মিরপুরে হামলা–ভাঙচুর–অগ্নিসংযোগের এই কাজ ফ্যাসিজমের দোসরেরা করেছে: ডিএনসিসি প্রশাসক
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে হামলা-ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগের ঘটনার পর পরিস্থিতি আপাতত শান্ত। ফুটপাতের ব্যবসায়ী ও হকাররা সরে গেছেন।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানসহ বিএনপির নেতা-কর্মীরা এলাকায় মিছিল-স্লোগান দিয়ে ‘শোডাউন’ দিচ্ছেন।
আজ বুধবার বেলা ১টার দিকে মিরপুরের হোপ মার্কেট এলাকায় যান ডিএনসিসির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম। সেখানে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাবি করেন, হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা পরিকল্পিত। ফ্যাসিজমের দোসরেরা এই ঘটনা ঘটিয়েছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, আজকের ঘটনাটি পরিকল্পিতভাবেই ঘটানো হয়েছে। যারা ঘটিয়েছে, তাদের আগেই প্রস্তুতি ছিল। ফ্যাসিজমের দোসরেরা এই কাজ করেছে।
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ‘আমি মিরপুরের সন্তান। জন্ম আমার এখানে। কারা কী করে, আমার চেয়ে বেশি কেউ জানে না। তাদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। আমি একজন রাজনৈতিক কর্মী, জনসেবার দায়িত্ব নিয়েছি।’
এর আগে আজ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মিরপুর-১০ নম্বর গোলচত্বর এলাকায় ফুটপাতের অবৈধ দখল উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে ডিএনসিসি।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, অভিযান শুরুর একপর্যায়ে ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা ডিএনসিসির গাড়িতে হামলা চালান। গাড়ি ভাঙচুর করেন। গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্য ও সাংবাদিকেরা আহত হন।
সাংবাদিকদের উদ্দেশে প্রশাসক শফিকুল ইসলাম বলেন, নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচল নিশ্চিত করতে ফুটপাত দখলমুক্ত করার অভিযান অব্যাহত থাকবে।
ডিএনসিসির প্রশাসক বলেন, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে নগরবাসীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নিয়মিত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। আজও অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছিল। দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখল করে রেখেছিল যারা, তারা ও তাদের ইন্ধনে আজ সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিকসহ কিছু পুলিশ সদস্যের ওপর হামলা হয়েছে। পরে স্থানীয় সাধারণ মানুষের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা সরে যেতে বাধ্য হন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমি স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, নগরসেবার জন্য, আমার প্রিয় নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের জন্য ফুটপাত উদ্ধারের যে কর্মসূচি আছে, তা চলমান থাকবে।’
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিজমের দোসরেরা মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতার সৃষ্টি করেছে।’
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান ডিএনসিসির প্রশাসক। তিনি বলেন, যারা এই অরাজকতার সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আজ মামলা হবে। পুলিশের পক্ষ থেকে মামলা হবে, সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও মামলা হবে। তদন্ত করে তাদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করতে হবে। অবৈধভাবে কাউকে এখানে ফুটপাত দখল করতে দেওয়া হবে না।
শফিকুল ইসলাম বলেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মিরপুরবাসীর সহযোগিতা চেয়ে প্রশাসক বলেন, কয়েক দিন ধরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। জনগণের চাহিদা অনুযায়ীই এ কাজ করা হচ্ছে।
শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই দায়িত্ববোধ থেকে আমাদের কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকবে। আপনারা আমাদের সহযোগিতা করবেন।’
সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদ
হামলায় সাংবাদিকেরা আহত হওয়ায় তাঁদের পাশে থাকার কথা জানান প্রশাসক। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
উচ্ছেদ অভিযান ঘিরে পুলিশের প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযানে পুলিশ এল। কিন্তু তাঁরা এসে একজন পুলিশ সদস্যকেও পাননি। তাহলে পুলিশের প্রস্তুতি কোথায় ছিল? সাধারণ উচ্ছেদ অভিযানের মতো করেই আজকের অভিযান পরিচালনা করা হয়েছিল। কিন্তু হামলাকারীরা আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল।
হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের অনেকে ইতিমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন বলে দাবি করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, পুলিশ তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনাস্থলে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেন প্রশাসক। তিনি বলেন, ‘সরকারের বিরুদ্ধে তারা স্লোগান দিচ্ছিল। সরকারের বিরুদ্ধে কারা স্লোগান দেয়? যারা ফ্যাসিজমের দোসর।’