‘আমরা চাই মানুষ যেন গুম, খুনের আতঙ্কে না থাকে’

ডিজিটাল স্ক্রিনে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান দেখছেন দেশের নানা প্রান্ত থেকে আসা মানুষ। মঙ্গলবার মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়েছবি: প্রথম আলো

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ অনুষ্ঠান দেখতে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন আরিফ উল্লাহ। তিনি কক্সবাজার থেকে ঢাকায় এসেছিলেন চিকিৎসার জন্য।

মঙ্গলবার বিকেলে মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে কথা হয় আরিফ উল্লার সঙ্গে। তিনি জানান, ১০ দিন আগে সৌদি আরব থেকে দেশে এসেছিলেন। নতুন সরকারের শপথ শুনে সকাল থেকে অপেক্ষা করছিলেন।

নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা কী, জানতে চাইলে আরিফ উল্লাহ প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমাদের প্রত্যাশা হলো জনগণ যেভাবে বিএনপিকে সাপোর্ট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে, বিএনপি যেন দেশটাকে জনগণের শান্তিপূর্ণ বাসস্থান হিসেবে তৈরি করে। মানুষের জানমালের নিরাপত্তা যেন থাকে।’

অতীতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্বারা গুম-খুনের প্রসঙ্গ তুলে আরিফ উল্লাহ বলেন, ‘আমরা চাই, মানুষ যেন গুম–খুনের আতঙ্কে না থাকে। দেশের আইনশৃঙ্খলা উন্নত হোক, দুর্নীতিমুক্ত হোক। এ ছাড়া শিক্ষাব্যবস্থা যেন পরিবর্তন করা হয়। শিক্ষাব্যবস্থাকে যেভাবে কেবল সার্টিফিকেট বা ডিগ্রিভিত্তিক করে ফেলা হয়েছে, সেটি বাদ দিয়ে কারিগরি বা জীবনমুখী শিক্ষাব্যবস্থা যাতে তৈরি করে।’

মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে দাঁড়িয়ে নতুন মন্ত্রিপরিষদের শপথ দেখছিলেন ঢাকার একটি কলেজের শিক্ষার্থী মাহমুদুল হাসান। নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, যেন সুন্দর একটি বেকারমুক্ত দেশ গড়ে তোলে এবং বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন (পিএসসি) ও অন্যান্য মাধ্যমে অতীতে যেভাবে আমরা প্রশ্ন ফাঁস হওয়ার খবর শুনেছি, এটি যেন না হয়। আর নতুন যে শিক্ষামন্ত্রী আমরা পেয়েছি, আশা করছি, তিনি নকলমুক্ত এবং প্রশ্নপত্র ফাঁস বন্ধে ব্যবস্থা নেবেন।’

মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্যের বহরের সঙ্গে সংসদ ভবনের সামনে এসেছেন মোয়াজ্জেম হোসেন। নতুন সরকারের প্রত্যাশার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘নতুন সরকারের কাছে প্রত্যাশা, সুন্দরভাবে দেশ পরিচালনা করবে। অতীতে ফ্যাসিবাদী সরকার যেভাবে দেশের মানুষের ওপর অত্যাচার করেছে, নতুন সরকার এমন কিছু করবে না এবং সবার সঙ্গে সহনশীল আচরণ করবে। সবার জন্য যাতে সমান আইন থাকে, সবাই যাতে সমান অধিকার পায়।’