নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি ডাকসুর, ডিন বললেন ‘মিথ্যাচার’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদছবি: সংগৃহীত

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাডেমিক ভবনের একটি লিফট দীর্ঘদিন ধরে অকেজো। এটি সংস্কার বা নতুন লিফট স্থাপন ইস্যুতে পাল্টাপাল্টি দাবি করেছে অনুষদ ও ডাকসু।

ডাকসুর দাবি, তারা একটি নতুন লিফটের ব্যবস্থা ইতিমধ্যে করেছে। প্রশাসন চাইলে এক দিনের মধ্যে নতুন লিফট আনার ব্যবস্থা করতে পারবে তারা।

অন্যদিকে অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিন অধ্যাপক আল আমিনের দাবি, লিফট সচল কিংবা দরকারে নতুন লিফট স্থাপনের উদ্যোগ তিনি আগেই নিয়েছেন। ডাকসুর পক্ষ থেকে নতুন লিফটের ব্যবস্থার দাবিকে তিনি প্রচারের নামে ‘মিথ্যাচার’ বলে অভিহিত করেছেন।

শিক্ষার্থীদের জন্য স্থাপিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে বলে ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদ সূত্রে জানা যায়। লিফটটি অকেজো থাকায় শিক্ষার্থীদের সমস্যা হচ্ছে।

গতকাল রোববার রাতে নিজের ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে অধ্যাপক আল আমিন বলেন, তিনি ৩ সেপ্টেম্বর অনুষদের ভারপ্রাপ্ত ডিনের দায়িত্ব নেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে তিনি অনুষদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে কাজ করছেন। এর মধ্যে লিফটের সমস্যাও আছে। ৬ সেপ্টেম্বর তিনি কারিগরি কমিটির সঙ্গে কথা বলে ১৫ দিনের মধ্যে লিফটটি সচল করার উদ্যোগ নিয়েছেন। নতুন লিফট প্রয়োজন হলে সেটিরও ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসব উদ্যোগের কথা তিনি অনুষদের অফিশিয়াল ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করেছেন।

অধ্যাপক আল আমিন আরও লিখেছেন, ডাকসুর ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট–বিষয়ক সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম তাঁকে ফোন করে লিফট লাগিয়ে দেওয়ার কথা জানান। তখন তাঁকে বলা হয়, লিফটের ব্যবস্থা তিনি (আল আমিন) নিজেই করছেন, ডাকসুর সহায়তার প্রয়োজন নেই। এরপর ডাকসুর সহসভাপতি (ভিপি) সাদিক কায়েম তাঁর সঙ্গে দেখা করতে চান। রোববার বেলা ১১টায় সাক্ষাতের কথা ছিল। কিন্তু সাদিক কায়েমকে ছাড়া ডাকসুর অন্য সদস্যরা দুপুর ১২টার কিছু আগে তাঁর কার্যালয়ে আসেন। সাদিক কায়েমের মা অসুস্থ থাকায় তিনি আসতে পারেননি বলে তাঁকে জানান ডাকসুর সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এস এম ফরহাদ। তিনি (আল আমিন) তখন তাঁদের বলেন, ‘আপনাদের কনসার্নের জন্য ধন্যবাদ। তবে লিফটের ব্যবস্থা আমি করছি, আপনাদের কোনো সহায়তার দরকার নেই।’ এরপর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন প্রচার দেখতে পান যে লিফটের ব্যবস্থা করেছে ডাকসু।

ডাকসুর এমন দাবি প্রসঙ্গে অধ্যাপক আল আমিন তাঁর পোস্টে লিখেছেন, ‘কোনো কিছুর সমাধান না করে, পাবলিসিটির নামে মিথ্যাচার করা কোনো রাজনৈতিক আদর্শ হতে পারে না।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. আহসান হাবিব প্রথম আলোকে বলেন, লিফটটি সচল করতে অনুষদের ডিন তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। আজ সোমবারই কাজ শুরু হবে।

গতকাল রাত ১০টার দিকে ডাকসু নেতা মাজহারুল ইসলাম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের একাডেমিক ভবনে শিক্ষার্থীদের জন্য ২০০৬ সালে স্থাপিত লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে অকেজো অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ডাকসুর পক্ষ থেকে তাঁরা একটি নতুন লিফটের ব্যবস্থা করেছেন। ডিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাঁরা জানিয়েছেন যে প্রশাসন যখনই চাইবে, নতুন লিফট চলে আসবে, স্থাপনের কাজ শুরু হবে। তাঁরা নতুন লিফট স্থাপনে প্রশাসনের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, লিফটের সমস্যাটি দীর্ঘদিনের। আগের ডিনের সময় থেকেই তাঁরা নতুন লিফটের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়ে আসছেন। গত আগস্টে উপাচার্যের সঙ্গে ডাকসুর কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় বিষয়টি ওঠে। তখন লিফটের দায়িত্ব ডাকসুকে নিতে বলা হয়। এরপর তাঁরা বিভিন্ন জায়গায় যোগাযোগ করেন। একটি নতুন লিফটের জন্য স্পনসর জোগাড় করেন। অধ্যাপক আল আমিন দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি পুরোনো লিফট সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। ডাকসুর সংগ্রহ করা নতুন লিফট তিনি নিতে চাননি। তাই তাঁরা শুধু শিক্ষার্থীদের অবগতির জন্য জানিয়েছেন, প্রশাসন চাইলে এক দিনের মধ্যে নতুন লিফট আনার ব্যবস্থা করতে পারবেন তাঁরা। এখানে ‘পাবলিসিটির নামে মিথ্যাচারের’ কোনো সুযোগ নেই।

নতুন লিফট আনার দায়িত্ব ডাকসুকে দেওয়া হয়নি বলে জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম। তিনি আজ প্রথম আলোকে বলেন, ‘এখানে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আমাকেও জড়ানোর চেষ্টা করছে ডাকসু। আমি এমন কোনো দায়িত্ব (লিফট সংগ্রহ) ডাকসুকে দিইনি। লিফট ডাকসু কেন ব্যবস্থা করবে? ডাকসু প্রশাসনকে জানাতে পারে। প্রশাসনই তার ব্যবস্থা করবে।’