বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের তথ্য ও প্রচার সম্পাদক দীপায়ন খীসা বলেন, ‘বারবার আগুন দেওয়া হচ্ছে, পানিতে বিষ দেওয়া হচ্ছে, আমবাগান কাটা হচ্ছে। এ সবকিছু দিনদুপুরে প্রকাশ্যে হচ্ছে। আমরা যুগের পর যুগ, প্রজন্মের পর প্রজন্ম এখানে বাস করে যাচ্ছি। আজ আমাদের বলা হচ্ছে কাগজপত্র দেখাতে হবে। এখন মনে হচ্ছে সরকার ক্ষমতায় নেই, আছে দখলদারিরা। সরকার বলছে দুর্ভিক্ষ হবে। এদিকে তাদের বাগানের গাছ কেটে দেওয়া হচ্ছে, তাহলে কি লামার গ্রামবাসীরা রাবার খাবেন। তাঁদের বাগান কেন কেটে দিচ্ছেন।’

কবি ও মানবাধিকারকর্মী শাহেদ কায়েস বলেন, ‘আমরা যে মুহূর্তে এখানে সমাবেশ করছি, সে মুহূর্তে এই তিন পাড়ায় দুই শতাধিক মানুষ ভয়াবহ জীবন যাপন করছে। সাত মাস ধরে সেখানে তারা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে। এই কাজ করছে লামা রাবার ইন্ডাস্ট্রিজ, যারা সরকার থেকে লিজ নিয়েছে। যে লিজটাও পুরোপুরি অবৈধ। ২৭ এপ্রিল জুমবাগান পুড়িয়ে দেওয়া হলো, তারপর ধারাবাহিকভাবে বিহারে ভাঙচুর করা হলো, পরে পানিতে বিষ মিশিয়ে দেওয়া হল, ২৬ সেপ্টেম্বর আদিবাসীদের বাগান কেটে দেওয়া হলো। এমন পরিস্থিতি কোনো সভ্য দেশে হতে পারে না। সেই সঙ্গে গ্রামবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাগুলোও প্রত্যাহার করতে হবে।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী পারভেজ হাসেম বলেন, পাহাড়ের ভূমি অনুশীলন ও ভূমি ভোগের ধরন সমতল থেকে ভিন্ন। তবে এখানে নিশ্চিত এ ভূমির মালিকানা ম্রো ও ত্রিপুরা আদিবাসী জনগোষ্ঠীর। সেখানে লিজ নেওয়ার প্রশ্ন আসে না। এই লিজ কখনোই বৈধ নয়।

আদিবাসী ফোরামের ভূমি ও আইনবিষয়ক সম্পাদক উজ্জ্বল আজিম বলেন, ‘ভূমি বেদখল নতুন কিছু নয়, অথচ আদিবাসীরা ভূমিকেই তাদের জীবন মনে করে। আজ সমতলের দিকে তাকান, সিলেটের খাসিদের প্রতিনিয়ত ভূমি রক্ষায় সংগ্রাম করতে হচ্ছে। মধুপুরবাসীদের সংগ্রাম করতে হচ্ছে। একইভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামেও প্রতিনিয়ত এই ঘটনা ঘটছে। রাষ্ট্র আমাদের পক্ষে নেই। পার্বত্য চুক্তি সফল হলে আজ এমন একটি সময় আসত না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক খাইরুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ নির্যাতন থেকে মুক্তি পেয়েছে মাত্র ৫০ বছর হলো, এখন তারা নিজেরাই নির্যাতকের ভূমিকা পালন করে যাচ্ছে। আমি বাঙালি হিসেবে চাই তাদের অধিকার আদায় হোক। আমরা আরেকটা রক্তপাত দেখতে চাই না। উন্নয়নের নামে মানুষকে উচ্ছেদ করে রাবার চাষ করার পরিকল্পনা বন্ধ করতে হবে।’

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি অলীক মৃ। বক্তব্য দেন বাসদের সহসাধারণ সম্পাদক রাজেকুজ্জামান রতন, আদিবাসী নারী নেটওয়ার্কের সদস্যসচিব চঞ্চলা চাকমা, পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিষদের ঢাকা মহানগর শাখার সহসভাপতি সতেজ চাকমা, ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দীপক শীল, বাংলাদেশ যুব ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক খান আসাদুজ্জামান মাসুম প্রমুখ।