ঢাকা উত্তর সিটির ২৯টি খাল দখলমুক্ত করা হবে, ঘোষণা প্রশাসকের

ঢাকা উত্তর সিটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খানছবি: উত্তর সিটির সৌজন্যে

রাজধানীর ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) আওতাধীন মুসলিম বাজার খালসহ ২৯টি খাল পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, খাল উদ্ধার না করলে ঢাকা শহরকে রক্ষা করা সম্ভব হবে না।

আজ সোমবার মিরপুর-১০ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে ঢাকা উত্তর সিটির বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

শফিকুল ইসলাম খান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা-আবর্জনা ফেলা ও দখলের কারণে রাজধানীর অধিকাংশ খাল ভরাট হয়ে গেছে। এসব খাল উদ্ধার করা নগরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য জরুরি। তিনি বলেন, ‘যত বাধাই আসুক, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে ঢাকা উত্তর সিটির ২৯টি খাল দখলমুক্ত করা হবে।’

প্রশাসক জানান, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণার অংশ হিসেবে ডিএনসিসি পাঁচ লাখ গাছের চারা রোপণ করবে। সেই কর্মসূচির অংশ হিসেবেই আজ বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। নগরবাসীকে ছাদবাগান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবুজায়নের পাশাপাশি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও সচেতন থাকতে হবে। ছাদে বা বিভিন্ন পাত্রে যাতে কোথাও পানি জমে না থাকে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

প্রশাসক নগরবাসীকে যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং পরিচ্ছন্ন ও সবুজ ঢাকা গড়তে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন।

টার্মিনালে অবৈধ স্থাপনা ও বাসের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

একই দিন বিকেলে গাবতলী বাস টার্মিনাল পরিদর্শন করেন প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, টার্মিনালে যেসব অবৈধ স্থাপনা রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী কোনো বাস টার্মিনালে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান বা মেরামত করার সুযোগ নেই। কিন্তু গাবতলী বাস টার্মিনালে দীর্ঘদিন ধরে এমন কার্যক্রম চলছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রশাসক বলেন, গাবতলী দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তজেলা বাস টার্মিনাল। উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যাত্রীরা এই টার্মিনাল ব্যবহার করেন। টার্মিনালের ভেতর ও বাইরে যাত্রীসেবার অবস্থা, অবৈধ স্থাপনা এবং অন্যান্য সমস্যা দেখতেই তিনি পরিদর্শনে গিয়েছেন। পরিদর্শন শেষে টার্মিনালে যাত্রীদের বসার ব্যবস্থা উন্নত করা, যাত্রীছাউনি ও ছাদের সংস্কার এবং অভ্যন্তরীণ সড়ক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।