২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হতে যাওয়া এই নিয়মে থাকছে না প্রার্থীর বয়সের কোনো সীমারেখা। তবে এই প্রক্রিয়ায় স্নাতকোত্তরে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীরা অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন। অর্থাৎ তাঁরা আবাসিক হলে আসন পাবেন না (বিদেশি শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়)। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) অনুমোদিত যেকোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষার্থীরা বিষয়ভিত্তিক ১০০ নম্বরের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা দিয়ে মেধাতালিকা অনুসারে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ-ইনস্টিটিউটগুলোর শূন্য আসনে ভর্তি হয়ে নিয়মিত স্নাতকোত্তর করতে পারবেন। স্নাতকে ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ (৪ স্কেলে) পাওয়া শিক্ষার্থীরাই শুধু এই পরীক্ষায় অংশ নিতে পারবেন। এটি ছাড়া থাকছে আরও কিছু শর্ত।

আন্ত–একাডেমিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জীবনব্যাপী শিক্ষার সুযোগ তৈরি করতে বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য নিয়মিত স্নাতকোত্তর উন্মুক্ত করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে ইতিমধ্যেই ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্নাতকোত্তরের শ্রেণি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে সাধারণত ফেব্রুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যেই স্নাতকোত্তরের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়ে থাকে।

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (শিক্ষা) এ এস এম মাকসুদ কামাল প্রথম আলোকে বলেছেন, স্নাতকোত্তরের শূন্য আসন পূরণে বিভাগ-ইনস্টিটিউটগুলোর পক্ষ থেকে ভর্তির বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আবেদন আহ্বান করা হবে। এরপর পরীক্ষা নিয়ে শূন্য আসনগুলো পূরণ করা হবে।

এর আগেও একসময় বাইরের শিক্ষার্থীরা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হতে পারতেন। ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান সহ-উপাচার্য (প্রশাসন) মুহাম্মদ সামাদ। স্মৃতি থেকে তিনি বললেন, তাঁদের সময় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য তিন বছরের স্নাতক ও এক বছরের স্নাতকোত্তর কোর্স ছিল। পরে চার বছরের স্নাতক কোর্স চালু হয়। এর পাশাপাশি তখন প্রিলিমিনারি মাস্টার্স নামে দুই বছর মেয়াদি একটি মাস্টার্স কোর্স চালু ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এই কোর্সের মাধ্যমে বাইরের শিক্ষার্থীদের অনেকেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতেন। এমন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ ডাকসুর নেতাও হয়েছিলেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার (শিক্ষা-২) মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন প্রবীণ এই অধ্যাপক।

মুনসী শামস উদ্দিন আহম্মদ প্রথম আলোকে বলেন, ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রিলিমিনারি মাস্টার্স প্রোগ্রাম চালু ছিল। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সম্ভবত ১৯৯৩-৯৪ শিক্ষাবর্ষ থেকে প্রিলিমিনারি মাস্টার্স প্রোগ্রামটি নবগঠিত ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে পরিচালিত হতে থাকে। তখন থেকে বাইরে স্নাতক করা শিক্ষার্থীদের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ২০০০ সালের আগে-পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সান্ধ্য কোর্স চালু হয়। বাইরের কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করতে চাইলে তাঁদের সান্ধ্য কোর্সে ভর্তি হতে হতো। এখন স্নাতকোত্তর উন্মুক্ত করে দেওয়ার ফলে নতুন নীতিমালার আলোকে ভর্তি পরীক্ষার মাধ্যমে বাইরের শিক্ষার্থীরাও বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারবেন।

নতুন এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে গত বছরের ৩০ অক্টোবর ‘নিয়মিত স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে শূন্য আসনে শিক্ষার্থী ভর্তির নীতিমালা’ শীর্ষক একটি নীতিমালা অনুমোদন করেছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেট। নীতিমালাটি নিম্নরূপ:

১৷ (ক): ইউজিসি অনুমোদিত বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ন্যূনতম চার বছর মেয়াদি স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি পাওয়া শিক্ষার্থীরা স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামে শূন্য আসনে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

(খ): বিভাগ-ইনস্টিটিউটের সক্ষমতা এবং জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চাহিদা বিবেচনায় ভর্তির আসনসংখ্যা শূন্য আসনসংখ্যার চেয়ে কমবেশি হতে পারবে। তবে এ ক্ষেত্রে ভর্তি পরীক্ষা আয়োজনের আগেই যথাযথ প্রক্রিয়ায় একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদন নিতে হবে।

(গ): এই ভর্তির ক্ষেত্রে প্রার্থীর বয়স ও শিক্ষাবর্ষের কোনো বাধ্যবাধকতা থাকবে না।

২৷ (ক): প্রার্থীদের মাধ্যমিক বা সমমান ও উচ্চ মাধ্যমিক বা সমমানের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সংশ্লিষ্ট ইউনিট কর্তৃক স্নাতক–পূর্ব শ্রেণিতে ভর্তির ন্যূনতম যোগ্যতা পূরণ করতে হবে। বর্তমানে বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষার (চতুর্থ বিষয়সহ) জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৮ ও আলাদাভাবে ৩ দশমিক ৫০; কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটের জন্য দুই জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩; ব্যবসায় শিক্ষা ইউনিটের জন্য এসএসসি-এইচএসসির জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৭ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩ এবং চারুকলা ইউনিটের জন্য জিপিএর যোগফল ন্যূনতম ৬ দশমিক ৫০ ও আলাদাভাবে ৩ থাকতে হয়। এ ছাড়া স্নাতকে (সম্মান) ন্যূনতম জিপিএ ৩ দশমিক ২৫ (৪ স্কেল) থাকতে হবে স্নাতকোত্তরে ভর্তি-ইচ্ছুকদের। বিশেষ ক্ষেত্রে বিভাগ-ইনস্টিটিউটের নির্ধারিত শর্তও প্রার্থীকে পূরণ করতে হবে।

(খ): বিদেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক-স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনকারী শিক্ষার্থীরা অনুষদ কর্তৃক ডিগ্রির সমতা নিরূপণ সাপেক্ষে ভর্তির জন্য আবেদন করতে পারবেন।

৩৷ (ক): বিষয়ভিত্তিক ১০০ নম্বরের লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষা নিয়ে মেধাতালিকা অনুযায়ী শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

(খ): স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের ভর্তি পরীক্ষায় সার্বিক কার্যক্রম পরিচালনা করবে সংশ্লিষ্ট বিভাগ-ইনস্টিটিউট।

(গ): শিক্ষার্থী-ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য বাবদ যে অর্থ সংগৃহীত হবে, তা দিয়েই এ পরীক্ষা কার্যক্রমের ব্যয় নির্বাহ করা যাবে।

৪৷ (ক): নতুন ভর্তি হওয়া এই শিক্ষার্থীরা অনাবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে বিবেচিত হবেন।
(খ): বিদেশি শিক্ষার্থীদের (বিদেশি পাসপোর্ট ও বিদেশি ডিগ্রিধারী) আবাসিক সুবিধা দেওয়া ও ভর্তি পরীক্ষার শর্ত শিথিল করা যেতে পারে।

৫৷ ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষ থেকে স্নাতকোত্তর প্রোগ্রামের শূন্য আসনে ভর্তির কার্যক্রম পরিচালনা করা যাবে।