ব্যবসায়ী হত্যা মামলায় আবুল বারকাতের জামিন নামঞ্জুর
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময়ে রাজধানীর নীলক্ষেত এলাকায় ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক আবুল বারকাতের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করেছেন আদালত।
আজ সোমবার ঢাকার মহানগর হাকিম (ম্যাজিস্ট্রেট) কামাল উদ্দীন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালতে আবুল বারকাতের পক্ষে জামিন শুনানি করেন আইনজীবী সারা হোসেন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে জামিনের বিরোধিতা করেন আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন।
শুনানিতে সারা হোসেন আদালতকে বলেন, অধ্যাপক আবুল বারকাত একজন সৎ ও সম্মানিত মানুষ। তিনি দীর্ঘদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়াবলিতে ভূমিকা রেখেছেন। এই মামলার ফরোয়ার্ডিংয়ে তাঁর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা খুবই দুর্বল, ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা। নিঃসন্দেহে তিনি একজন ভদ্র মানুষ। তিনি অসুস্থ এবং দীর্ঘদিন ধরে কারাভোগ করছেন। তাই তাঁর জামিন মঞ্জুরের আবেদন জানাচ্ছি।
এ সময় জামিনের বিরোধিতা করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন বলেন, জুলাই আন্দোলনের সময় ব্যবসায়ী ওয়াদুদ সারা দিনের ব্যবসাপাতি শেষে বাসায় ফিরছিলেন। এই আবুল বারকাত জুলাই আন্দোলনে সন্ত্রাসী আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত হয়ে আন্দোলনে মদদ দেন এবং তিনি ছাত্র জনতার আন্দোলন দমনের অন্যতম অর্থ জোগানদাতা। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্তে আবুল বারকাতের নাম এসেছে। তাঁকে জামিন দিলে অন্যায় হবে; বরং তাঁকে রিমান্ডে নিলে আরও বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে যে তিনি কোন ব্যাংক লুট করে কীভাবে, কোথায়, কত টাকার জোগান দিয়েছেন।
এর আগে গতকাল রোববার পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মহানগর হাকিম মনিরুল ইসলামের আদালত এই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। তবে আসামিপক্ষের জামিন আবেদন থাকায় আদালত আজ সোমবার শুনানির দিন ধার্য করেছিলেন। এর আগে উচ্চ আদালত থেকে একাধিক মামলায় জামিন পান আবুল বারকাত। তবে এ মামলায় জামিন না মেলায় আপাতত তাঁর কারামুক্তি আটকে গেল।
শুনানি শেষে আইনজীবী সারা হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা রায়ের কপির জন্য অপেক্ষা করছি। এরপর উচ্চ আদালতে জামিনের আবেদন জানাব।’
আবুল বারকাতকে গত বছরের ১০ জুলাই রাতে রাজধানীর ধানমন্ডিতে তাঁর বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জালিয়াতির মাধ্যমে জনতা ব্যাংক থেকে অ্যাননটেক্স গ্রুপের নামে ২৯৭ কোটি টাকা ঋণ নিয়ে আত্মসাতের অভিযোগে দুদকের মামলায় তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে জনতা ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন তিনি।
আবুল বারকাত দুদকের ওই মামলায় ৭ জুন আপিল বিভাগ থেকে জামিন পান। তবে এরপরই তাঁকে আবদুল ওয়াদুদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পুলিশের রমনা জোনাল টিমের পরিদর্শক আমজাদ হোসেন তালুকদার।
সেই আবেদনে বলা হয়, জুলাই আন্দোলন চলাকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আওয়ামী লীগ (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ), ছাত্রলীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও আওয়ামী লীগ-সমর্থিত নেতা-কর্মীদের আর্থিক সহায়তা এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার সঙ্গে আবুল বারকাত জড়িত ছিলেন বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলার মধ্যে ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে রাজধানীর নিউমার্কেট থানার নীলক্ষেত এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান ব্যবসায়ী আবদুল ওয়াদুদ। এ ঘটনায় তাঁর শ্যালক আবদুর রব নিউমার্কেট থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ ১৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।