পরিবার ও কর্মজীবনে সম্পর্ক ভালো রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তার ওপর গুরুত্ব

মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামানের (মাঝে) হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দিচ্ছেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহ–উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ (বাঁয়ে) ও সিপিএসের পরিচালক অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন। বুধবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতেছবি: এনএসইউর

পরিবার, কর্মক্ষেত্র ও ব্যক্তিগত সম্পর্কে সুস্থ যোগাযোগ এবং দ্বন্দ্ব নিরসনে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ। এক বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এমনটা বলেছেন। তাঁদের মতে, পেশাগত জ্ঞান ও দক্ষতার পাশাপাশি নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অন্যের আচরণ বোঝার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ। নেতৃত্ব ও ব্যক্তিগত বিকাশেও এর ভূমিকা রয়েছে।

বুধবার নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির (এনএসইউ) সেন্টার ফর পিস স্টাডিজের (সিপিএস) আয়োজনে একটি বিশেষ বক্তৃতা অনুষ্ঠানে বক্তারা এ কথা বলেন।

‘তরুণ পেশাজীবীদের পরিবার, কর্মজীবন ও আন্তব্যক্তিক সম্পর্ক পুনর্গঠনে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে মূল বক্তব্য দেন মেজর জেনারেল (অব.) ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান। স্বাগত বক্তব্য দেন সিপিএসের পরিচালক অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন। বিশেষ অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ।

মূল বক্তব্যে ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, জীবনে উন্নতির জন্য শিক্ষাগত ও পেশাগত অর্জন জরুরি। পাশাপাশি প্রয়োজন বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতা, নেতৃত্ব ও অন্যদের সঙ্গে যোগাযোগের দক্ষতা।

শায়েখুজ্জামানের মতে, কোনো পরিস্থিতিতে একজন মানুষ কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেখান এবং কতটা সংযতভাবে নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, তা নেতৃত্বের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ। একজন নেতার কাজ শুধু অনুসারী তৈরি করা নয়, নতুন নেতা গড়ে তোলাও।

ব্যক্তিগত বিকাশের পথে স্বচ্ছন্দ বলয় বা কমফোর্ট জোন বড় বাধা হতে পারে উল্লেখ করে ইবনে ফজল শায়েখুজ্জামান বলেন, পারিবারিক বন্ধন অটুট রাখতে আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা গুরুত্বপূর্ণ। মা–বাবার প্রতি সন্তানদের যথাযথ মনোযোগ দেওয়া উচিত।

স্বাগত বক্তব্যে অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন বলেন, শান্তি শুধু রাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ব্যক্তি, পরিবার, প্রতিষ্ঠান ও সমাজেও শান্তির সূচনা হয়। এ জন্য দৈনন্দিন জীবনে মানুষের আচরণ বোঝা এবং দ্বন্দ্ব নিরসনের গুরুত্ব উপলব্ধি করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের শেষে ধন্যবাদ জানান এনএসইউর সহ-উপাচার্য অধ্যাপক নেছার উদ্দিন আহমেদ। তিনি নিজের নেতৃত্বের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। আবেগীয় বুদ্ধিমত্তা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের বই পড়ার পরামর্শও দেন।

অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্যও দেন অধ্যাপক এম জসিম উদ্দিন। পরে প্রশ্নোত্তর পর্বের মধ্য দিয়ে আয়োজন শেষ হয়।