বিরিয়ানির প্যাকেট, শিশুদের খেলনা, চিপসের প্যাকেটসহ বিভিন্ন ময়লার মধ্যে প্রায় কাছাকাছি দূরত্বে দুটি কুকুরের মরদেহ পচে ফুলে আছে। দুর্গন্ধে টেকা দায়। পাহাড় আকৃতির ময়লার স্তূপ থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। কোনো কোনো জায়গা থেকে নতুন আগুন উঁকি দিচ্ছে। ধোঁয়ায় দম নেওয়া কঠিন।
গত ২৫ ফেব্রুয়ারি দুপুর ১২টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মাতুয়াইল স্যানিটারি ল্যান্ডফিলে (আবর্জনা ফেলার স্থায়ী জায়গা) গিয়ে এমন অবস্থা দেখা গেল। সেদিন রোদের তেজও ছিল বেশ। কয়েক দিন আগে বড় আগুন লেগেছিল। সেই আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও তাপে তেতে আছে পুরো এলাকা। এমন পরিবেশেই দুই শিশুকে দেখা গেল, ময়লার স্তূপের পাশে বসে সিলভারের টুকরা সংগ্রহ করছে। ল্যান্ডফিলের ভেতরের রাস্তা দিয়ে গরুর খাবারের জন্য ভ্যানভর্তি করে কচুরিপানা নিয়ে যাচ্ছিলেন কয়েকজন। ল্যান্ডফিলের আশপাশের নোংরা পানিতে এ কচুরিপানা হয়েছে। মাইশা নামের এক নারী পুড়ে যাওয়া ময়লা থেকে লোহার বিভিন্ন টুকরা সংগ্রহ করছিলেন। বললেন, ধোঁয়ার কারণে তাঁর চোখ ফুলে গেছে। মাথাব্যথা করছে।
২০ ফেব্রুয়ারি থেকে বাংলাদেশের সব থেকে বড় এ ল্যান্ডফিল আলোচনায়। ফেসবুকেও মানুষ সরব। ল্যান্ডফিলের বর্জ্যে আগুন লাগিয়ে দেওয়ার অভিযোগ ডেমরার মাতুয়াইলসহ আশপাশের মানুষের। তবে ডিএসসিসির পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আগুন লাগানো হয়নি, সূর্যের তাপ আর মিথেন গ্যাসে আগুনটা লাগে, পরে তা ছড়িয়ে পড়ে। যেভাবেই আগুন লাগুক, আগুন লাগার পর এলাকাবাসী আন্দোলনে নামেন। ল্যান্ডফিলটির সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনায় নড়েচড়ে বসে কর্তৃপক্ষ। ল্যান্ডফিলটি পরিবেশদূষণ ও মিথেন গ্যাস নির্গমনের প্রধান উৎসে পরিণত হচ্ছে—এ সতর্কবার্তা বেশি দিন মনে থাকে না কারও।
ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য দুটি প্রধান ল্যান্ডফিল রয়েছে। একটি এই মাতুয়াইলে, অপরটি আমিনবাজারে (উত্তর সিটি করপোরেশনে)। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের দেওয়া তথ্য বলছে, ঢাকা শহরে প্রতিদিন প্রায় ৬ হাজার ২৫০ মেট্রিক টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়, যা এই দুটি ল্যান্ডফিলে অপসারণ করা হয়।
* ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ল্যান্ডফিলটি বর্তমানে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত।
* ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন বলছে, এখান থেকে প্রতি ঘণ্টায় ৪ হাজার কেজি মিথেন নিঃসরণ হয়।
* এই পরিমাণ নির্গমন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজারটি সাধারণ গাড়ি চালানোর সমান ক্ষতিকর।
* প্রতিবছর বারবার আগুন লাগে। আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।
মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল থেকে ফেরার পথে নগর ভবনে কথা হয় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. জহিরুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টি এখনো দুর্বল। ল্যান্ডফিলটিতে ময়লা শুধু ফেলাই হচ্ছে। এলাকা বড় হচ্ছে। ডাম্পিং এলাকার আশপাশে বসতি গড়ে উঠেছে। আগুন লাগলে বিষাক্ত ধোঁয়ায় আশপাশের জনগণের কষ্ট হচ্ছে, তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে আগুন যাতে না লাগে এবং লাগলে তা নিয়ন্ত্রণের জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চালানো হচ্ছে।
সরেজমিনে দেখা গেল, ল্যান্ডফিলটিতে পানির গুণমান, গ্যাস বা বাতাসের মান পরীক্ষার মতো পরিবেশগত নিয়মিত কোনো মনিটরিং কার্যক্রম নেই। এমনকি বর্জ্যকে মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার নিয়মটিও নিয়মিত পালন করা হয় না। তবে তিন মাস ধরে এ কার্যক্রম করছেন সাব কনট্রাক্টে কাজ করা বেনজীর আহমেদ। বর্জ্যবাহী যানবাহন ওয়েব্রিজ (ওজন মাপার যন্ত্র) ব্যবহার না করেই প্রবেশ করছে, ফলে বর্জ্যের পরিমাণের সঠিক তথ্য পাওয়া যায় না। ল্যান্ডফিলটির সব জায়গায় সীমানাপ্রাচীর নেই। নারী, পুরুষ, শিশুরা ভেতরে ঢুকে বর্জ্য থেকে লোহাসহ বিভিন্ন বস্তু সংগ্রহ করছেন।
ল্যান্ডফিলের আগুন নেভানো কঠিন
ল্যান্ডফিলটিতে আগুন লাগলেই ডাক পড়ে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডেমরা স্টেশনের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমরা অনেক বড় বড় আগুন নেভানোর কাজ করি। তবে এই ল্যান্ডফিলের আগুন নেভানোর কাজ করতে কেউ রাজি হতে চান না। এখানে কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লাগে। বিষাক্ত ধোঁয়া এবং তাপে ক্লান্ত হয়ে পড়েন সবাই। আগুন নেভাতে হয় ময়লা থেকে বের হওয়া নোংরা পানি দিয়ে। শরীরে চুলকানি দেখা দেয় সবার। এখানে কাজ করলেই কর্মীরা অসুস্থ হয়ে পড়েন।’
২৫ ফেব্রুয়ারি ভেকু মেশিন দিয়ে আগুনে পুড়ে যাওয়া আবর্জনাগুলোকে নেড়েচেড়ে দেওয়া হচ্ছিল। দীন মোহাম্মদ এ কাজের তদারক করছিলেন। জানালেন, তিনি ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এখানে কাজ করেন। মাস্ক বা রুমাল নাকে না বেঁধে কাজ করতে পারেন না। ব্যাটারি গ্লাস, পলিথিন, নানা কেমিক্যালসহ সব বর্জ্য ফেলা হয় এখানে। বললেন, ‘আগুন লাগলে আমাদের নিজেদেরও কষ্ট হয়। আগুন নেভাতে কষ্ট করতে হয়। তাহলে নিজেরা কেন আগুন লাগামু? আমরা স্টাফেরাও তো মানুষ।’ ল্যান্ডফিলের কাছেই মৃধাবাড়িতে তাঁর বাসা।
ল্যান্ডফিলের ফটক থেকে খানিক দূরেই রোজিনা নামের এক নারী ভাতের হোটেল চালাচ্ছেন ছয় মাস ধরে। তিনি এ এলাকাতেই বসবাস করছেন ২৩ বছর ধরে। হোটেলে অসংখ্য মাছি ভনভন করছে। দুর্গন্ধও আসছে। আগুনের ধোঁয়ায় কষ্ট হয় জানিয়ে রোজিনা বলেন, ‘ধুমাতে তো একটু কষ্ট হয়। শ্বাস নেওয়া যায় না। মেডিক্যালে দৌড়াদৌড়ি করতে হয়। চারপাশে বিচ্ছিরি গন্ধ।’ রোজিনার হোটেলের কাছেই রজব আলীর ওয়েলডিংয়ের কারখানা। তিনিও জানালেন, এলাকার শুধু শিশু না, বড়দেরও জ্বর, শ্বাসকষ্ট, কাশি হচ্ছে।
পূর্ব জুরাইনের বাসিন্দা আল মাহাদী অনার্সে পড়ছেন। মাতুয়াইল ল্যান্ডফিল থেকে প্রায় এক কিলোমিটার দূরে থাকলেও জানালেন, ল্যান্ডফিলের আগুন বড় হলে ধোঁয়ায় তাঁদেরও এলাকায় থাকতে কষ্ট হয়।
সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ল্যান্ডফিলে আগুন লাগার ঘটনা বছরের পর বছর ধরে ঘটেই চলেছে। বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। জনগণকে নিয়ে এমন তামাশা করা সভ্য কোনো জায়গায় ঘটলে সরকার বিব্রত হতো। কিন্তু বাংলাদেশে তা তেমন আলোচনাতেই আসে না।আদিল মুহাম্মদ খান, নগর পরিকল্পনাবিদ
বাংলাদেশ লাং ফাউন্ডেশনের সায়েন্টিফিক সেক্রেটারি বক্ষব্যাধিবিশেষজ্ঞ মো. ফেরদৌস ওয়াহিদ প্রথম আলোকে বলেন, ঢাকার পরিবেশ এমনিতেই বিষাক্ত। ল্যান্ডফিলসহ বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য পুড়িয়ে মানুষ নিজেরাও বাতাসকে দূষিত করছে। দূষিত বাতাস ফুসফুসে ঢুকলে হাঁচি–কাশিসহ নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সুইজারল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের ‘বৈশ্বিক বায়ুমান প্রতিবেদন ২০২৪’ অনুযায়ী বায়ুদূষণে ২০২৪ সালে দেশ হিসেবে দ্বিতীয় অবস্থানে ছিল বাংলাদেশ। আর নগর হিসেবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে ছিল ঢাকা।
বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ বিধিমালা-২০২২-এর ধারা ১২ অনুযায়ী বর্জ্যে বা তার কোনো অংশ যত্রতত্র খোলা অবস্থায় সংরক্ষণ বা পোড়ানো নিষেধ। রাস্তা, সড়ক, মহাসড়কের পাশে কোনো অবস্থায় বর্জ্য পোড়ানো যাবে না। এটি ভঙ্গ করলে দুই বছরের কারাদণ্ড বা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে।
বিপজ্জনক হটস্পট
২৫ একর জায়গায় মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলটি ১৯৮৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে ১৮১ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত হয়েছে। ১০০ একর জায়গায় ময়লা ফেলা হয়ে গেছে। অধিগ্রহণ করা ৮১ একরের মধ্যে প্রায় ৫ একর জায়গাতেও ময়লা ভরাট হয়ে গেছে। ৮১ একরের মধ্যে ৩০ একর জায়গায় প্রযুক্তি ব্যবহার করে বর্জ্য থেকে সার, বিদ্যুৎসহ নানা কিছু উৎপন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সিটি করপোরেশনের। ৩০ একর বাদ দিয়ে যে ৪৫ একর জায়গা থাকবে তাতে খুব বেশি হলে ৮ থেকে ১০ বছর ময়লা ফেললে ভরাট হয়ে যাবে। এই ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ২০০ টন বর্জ্য ফেলা হয়।
ল্যান্ডফিলটিতে মিথেন গ্যাসের উপস্থিতির বিষয়টি নতুন নয়। দেশের বিভিন্ন গবেষণার পাশাপাশি ২০২১ সালের ২৫ এপ্রিল গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান জিএইচজিস্যাটের বরাত দিয়ে ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় চার হাজার কেজি মিথেন নিঃসরণকারী এই বর্জ্য সংরক্ষণাগারটি বর্তমানে একটি বিপজ্জনক হটস্পটে পরিণত হয়েছে। এই বিশাল পরিমাণ নির্গমন প্রায় ১ লাখ ৯০ হাজারটি সাধারণ গাড়ি চালানোর সমান ক্ষতিকর।
২০০৩ সালে জাপান আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা (জাইকা) ল্যান্ডফিলটির উন্নয়নে যুক্ত হয়। ২০২১ সালের ১৮ নভেম্বর ময়লার ভাগাড়ে উৎপন্ন হওয়া গ্যাসের সঠিক পরিমাপ নির্ণয়ে প্রয়োজনীয় গ্যাস অ্যানালাইজার, ড্রোন ও লিচেট (বর্জ্য থেকে নিঃসৃত দূষিত তরল) পরিমাপক যন্ত্র হস্তান্তর করে জাইকা। তবে সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, দক্ষ জনবল ও বাজেট স্বল্পতায় এগুলো নিয়মিত ব্যবহারের সুযোগ মিলছে না। লিচেট পরিশোধন প্ল্যান্টটিও কার্যকর করা সম্ভব হয়নি।
২০০৫ সালে ক্লিন ঢাকা নামে একটি মাস্টারপ্ল্যান বা মহাপরিকল্পনা করা হয়। পরে নিউ ক্লিন ঢাকা মাস্টারপ্ল্যান ২০১৮-২০৩২ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য হলো সমন্বিত এবং টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বর্জ্যহীন শহরে পরিণত করা।
ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া মাতুয়াইল ল্যান্ডফিলের প্রকল্প পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। বললেন, ৩৭ বছরের পুরোনো ল্যান্ডফিলটির বিভিন্ন পকেটে মিথেন গ্যাস জমা হয়েছে। এ থেকে আগুন লাগছে। আশপাশের জনগণের জন্য স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে। ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরাও এ আগুন নেভাতে আসতে চান না। ল্যান্ডফিলে প্রতিদিন ময়লা ফেলার পর মাটি দিয়ে ঢেকে দেওয়ার কাজটি করা সম্ভব হচ্ছে না।
মোহাম্মদ সফিউল্লাহ সিদ্দিক ভূঁইয়া ল্যান্ডফিলের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য বাজেট ও জনবল স্বল্পতার কথা জানালেন। সরকারের সদিচ্ছার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানালেন তিনি।
সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার তাগিদ
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের জেমস পি গ্রান্ট স্কুল অব পাবলিক হেলথের একদল গবেষক ‘ঢাকা ল্যান্ডফিল ওয়াস্ট প্র্যাকটিস: অ্যাড্রেসিং আরবান পলিউশন অ্যান্ড হেলথ হেজার্ডস’ শিরোনামের গবেষণাটি করেন। ২০২১ সালে এটি বিল্ডিংস অ্যান্ড সিটিস জার্নালে প্রকাশিত হয়। এতে মাতুয়াইল ও আমিনবাজার ল্যান্ডফিল দুটি জনবসতি, জলাশয় এবং কৃষিভূমির অত্যন্ত কাছে অবস্থিত হওয়ায় স্থানীয় অধিবাসীরা শ্বাসকষ্ট, চর্মরোগ এবং পেটের সমস্যায় ভুগছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ল্যান্ডফিলের বিষাক্ত তরল বা লিচেট ভূগর্ভস্থ পানি ও মাটিকে দূষিত করছে, যা মৎস্য চাষ এবং কৃষিকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ ছাড়া বর্জ্য পোড়ানোর ধোঁয়া এবং তীব্র দুর্গন্ধ বায়ুদূষণ ঘটিয়ে জনজীবনকে অতিষ্ঠ করে তুলছে।
পরিবেশ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়াউল হক প্রথম আলোকে বলেন, ১ মার্চ দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ল্যান্ডফিলটির আগুন থেকে উৎপন্ন বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে। এর আগেও বিভিন্ন সময় এ বিষয়ে তাগাদা দেওয়া হয়েছে।
ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ও নগর পরিকল্পনাবিদ আদিল মুহাম্মদ খান প্রথম আলোকে বলেন, সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে ল্যান্ডফিলে আগুন লাগার ঘটনা বছরের পর বছর ধরে ঘটেই চলেছে। বিষাক্ত ধোঁয়া আশপাশে ছড়িয়ে পড়ছে। জনগণকে নিয়ে এমন তামাশা করা সভ্য কোনো জায়গায় ঘটলে সরকার বিব্রত হতো। কিন্তু বাংলাদেশে তা তেমন আলোচনাতেই আসে না।