মামলায় কাউন্সিলর মাসুম মোল্লাকে প্রধান আসামি ও তাঁর ভাগনির স্বামী আকরাম উজ্জামান ওরফে উজ্জ্বল মোল্লাকে দুই নম্বর আসামি করা হয়। এতে ২০-২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।

পুলিশ সূত্র জানায়, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার এলাকায় সিটি টোলের নামে চাঁদা তোলাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের দ্বন্দ্বে ইমরান হোসেন খুন হন। মামলার এজাহারেও চাঁদা তোলার দ্বন্দ্বের জেরে খুনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ইমরান সিটি টোলের নামে নয়, চাঁদা তুলতেন ঢাকা জেলা ট্রাক ট্যাংকলরি কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের নামে।

মামলার এজাহারে ইমরানের স্ত্রী পপি আক্তার উল্লেখ করেন, ইমরান পেশায় একজন পিকআপশ্রমিক। পাশাপাশি তিনি পিকআপ, ট্রাকের কুলি মজুরির টোল আদায় করেন। টোল আদায়কে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামী খুন হয়েছেন। মামলার দুই নম্বর আসামি উজ্জ্বল মোল্লা, তাঁর সহযোগী মোহাম্মদ আলী ও মো. আরিফ চাপাতি, ছুরি ও রামদা দিয়ে ইমরানকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ইমরানকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লা।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—মো. মোস্তাকিম, মো. শুভ, তানজিল মিয়া, বুলু বাবু, পলাশ, জামাল, রাজিব, রমজান মোল্লা, জাহিন, দেলা, হাসান, সাগর, রাজু, সুমন, ফয়সাল, পারভেজ, সোহেল ও রাজন। তাঁরা সবাই মাসুম মোল্লা ও আকরামের সহযোগী হিসেবে পরিচিত।

পুলিশের ওয়ারী বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাস প্রথম আলোকে বলেন, ইমরান হত্যার ঘটনায় মোস্তাকিম, শুভসহ মামলায় নাম থাকা পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ বিষয়ে বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

মামলার বিষয়ে জানতে প্রধান আসামি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫০ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মাসুম মোল্লার মুঠোফোনে কয়েক দফা যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র বলছে, যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার আড়ত এলাকায় সিটি টোলের নামে আকরাম মোল্লার লোকজন আগে চাঁদা তুলতেন। তবে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে এই চাঁদা তুলছিলেন আল-আমিনের লোকজন। এ নিয়ে দুই পক্ষের দ্বন্দ্ব চলছিল। চাঁদা তোলার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে আকরামের লোকজন কয়েক দিন আগে আল-আমিনের লোকজনকে মারধর করেছিলেন। গতকাল মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে আবারও হামলা করতে আসে তাঁর লোকজন। আল-আমিনের দলের সদস্য মনে করে ইমরানসহ তিনজনের ওপর তাঁরা হামলা চালান। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে ইমরানের মৃত্যু হয়।