মুক্তিযুদ্ধের সামরিক স্মারকের অনন্য প্রদর্শনী

ঢাকার বিজয় সরণির বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর শুধু সামরিক সংগ্রহশালা নয়, হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, সামরিক ইতিহাস ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনছবি: তানভীর আহাম্মেদ

ছোট্ট একটি কুঠুরি, তার প্রবেশদ্বার ঢাকা কালো কাপড়ে। ভেতরে পা রাখতেই ভর করে গা শিউরানো রোমাঞ্চ। আবছা আলোয় খানিকটা দৃশ্যমান লাশগুলো যেন সময়কে থামিয়ে দিয়েছে। মাটিতে ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে খণ্ডিত অঙ্গ—কোনোটি পড়ে আছে, কোনোটি আছে ভগ্নাংশ হয়ে মাটির সঙ্গে মিশে। পেছনে বাজছে মুক্তিযুদ্ধের সেই ভয়ংকর অধ্যায়ের বর্ণনা, যেখানে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার চিত্রাবলি আবৃত্তি হয়ে ধ্বনিত হচ্ছে।

যদিও এগুলো আসল লাশ নয়, তবে তা একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্যাতনের সেই দৃশ্যকল্প তৈরি করে দেয়। মুহূর্তের জন্য আমি যেন ফিরে গিয়েছিলাম ১৯৭১ সালে। পুরো দৃশ্য যেন দেখিয়ে দিচ্ছিল, নিরস্ত্র বাঙালির ওপর কী ভয়ানক দুর্দশা নেমে এসেছিল সেই সময়ে! এই দৃশ্য শুধু দর্শককে দেখায় না—এটি অনুভব করায়, ইতিহাসকে মনে করিয়ে দেয়।

একাত্তরে পাকিস্তানি বাহিনীর নির্মম নির্যাতনের সেই দৃশ্যকল্প আধুনিক প্রযুক্তিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

ঢাকার বিজয় সরণিতে অবস্থিত বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে সেনা গ্যালারির উত্তর-পূর্ব প্রান্তে এভাবেই জীবন্ত করা হয়েছে একাত্তরকে। সম্প্রতি গিয়েছিলাম সেখানে, দেখলাম এই জাদুঘরে শুধু সামরিক সংগ্রহশালা নয়, হয়ে উঠেছে মুক্তিযুদ্ধের গৌরব, সামরিক ইতিহাস ও প্রযুক্তির মেলবন্ধন। বাংলাদেশের জন্মযুদ্ধের ইতিহাসে জড়ানো নানা সামরিক উপাদান সেখানে প্রদর্শিত হচ্ছে গুরুত্বের সঙ্গে।

১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন, সার্বভৌম রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই জন্ম বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর। মহান স্বাধীনতা ও দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র সংগ্রামের ইতিহাস, সশস্ত্র বাহিনীর বিবর্তন ও অগ্রযাত্রার তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপন করতেই এই সামরিক জাদুঘরের প্রতিষ্ঠা।

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. তারিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘প্রযুক্তিনির্ভর উপস্থাপনার মাধ্যমে আমরা নতুন প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসের সঙ্গে যুক্ত করতে চাই। শুধু তথ্য নয়, তারা যেন অনুভব করতে পারে—সেই চেষ্টাই করা হয়েছে।’

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে, মিরপুর সেনানিবাসে। এরপর ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের মার্চের মধ্যে এটি স্থানান্তরিত হয় বিজয় সরণিতে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৮৭ সালে, মিরপুর সেনানিবাসে। তখন নাম ছিল ‘আর্মি মিউজিয়াম’। এরপর ১৯৯৭ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৯৯ সালের মার্চের মধ্যে এটি স্থানান্তরিত হয় বিজয় সরণিতে। নতুন নাম হয় ‘বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘর’। ২০১০ সালে সশস্ত্র বাহিনী বিভাগ জাদুঘরটি সংস্কার ও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেয়। বর্তমান ভবনের নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। ২০২২ সালের জানুয়ারিতে আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে তৈরি এই জাদুঘরের বর্তমান সংগ্রহশালার উদ্বোধন হয়।

একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের বেশ কিছু দলিল সংরক্ষিত রয়েছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

১১ হাজার ৫০ বর্গফুটের এই জাদুঘর ছয়টি ভাগে বিন্যস্ত—‘বিজয়াঙ্গন’, ‘সেনা’, ‘বিমান’, ‘নৌ গ্যালারি’, ‘তোশাখানা জাদুঘর’ এবং ‘জাতিসংঘ ও পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তিরক্ষা কর্নার’। তবে কেবল ভাগে ভাগ করা কিছু গ্যালারির সমষ্টি নয় এটি; বরং প্রতিটি অংশ যেন আলাদা একটি সময়ের দরজা।

সেনা গ্যালারিতে রয়েছে বীরত্বসূচক খেতাবপ্রাপ্তদের নামের তালিকা ও সেক্টর কমান্ডারদের পরিচিতি। বিমান গ্যালারিতে উঠে আসে এক অসম সাহসিকতার গল্প—মতিউর রহমান। তাঁর আত্মত্যাগের কাহিনি, সঙ্গে পাকিস্তান থেকে ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করা টি-৩৩ প্রশিক্ষণ বিমানের মডেল—সব মিলিয়ে এক গভীর আখ্যান।

একাত্তরে শিবনারায়ণ দাসের হাতে তৈরি বাংলাদেশের প্রথম পতাকাটি দেখা যাবে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

জাদুঘর পরিদর্শনে অনন্য অভিজ্ঞতা

১৫ মার্চ প্রথম আলোর চারজনের একটি প্রতিনিধিদল সামরিক জাদুঘর পরিদর্শনে যাই। এই জাদুঘরটি প্রচলিত জাদুঘরের মতো নয়। প্রচলিত জাদুঘরে সাধারণত স্থিরভাবে নানা নিদর্শন উপস্থাপন করা হয়। কিন্তু এই জাদুঘরে আধুনিক প্রযুক্তি, যেমন ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি (ভিআর), টাচ স্ক্রিন ডিসপ্লে, ডিজিটাল মানচিত্র এবং মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনের মাধ্যমে ইতিহাসকে জীবন্ত করে তোলা হয়েছে।

ফলে দর্শনার্থীরা শুধু চোখ দিয়ে দেখেন না, বরং একটি পরিপূর্ণ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে ইতিহাসকে উপলব্ধি করতে পারেন। যেমন জাদুঘরে প্রদর্শিত ইন্টারঅ্যাকটিভ মানচিত্রে ১১টি সেক্টরের তথ্য স্পর্শ করলেই মুক্তিযোদ্ধাদের নাম ও দায়িত্ব ভেসে ওঠে। ভিআর ডিসপ্লের মাধ্যমে দর্শক অস্ত্রের কার্যপ্রণালিও দেখতে পারেন।

এই জাদুঘরের বড় শক্তি তার উপস্থাপনায়। বিমানের যন্ত্রাংশ, রাডার, বিভিন্ন মডেল—সব মিলিয়ে প্রযুক্তি আর ইতিহাসের মেলবন্ধনে তৈরি হয়েছে এক অভিজ্ঞতাভিত্তিক জগৎ। নৌ গ্যালারিতে ঢুকলে যেন সমুদ্রের গভীরে নেমে যাওয়ার অনুভূতি—সাবমেরিনের অভিজ্ঞতা, যুদ্ধজাহাজের কাঠামো—জীবন্ত হয়ে ওঠে।

এই গাড়িতে চড়ে একাত্তরে রণাঙ্গন পরিদর্শনে যেতেন মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল আতাউল গণি ওসমানী। তা রয়েছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

সামরিক জাদুঘরে কাচের ভেতর সাজানো অস্ত্র, নথি, দলিল—সবকিছুই যেন একেকটি গল্প বলে। বিশেষভাবে চোখে পড়ে বাংলাদেশের প্রথম জাতীয় পতাকা—শিবনারায়ণ দাসের হাতে তৈরি সেই পতাকা, যা একসময় হয়ে উঠেছিল স্বাধীনতার প্রতীক।

প্রথম তলাতেই দর্শনার্থীকে স্বাগত জানায় ইতিহাসের গভীরতা। কোথাও পলাশীর যুদ্ধ, কোথাও মোগল আমলের সামরিক ঐতিহ্য। একটু এগোলেই বদলে যায় দৃশ্যপট—আধুনিক যুদ্ধক্ষেত্রের অনুকরণে তৈরি বাংকার, তাঁবু, কমান্ড পোস্ট। যুদ্ধ যেন শুধু পড়ার বিষয় নয়, দেখারও—কখনো কখনো অনুভব করারও।

জাদুঘরে প্রবেশ করেই আমরা যাই সেনা গ্যালারিতে। বাংকার, অস্ত্রের সরঞ্জাম, মুক্তিযোদ্ধাদের ব্যবহৃত সামরিক যন্ত্র, পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে উদ্ধার করা গাড়ি, ট্যাংকারসহ নানা সামরিক যন্ত্রপাতিও এখানে প্রদর্শন করা হয়েছে। সেনা গ্যালারি এমনভাবে সাজানো, যা দেখে দর্শনার্থীদের মনে হবে, তাঁরা যেন যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন।

সেখানে রাখা হয়েছে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল এম এ জি ওসমানীর ব্যবহৃত একটি জিপ। মুক্তিযুদ্ধের সময় এই জিপে করে তিনি কলকাতায় বাংলাদেশ ফোর্সেস সদর দপ্তর থেকে সাতক্ষীরা, যশোর, কুষ্টিয়া, পাবনা, রাজশাহী, দিনাজপুর, পঞ্চগড়সহ সীমান্তবর্তী বিভিন্ন রণাঙ্গনে যেতেন মুক্তিযোদ্ধাদের অপারেশন, যুদ্ধের প্রস্তুতি, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিদর্শন করতেন।

১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর ব্যবহৃত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও অস্ত্রের অংশবিশেষও সামরিক জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সময় এগুলো পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে দখল করা হয়। এর মধ্যে অন্যতম সামরিক যন্ত্রাংশ হলো ‘১০০ মিমি ট্যাংকগান ব্যারেল’। একটি সাঁজোয়া যানের অংশবিশেষ। মুক্তিযুদ্ধের পর স্টেশন সদর দপ্তর চট্টগ্রাম ও স্টেশন সদর দপ্তর কুমিল্লার দুটি ‘১০০ মিমি ট্যাংকগান ব্যারেল’। মুক্তিযুদ্ধের স্মারক হিসেবে এগুলো এখন সামরিক জাদুঘরে সংরক্ষিত।

ট্যাংক–বিধ্বংসী অস্ত্র হিসেবে মুক্তিযুদ্ধে ব্যবহৃত হয়েছে ‘৫৭ মিমি রিকয়েলেস রাইফেল (আরআর) টি-৩৬’। এটি সর্বোচ্চ ৪৫০ মিটার দূর থেকে ৬৩ মিমি পর্যন্ত ধাতব বর্মসজ্জিত শত্রুট্যাংক ধ্বংস করতে সক্ষম। মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে থেকে মুক্তিবাহিনী হস্তগত করে। পরে এটি পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর সফলভাবে প্রয়োগ করা হয়। এ রাইফেলও সেনা গ্যালারিতে প্রদর্শন করা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এই ট্রাক কার্গো মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনীর কাছ থেকে দখলে নিয়েছিল বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী। সেগুলো রয়েছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এদিকে বিমান গ্যালারিতে দর্শকেরা ককপিটে বসে উড়োজাহাজের অভিজ্ঞতা নিতে পারেন। হলোগ্রাফিক থিয়েটার, বিভিন্ন বিমান যন্ত্রাংশ এবং ভার্চ্যুয়াল রিয়্যালিটি চেয়ার ইতিহাসকে চোখে, মনে এবং স্পর্শে জীবন্ত করে। নৌ গ্যালারিতে প্রবেশ করলেই মনে হবে সমুদ্রের গভীরতায় হারিয়ে গিয়েছি। সাবমেরিন প্রদর্শনী, ভার্চ্যুয়াল অ্যাকুয়ারিয়াম এবং কিডস জোনে ইন্টারঅ্যাকটিভ খেলার মাধ্যমে সমুদ্রভ্রমণের অভিজ্ঞতা দেওয়া হয়।

সামরিক জাদুঘর থেকে বেরিয়ে আবার যখন শহরের কোলাহলে ফিরে আসা, তখন মনে হয়—কিছুটা সময় যেন অন্য এক বাংলাদেশে কাটিয়ে এলাম, যেখানে ইতিহাস শুধু অতীত নয়, বর্তমানের ভেতরেই বেঁচে আছে।

১৭৫৭ সালে পলাশী যুদ্ধে ব্যবহৃত কামানও রাখা আছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড

থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড হলো একটি বিশেষ প্রদর্শনী এলাকা, যেখানে ত্রিমাত্রিক চিত্রকর্ম ও অপটিক্যাল ইল্যুশনের মাধ্যমে দর্শনার্থীরা একটি ভিন্নধর্মী অভিজ্ঞতা পান। এখানে দর্শনার্থীরা ছবির সঙ্গে মিশে গিয়ে আকর্ষণীয় ছবি তুলতে পারেন। থ্রিডি আর্ট গ্যালারির জন্য নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে টিকিট কাটা যায়।

থ্রিডি আর্ট ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

বুধবার ছাড়া অন্যান্য দিন খোলা

সপ্তাহের রবি থেকে মঙ্গলবার এবং বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা পর্যন্ত খোলা থাকে জাদুঘর। শুক্রবার বেলা ৩টা থেকে সাড়ে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। শনিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত খোলা থাকে। বুধবার বন্ধ থাকে।

বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর ব্যবহৃত নানা অস্ত্রসম্ভার প্রদর্শিত হচ্ছে বাংলাদেশ সামরিক জাদুঘরে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এই জাদুঘরের টিকিট অনলাইন ও অফলাইন দুভাবেই কেনা যায়। এই জাদুঘরের টিকিটের দাম জনপ্রতি ১৫০ টাকা। ৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য টিকিট লাগে না। স্কুলশিক্ষার্থীদের জন্য টিকিটে ছাড় রয়েছে। সামরিক স্কুলগুলোর শিক্ষার্থীরা ৩০ টাকায় এবং অন্যান্য স্কুলের শিক্ষার্থীরা ৫০ টাকায় এই জাদুঘর ঘুরে দেখতে পারবে। বিদেশিদের ক্ষেত্রে সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের জন্য টিকিটের দাম ৫০০ টাকা, অন্য বিদেশিদের জন্য ৮০০ টাকা।