনো ব্যক্তিকে নিবন্ধন দেওয়া হবে না। আবেদনকারীকে রিকশার ফিটেনস এবং রিকশাটি কারিগরিভাবে ত্রুটিমুক্ত কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। আর কারিগরি মান ও নিরাপত্তার শর্ত পূরণ হয়েছে কি না, সেই বিষয়ে সনদ দেবে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)।
আজ ই-রিকশার নিবন্ধন ও চলাচল নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে এ তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ই-রিকশাকে নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী প্রস্তুত করে বুয়েটের ছাড়পত্র নিতে হবে। এরপর ‘সিটি করপোরেশন এলাকায় তিন চাকার স্বল্পগতির ব্যাটারিচালিত রিকশা (ই-রিকশা) চলাচল বিধিমালা, ২০২৬’-এর শর্ত পূরণ করে আবেদন জমা দিতে হবে। যাচাই-বাছাই শেষে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধন দেওয়া হবে।
আবদুস সালাম বলেন, ‘আজ থেকে ই-রিকশার নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু হয়েছে। তবে স্পষ্ট করে বলতে চাই, এই ফরম কোনো চলাচলের অনুমতিপত্র নয়। এটি কেবল নিবন্ধনের জন্য আবেদনপত্র।’
ডিএসসিসি জানিয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নগর ভবন ও সংস্থাটির সব আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করা যাবে। প্রতিটি ফরমের মূল্য ১০০ টাকা। একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ পাঁচটি আবেদন ফরম কিনতে পারবেন।
দক্ষিণ সিটিকে চার জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা
ই-রিকশার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ঢাকা দক্ষিণ সিটি এলাকাকে চারটি জোনে ভাগ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জোনে কতটি ই-রিকশা চলতে পারবে, তা নির্ধারণ করা হবে। আগামী বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সিটি করপোরেশন ও বাংলাদেশ পুলিশের যৌথ সভায় জোনের সীমানা এবং এলাকাভিত্তিক ই-রিকশার সম্ভাব্য সংখ্যা চূড়ান্ত করার কথা রয়েছে।
এ ছাড়া নির্ধারিত মডেল অনুযায়ী ই-রিকশা তৈরি ও মেরামতের জন্য নির্দিষ্ট ওয়ার্কশপ ঠিক করে দেওয়া হবে। অবৈধ বিদ্যুৎ–সংযোগের মাধ্যমে ব্যাটারি চার্জ বন্ধ করতে ওয়ার্ড বা থানা পর্যায়ে নির্ধারিত চার্জিং স্টেশন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
একসঙ্গে সব ব্যাটারিচালিত রিকশা বন্ধ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রশাসক আবদুস সালাম। তিনি বলেন, ‘সবকিছু হঠাৎ বন্ধ করে দেওয়ার চেয়ে আমরা ধাপে ধাপে এগুলোকে নিয়ম ও নিবন্ধনের আওতায় আনতে চাই।’
প্রশাসক জানান, প্রথম পর্যায়ে ৫০০, ১ হাজার কিংবা ২ হাজার—যে সংখ্যক ই-রিকশা নির্ধারিত শর্ত পূরণ করবে, সেগুলোকে পর্যায়ক্রমে নিবন্ধনের অনুমোদন দেওয়া হবে।
রাজধানীতে অটোরিকশার অনিয়ন্ত্রিত চলাচলকে অন্যতম প্রধান সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে আবদুস সালাম এ সমস্যা সমাধানে নগরবাসী, রিকশার মালিক ও চালক এবং গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা চান।
বর্তমানে ঢাকায় যেসব ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে, সেগুলোর মালিকানা দুই ধরনের। কিছু রিকশার চালক নিজেই মালিক। ফলে তিনি যা আয় করেন, তা নিজেরই থাকছে। তবে ব্যাটারি চার্জ দেওয়া এবং গ্যারেজে রাখার জন্য ভাড়া দিতে হয়। অন্যদিকে কিছুটা বিত্তশালী, রাজনৈতিকভাবে প্রভাব রয়েছে, এমন ব্যক্তিদের অনেকের ৫০ কিংবা ১০০টি পর্যন্ত রিকশা আছে। রিকশা রাখার গ্যারেজ ও চার্জ দেওয়ার ব্যবস্থা মালিকেরা করে থাকেন। তাঁরা নির্দিষ্ট পরিমাণ দৈনিক ‘জমা’র ভিত্তিতে চালকদের রিকশা ভাড়া দেন।
সংশ্লিষ্ট চালক ও রিকশামালিকদের তথ্য অনুসারে, বর্তমানে ঢাকায় মোটা চাকা, সাধারণ রিকশার চাকা, আকারে বড়–ছোট নানা ধরনের রিকশা চলাচল করে। একেকটা রিকশার জমা ৩০০ থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। এই জমা, ব্যাটারি চার্জ এবং গ্যারেজভাড়া বাদ দিয়ে দৈনিক এক থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করেন চালকেরা। নতুন রিকশায় বিনিয়োগ বেশি। ফলে মালিকের জমাও বেশি হতে পারে। চালকের আয় নির্ভর করবে কোন এলাকায় চালাচ্ছেন, তার ওপর।
দেশে মোটরযানের নিবন্ধন দেয় বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)। আর রিকশার নিবন্ধন দেবে সিটি করপোরেশন।