ট্রেনের দরজায় ঝুলতে ঝুলতে বললেন, ‘বাড়িতে তো যেতেই হবে’

রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে বনলতা এক্সপ্রেসের ছাদে যাত্রীদের ভিড়। অনেকেই যাচ্ছেন দরজায় ঝুলে। আজ মঙ্গলবার দুপুরেছবি: নোমান ছিদ্দিক

‘বছরে দুটি ঈদে ছুটি পাই। এ সময় যদি পরিবারের কাছে যেতে না পারি, তা হলে আর যাওয়া হবে না। তাই কষ্ট হলেও যেতে হবে, কিছুই করার নেই।’ কথাগুলো বলছিলেন সবুজ মণ্ডল। তিনি ঢাকা থেকে সিরাজগঞ্জে যাচ্ছেন পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে।

আজ মঙ্গলবার ঈদযাত্রার চতুর্থ দিনে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহীগামী বনলতা এক্সপ্রেসে কথা হয় এই যাত্রীর সঙ্গে। আজ সকাল থেকে ছেড়ে যাওয়া আন্তনগর ট্রেনগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। কিছু কিছু ট্রেনের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ঝুঁকি নিয়ে ছাদে করেও যাত্রীদের ঢাকা ছাড়তে দেখা গেছে।

জায়গা না পেয়ে ট্রেনের বগির দরজাতে কোনোমতে বসে পড়েন সবুজ মণ্ডল। তিনি জানান, রাজধানীর একটি হাসপাতালে চাকরি করেন। সব সময় ছুটি পান না। ঈদ এলে তিন থেকে চার দিন ছুটি পান।

বিমানবন্দর স্টেশনে ট্রেনের ভেতরে দাঁড়িয়ে যাচ্ছেন যাত্রীরা। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

টিকিট না পাওয়ার বিষয়ে এই যাত্রী বলেন, ‘অনেক চেষ্টা করেছি। টিকিট পাইনি। সকাল ৮টায় টিকিটের জন্য সাইটে ঢুকেই দেখি টিকিট নাই। তাই কোনো উপায় না পেয়ে স্ট্যান্ডিং টিকিট নিয়েছি। কিন্তু এখানে এসে দেখি প্রচণ্ড ভিড়। তাই কিছুটা ঝুঁকি হলেও উঠে পড়লাম।’

নড়াইলে একটি ব্যাটারি কারখানায় চাকরি করেন মোহন ভট্টাচার্য। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে টাঙ্গাইল যাবেন তিনি। সে জন্য নড়াইল থেকে ট্রেনে করে কমলাপুর আসেন। এরপর টাঙ্গাইল যেতে উঠে পড়েন বনলতা এক্সপ্রেসে। প্রচণ্ড ভিড়ে ট্রেনের দরজায় ঝুলে আছেন তিনি।

বিমানবন্দর স্টেশনে আন্তনগরে ট্রেনে যাত্রীদের হুড়োহুড়ি করে উঠতে হচ্ছে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে
ছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

মোহন ভট্টাচার্য বলেন, ‘আমরা তো নিরুপায়, কী করব? বাড়িতে তো যেতেই হবে। বছরে দুটি ঈদে ছুটি পাওয়া যায়। পরিবারের সঙ্গে ঈদের ছুটি কাটাতে না পারলে তো ভালো লাগবে না। তাই যেভাবেই হোক যেতেই হবে।’

কমলাপুর থেকে সকাল ৮টা ১০ টা মিনিটে ছেড়ে যাওয়া নীলসাগর এক্সপ্রেস ও ১০ টা ৫০ মিনিটে ছেড়ে যাওয়া একতা এক্সপ্রেসে ছাদে অতিরিক্ত যাত্রী দেখা যায়।

দুপুর ১২টার দিকে কমলাপুর রেলওয়ে পরিদর্শনে আসেন বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন। পরিদর্শন শেষে তিনি সাংবাদিকদের জানান, সকাল থেকে বেশির ভাগ ট্রেনই যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তেমন কোনো ঝামেলা হয়নি। যাত্রীরা স্বাচ্ছন্দ্যে বাড়ি ফিরছেন।

ট্রেনের ছাদে যাত্রীদের ওঠা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আফজাল হোসেন বলেন, ‘ট্রেনের ছাদে ওঠা দণ্ডনীয় অপরাধ। আমরা ছাদে উঠতে নিরুৎসাহিত করি। তারপরও মানুষ আইনটা মানে না। তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ছাদে ভ্রমণ করে। আমরা চেষ্টা করি নিয়ন্ত্রণ করার। তবে সব ট্রেন নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। যাত্রীর এত বেশি চাপ থাকে যে অনেক মানুষ ছাদে উঠে যায়, তখন সবাইকে নামাতে গেলেও আবার বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়, ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়।’

ঈদযাত্রার যাত্রীদের চাহিদার আলোকে ট্রেনের সংখ্যা কম বলে জানান রেলওয়ের এই মহাপরিচালক। অতিরিক্ত ট্রেন কেনা ও ঈদযাত্রার জন্য ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর চাহিদাপত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

আরও পড়ুন