পয়লা বৈশাখে ঢাকায় নারী হেনস্তার দাবিতে ছড়ানো ভিডিওটি ভারতের

‘নতুন বাংলাদেশে পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী মহিলাকে যৌন নির্যাতন’ ক্যাপশন দিয়ে ২১ সেকেন্ডের একটি ভিডিও দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার দেশে বাংলা বর্ষবরণের উৎসব চলার মধ্যে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটিতে দেখা যাচ্ছে, একজন সন্তানসম্ভবা নারী প্রকাশ্যে রাস্তায় হেনস্তার শিকার হয়েছেন।

কোথাও কোথাও ভিডিওটি পোস্ট করে দাবি করা হচ্ছে, ‘পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী মহিলাকে যৌন নির্যাতন করে বিএনপির সন্ত্রাসী’ আবার কোথাও দাবি করা হচ্ছে, ‘এই ভাবে মা-বোনদের নিরাপত্তা দিচ্ছে সরকার?’

‘পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরে গর্ভবতী মহিলাকে যৌন নির্যাতন।’

ঢাকার মোহাম্মদপুরের ঘটনা দাবি করে ছড়ানো ভিডিওটির মন্তব্যের ঘরে অনেকেই এতে বাংলাদেশের রাজধানীর ঘটনা ধরে নিয়েই প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

তবে ভিডিওটির কয়েকটি কি-ফ্রেমের সাহায্যে রিভার্স ইমেজ সার্চে ইউটিউবে ‘রাজস্থান তাক’ নামে একটি ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলে এটি পাওয়া যায়। এ বছরের ১২ এপ্রিল আপলোড করা ভিডিওটির ক্যাপশনে বলা হয়েছে, ‘ফোনে কথা বলার সময় এক নারীকে এক ব্যক্তি আক্রমণ করেছে! এই ঘটনা জয়পুরে নারীদের নিরাপত্তার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছে!’

পরবর্তী অনুসন্ধানে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে টাইমস অব ইন্ডিয়াসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত প্রতিবেদন পাওয়া যায়। ১৩ এপ্রিল প্রকাশিত টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, এ বছরের ২৫ মার্চ সন্ধ্যা আনুমানিক সোয়া ৬টার দিকে জয়পুরের মালভিয়া নগরের সেক্টর ৯-এর কাছে একটি গলিতে এই ঘটনা ঘটে।

অভিযোগ অনুযায়ী, এক ব্যক্তি পেছন থেকে এসে ওই নারীর ওপর চড়াও হন। ওই নারী চিৎকার করলে হামলাকারী ব্যক্তি তাঁকে পাথর দিয়ে ভয় দেখিয়ে পালিয়ে যান। এই প্রতিবেদনের সঙ্গে স্থির ছবি যুক্ত রয়েছে, যা আলোচিত ভিডিওর সঙ্গে মেলে।

এই ঘটনা নিয়ে ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে আরও প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। তাতে অবহেলার অভিযোগে ১২ এপ্রিল দুই পুলিশ সদস্যকে বরখাস্তের কথাও জানা যায়।

কাজেই ঘটনাটি পয়লা বৈশাখে মোহাম্মদপুরের নয়, গত মার্চে ভারতের রাজস্থান রাজ্যের রাজধানী জয়পুরে ঘটেছে।

এর আগে পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে দাবি করা হয়, রমনা পার্কে দুর্বৃত্তদের দ্বারা বোমা বিস্ফোরণ, নিয়ন্ত্রণে আনল পুলিশের সোয়াট এবং ডগ স্কয়াট টিম। আবার কোথাও দাবি করা হয়, পয়লা বৈশাখ উপলক্ষে রমনা পার্কে আতঙ্কবাদীর হামলা, পুলিশের হাতে ধরা।

যাচাইয়ে জানা যায়, প্রচারিত ভিডিওটি বাস্তব কোনো জঙ্গি হামলার ঘটনা নয়। এটি ১৪ এপ্রিল বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে রাজধানীর রমনা পার্কে পুলিশের বিশেষায়িত টিমের মহড়ার ভিডিওকে বাস্তব দাবিতে প্রচার করা হচ্ছে।

দৈনিক ইত্তেফাকের ইউটিউব চ্যানেলে ১২ এপ্রিল প্রচারিত একটি ভিডিও পাওয়া যায়। ক্যাপশনে বলা হয়েছে, এটি পুলিশের সোয়াট টিমের মহড়ার ভিডিও। ওই ভিডিওর সঙ্গে আলোচিত ভিডিওর মিল রয়েছে।

লিংক: এখানে

এ ছাড়া ভিডিওতে সাংবাদিককেও ওই দৃশ্যটি মহড়ার বলে উপস্থাপন করতে শোনা যায়। ওই মহড়ার একাধিক ভিডিও মূলধারার গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে।

লিংক: এখানে, এখানে, এখানে

পাশাপাশি প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চ করে সাম্প্রতিক সময়ে রমনা পার্কে জঙ্গি হামলার কোনো তথ্য সংবাদমাধ্যম কিংবা কোনো সূত্রে পাওয়া যায়নি; বরং গতকাল রমনা পার্কে ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠান নির্বিঘ্ন হয়েছে, এমন সংবাদ, ছবি, ভিডিও সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাওয়া যাচ্ছে।

ফলে রমনা পার্কে জঙ্গি হামলার ঘটনা দাবি করে প্রচারিত দাবিটি ঠিক নয়।

তবে রমনা পার্কে ছায়ানটের বর্ষবরণের অনুষ্ঠানে ২০০১ সালে বোমা হামলা হয়েছিল, তাতে অন্তত ১০ জন নিহত হন।