ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উন্নয়নে জাতীয় নীতি তৈরির তাগিদ
দেশের বিভিন্ন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার উন্নয়নে একটি জাতীয় নীতি তৈরির তাগিদ দিয়েছেন বিশিষ্টজনেরা। তাঁরা, বিশেষ করে সমতলের এসব জাতির মানুষের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠনেরও দাবি করেছেন।
মানবাধিকার সংগঠন কাপেং ফাউন্ডেশন এবং ইন্ডিজেনাস পিপলস ডেভেলপমেন্ট সার্ভিসেসের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এক সেমিনারে এ কথা বলেন। ‘সমতলের আদিবাসীদের ভূমি, অঞ্চল এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অধিকার এবং সরকারের ভূমিকা’ শীর্ষক জাতীয় সেমিনার অনুষ্ঠিত হয় গতকাল রোববার। রাজধানীর ঢাকার ওয়াইডব্লিউসিএ কনফারেন্স কক্ষে এর আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সঞ্জীব দ্রং বলেন, ‘ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর উন্নয়নের জন্য একটি জাতীয় উন্নয়ন নীতি দরকার। এ লক্ষ্যে আমাদের আন্দোলনকে জোরদার করতে হবে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে হবে। এ জন্য আদিবাসী তরুণদের মধ্যে দক্ষতা অর্জন করতে হবে।’
অনুষ্ঠানের অতিথি ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক সচিব সেবাস্টিন রেমা। তিনি বলেন, আদিবাসীদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য কাজ করতে হবে। উন্নয়নের জন্য সক্ষতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই।
অনুষ্ঠানে বেসরকারি সংগঠন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, এই সরকারের সময়ে অনেকগুলো অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে, যেগুলোর অনেকগুলো এখনো আইন করা হয়নি। যে অধ্যাদেশগুলোতে আদিবাসীদের বিষয়ে বিভিন্ন সমস্যা রয়ে গেছে, সেগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে হবে। তিনি বলেন, একটি বন কমিশন গঠন করতে হবে, যেখানে বিভিন্ন অঞ্চলের আদিবাসীরা প্রতিনিধিত্ব করবে, যারা বন বিভাগের কর্মকর্তা, কর্মচারীদের কাজের তদারক করবে। এগুলো ব্যতীত বন বিভাগ বন সংরক্ষণ করতে পারবে না, সঙ্গে আদিবাসীদের অধিকারও সংরক্ষিত হবে না।
সেমিনারে গবেষক পাভেল পার্থ আদিবাসীদের ঐতিহ্যবাহী জ্ঞান সংরক্ষণের কথা বলেন।
হ্লাম্রাচিং চৌধুরীর সঞ্চালনায় আরও বক্তব্য দেন যুগ্ম সচিব ব্রেঞ্জন চাম্বুগং, প্রথম আলোর সহকারী বার্তা সম্পাদক পার্থ শঙ্কর সাহা, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ইউজিন নকরেক, আদিবাসী নেত্রী মনিকা খংলা, রিপন বানাই, প্রবীণ চিসিম, লিয়াং রিছিল, সেরিলা লামিন, ফালগুনী ত্রিপুরা প্রমুখ।
আলোচনায় মধুপুর বনের সেখানকার গারোদের ভূমি অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান জানানো হয়। আদিবাসীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের কথা বলা হয়।
মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন উজ্জ্বল আজিম। তিনি পাঁচটি দাবি তুলে ধরেন। সেগুলো হলো আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি, সমতলের জাতিসত্তার মানুষের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন, জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আদিবাসী প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে আদিবাসীবান্ধব পরিবেশ তৈরী করা, ক্ষুদ্র জাতিসত্তার ভাষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সংরক্ষণে প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তাসহ পাঠ্যপুস্তক ও গণমাধ্যমে মর্যাদাপূর্ণ ও ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা।
অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন কাপেং ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক পল্লব চাকমা। তিনি বলেন, দেশের আদিবাসীদের নিয়ে চিন্তা করার মানুষ কম। সেই পটভূমিতে সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন অংশীজনকে সঙ্গে নিয়ে এ ধরনের উদ্যোগ আরও বেশি করে নিতে হবে।