বাংলা সাহিত্য ও সংগীতাঙ্গনের প্রতিভাধর কবি-গীতিকার আবু হেনা মোস্তফা কামালের জীবন, সাহিত্যকর্ম ও সমাজভাবনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) বিশেষ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ‘আবু হেনা মোস্তফা কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক এই মূল অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ ও বাংলা একাডেমির যৌথ উদ্যোগে কবি সুফিয়া কামাল ও আবু হেনা মোস্তফা কামালের স্মরণে দুই দিনব্যাপী এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সোমবার ছিল সেমিনারের দ্বিতীয় দিন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক সাবিনা শরমীন বলেন, আবু হেনা মোস্তফা কামালের সাহিত্যকর্মে সৃজনশীলতা ও প্রজ্ঞার এক অনন্য সংমিশ্রণ রয়েছে। তাঁর রচনায় সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা স্পষ্ট, যা সাহিত্যকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সাহিত্য ও সংস্কৃতির ধারা ধারণ করে সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে নিজেদের বিকশিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে তাঁরা নিজেদের কর্মে পূর্বসূরিদের ছাড়িয়ে যেতে পারেন।
সাহিত্যের সামাজিক ভূমিকার প্রসঙ্গ টেনে কোষাধ্যক্ষ আরও বলেন, অতীতের সাহিত্যকর্মে সমাজের প্রতি গভীর অঙ্গীকারবোধ ছিল। সাহিত্যিকদের সঙ্গে সমাজের নিবিড় সম্পর্ক তাঁদের সৃষ্টিকে সমকালীন বাস্তবতায় প্রাসঙ্গিক করে তুলেছে। আবু হেনা মোস্তফা কামালের সাহিত্যকর্মও এর উজ্জ্বল উদাহরণ।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন জবির বাংলা বিভাগের অধ্যাপক চঞ্চল কুমার বোস। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আরজুমন্দ আরা বানু।
দ্বিতীয় দিনের মূল প্রবন্ধ ‘কবিতা ও গানে কবি আবু হেনা মোস্তফা কামাল’ উপস্থাপন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক শামীম আরা। প্রবন্ধের ওপর আলোচনা করেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুমন সাজ্জাদ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সোহানা মাহবুব। আলোচকেরা আবু হেনা মোস্তফা কামালের কবিতা, গান ও সামগ্রিক সাহিত্যকর্মের ভাষাশৈলী, নান্দনিকতা ও সমকালীন প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
এর আগে দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনের প্রথম দিনে ‘সুফিয়া কামাল: জীবন ও কর্ম’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেমিনারে বাংলা বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক এবং সাহিত্য-সংস্কৃতিমনা মানুষেরা উপস্থিত ছিলেন।