ঠাকুরবাড়ির নারীরা যেন মঞ্চে উঠে এলেন
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ১৬৫তম জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁকে স্মরণ করে আয়োজিত অনুষ্ঠানে দেখা গেল কবিগুরুর গল্প-উপন্যাসের নারী চরিত্র ও ঠাকুরবাড়ির নারীদের।
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের উপন্যাস, গল্প, নাটকের চরিত্রগুলো যেন উঠে এল বাস্তবে। তাদের সঙ্গে ছিলেন কলকাতার বিখ্যাত জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির নারীরা। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাঁদের পদচারণে মুখর হলো রাজধানীর লেক শোর হোটেলের ‘লা ভিটা ব্যাংকোয়েট হল’। কবির ১৬৫তম জন্মদিনের প্রাক্কালে তাঁকে স্মরণ করে ‘নব আনন্দে জাগো’ নামের অনুষ্ঠানে দেখা গেল কবিগুরুর গল্প–উপন্যাসের নারী চরিত্র ও ঠাকুরবাড়ির নারীদের। সঙ্গে ছিল কবির গান ও নৃত্য পরিবেশনা।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনের ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ও ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল অব বাংলাদেশ যৌথভাবে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে সহায়তা দিয়েছে সিটি ব্যাংক, পাওয়ার্ড বাই রাঁধুনী।
সন্ধ্যায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই ভারতীয় হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বলেন, কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ভারত ও বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও শ্রদ্ধা–ভালোবাসার আসনে রয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি উভয় দেশের মানুষের মধ্যে সংযোগ হিসেবে বিরাজ করছেন। তাঁর গান দুই দেশেরই জাতীয় সংগীত। জন্মদিনে তাঁকে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হচ্ছে।
ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল বাংলাদেশের সভাপতি মাহিন খান দর্শকদের স্বাগত জানিয়ে বলেন, কবির জন্মদিনে ঠাকুরবাড়ির নারীদের বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। কারণ, উনিশ শতকের নারী জাগরণে ঠাকুরবাড়ির নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর সঙ্গে কবির সৃষ্টি থেকে উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্রগুলোও তৎকালীন পোশাক ও সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে।
সিটি ব্যাংকের ডিএমডি আশানূর রহমান বলেন, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর দুই বাংলার মানুষের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার হিসেবেই রয়েছেন। বাংলা ভাষা যত দিন থাকবে, তিনিও তত দিন বাংলার মানুষের হৃদয়জুড়ে থাকবেন।
কবির জন্মদিনে ঠাকুরবাড়ির নারীদের বিশেষভাবে স্মরণ করা হচ্ছে। কারণ, উনিশ শতকের নারী জাগরণে ঠাকুরবাড়ির নারীরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন। এর সঙ্গে কবির সৃষ্টি থেকে উল্লেখযোগ্য নারী চরিত্রগুলোও তৎকালীন পোশাক ও সাজসজ্জার মধ্য দিয়ে তুলে ধরা হবে।মাহিন খান, সভাপতি, ফ্যাশন ডিজাইন কাউন্সিল বাংলাদেশ
জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ির নকশার আদলে সাজানো হয়েছিল মঞ্চ। সেখানে বসে সংগীত ও বাচিক শিল্পীরা কবির গান, রচনা থেকে পাঠ ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন। সেই পরিবেশনার সঙ্গে মিলিয়ে মঞ্চের সামনের র্যাম্পে পদচারণ করেন বিভিন্ন চরিত্রের নারীরা। মাঝে মাঝে ছিল নৃত্য।
পরিবেশনা শুরু হয়েছিল সমবেত কণ্ঠে ‘নব আনন্দে জাগো’ গানটি দিয়ে। এরপর কবির দুই বউদি জ্ঞনদানন্দিনী দেবী ও কাদম্বরী দেবীর সজ্জায় মঞ্চে আসেন মডেলরা। একটি করে গানের সঙ্গে র্যাম্পে আসেন দুই নারী। ‘আজ ঝড়ের রাতে’ গানের সঙ্গে আসেন কবির বড় বোন স্বর্ণকুমারী দেবী ও স্ত্রী মৃণালিনী দেবী। এভাবেই পর্যায়ক্রমিকভাবে র্যাম্পে আসেন কবির দুই কন্যা মাধুরীলতা ও রেণুকা, পুত্রবধূ প্রতীমা দেবীসহ ঠাকুরবাড়ির বিভিন্ন নারী। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ইন্দিরা দেবী চৌধুরানী, সরলা দেবী, সুনয়িনী দেবী, শোভনা সুন্দরী দেবী ও দেবিকা রানী চৌধুরানী।
এরপর র্যাম্পে আসেন কবির সৃষ্ট নারী চরিত্রেরা। তাঁদের মধ্যে ছিলেন ঘরে–বাইরে উপন্যাসের বিমলা, মানভঞ্জন–এর গিরিবালা, যোগাযোগ–এর কুমিদিনী, স্ত্রীর পত্র–এর মৃণাল, নষ্টনীড়–এর চারুলতা, নৌকাডুবির হেমনলিনীসহ অনেকে।
এ ছাড়া চণ্ডালিকা, চিত্রাঙ্গদা, শ্যামা নৃত্যনাট্য ও ভানুসিংহের পদাবলীর গানের সঙ্গে ছিল নৃত্য পরিবেশনা।
পরিবেশিত গানগুলোর মধ্যে আরও ছিল ‘এ কি লাবণ্যে পূর্ণ প্রাণ’, ‘চির সখা হে’, ‘তুমি তো সেই যাবেই চলে’, ‘আমার এ পথ’, ‘সে কোন বনের হরিণ’ এমন অনেকগুলো গান। সাজসজ্জা, গান–নৃত্যের এই ব্যতিক্রমী আয়োজন দর্শকদের মুগ্ধ করে।











