পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর। এর মাধ্যমে দুই দশকের সশস্ত্র লড়াইয়ের অবসান হয় পাহাড়ে। আগামী ২ ডিসেম্বর চুক্তির ২৫ বছর পূর্ণ হবে।
পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরের ২৫ বছর উদ্‌যাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ গোলটেবিল বৈঠকে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ বাংলাদেশের (রিইব) নির্বাহী পরিচালক মেঘনা গুহঠাকুরতা। তিনি বলেন, চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্যে সরকারের হিসাবে ৪৮টি ধারা সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির হিসাবে এ সংখ্যা মাত্র ২৫টি। ভূমি-বিরোধ নিষ্পত্তি কমিশন আইন ২০০১ সংশোধিত হলেও এখন পর্যন্ত বিধিমালা চূড়ান্ত না হওয়ায় ২২ হাজারের বেশি আবেদন পড়ে আছে।

বৈঠকে চাকমা সার্কেলপ্রধানের উপদেষ্টা রানী য়েন য়েন বলেন, নিরাপত্তার নামে পাহাড়ে অনিরাপত্তা আরও বাড়ছে। ২০২১ সালে পার্বত্যাঞ্চলে নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতার ২৪টি ঘটনার মধ্যে ১১টি ধর্ষণের ঘটনা। অপরিকল্পিত পর্যটনশিল্প তৈরি হচ্ছে, যেখানে স্থানীয় ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে না। আবার নারীদের জন্য ঝুঁকিও বাড়ছে।

প্যানেল আলোচনা পর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেন, ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিরতা বজায় রাখার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের নিজেদের মধ্যেও ঐক্যের অভাব আছে। তাদের নিজেদের মধ্যে একতা ও অধিকার আদায়ের দাবি জোরালো করতে হবে।

বেসরকারি সংগঠন এএলআরডির নির্বাহী পরিচালক শামসুল হুদা বলেন, পাহাড়ে সংঘাত বজায় রেখে ঝকঝকে বাংলাদেশ তৈরি কখনো সম্ভব নয়।

আয়োজনের সঞ্চালনা করেন নিজেরা করির সমন্বয়ক এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশনের (সিএইচটি কমিশন) সদস্য খুশী কবির। তিনি বলেন, চুক্তি করে প্রতারণার উদাহরণ হচ্ছে ১৯৯৭ সালে করা পার্বত্য চুক্তি।

আজকের বৈঠকের আয়োজক প্রতিষ্ঠানগুলো ছিল এলএলআরডি, পার্বত্য চট্টগ্রাম কমিশন, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম ও কাপেং ফাউন্ডেশন।