অনুষ্ঠানে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, থানার দরজা কখনো বন্ধ হয় না, ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকে। পুলিশের ওপর জনগণের যে ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগিয়ে এই বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও বাড়াতে হবে। মানুষের প্রত্যাশা পূরণে পুলিশকে সচেষ্ট থাকতে হবে।

আইজিপি বলেন, পুলিশ সদস্যরা স্বাধীনতার চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে দায়িত্ব পালন করছেন বলেই তাঁরা জঙ্গিবাদ-সন্ত্রাসবাদসহ অন্যান্য অপরাধ দৃঢ়ভাবে মোকাবিলা করতে সক্ষম হয়েছেন। পুলিশ সদস্যদের আত্মতুষ্টিতে ভুগলে হবে না, এ জন্য আরও কাজ করতে হবে। পুলিশের ওপর জনগণের আস্থা ধরে রাখতে হবে।

করোনাকালে মানবিকতার চরম বিপর্যয়ের সময় পুলিশের অনন্য সাধারণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘করোনায় কেউ মারা গেলে আত্মীয়স্বজন, এমনকি মা-বাবাও সন্তানের লাশ ফেলে চলে গিয়েছিলেন। তখন পুলিশ তাঁদের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ নিজের জীবনকে তুচ্ছ গণ্য করে, নিজের জীবন উৎসর্গ করে মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। এ জন্য পুলিশ মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেছে, ভালোবাসা পেয়েছে। এই শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ধরে রাখতে হবে, মানুষের ভালোবাসার প্রতিদান দিতে হবে।’

পুলিশের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদাহরণ টেনে আইজিপি বলেন, একসময় পুলিশের মামলা তদন্তের সফলতা ছিল সোর্স (তথ্যদাতা) নির্ভর। এখন বৈজ্ঞানিক কৌশল ব্যবহারের মাধ্যমে পুলিশ অপরাধ উদ্‌ঘাটন করছে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মামলার রহস্য উদ্‌ঘাটিত হচ্ছে।

জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর কথা উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ৯৯৯–এ প্রতিদিন প্রচুর কল আসে ও প্রতিটি ক্ষেত্রেই মানুষ পুলিশের সেবা পেয়ে থাকে। ৯৯৯ জনগণের আস্থা অর্জনে সক্ষম হয়েছে। এ ধরনের একটি সার্ভিস পুলিশকে দেওয়ার জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।

পুলিশ পেশাদারির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছে বলেই বর্তমানে দেশে স্থিতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে উল্লেখ করেন পুলিশপ্রধান চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে পাশের অনেক দেশকে পেছনে ফেলে বহু সামাজিক সূচকে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। দেশ উন্নয়নের মহাসড়কে যুক্ত হয়েছে।

এদিকে সভাপতির বক্তব্যে ডিএমপি কমিশনার মোহা. শফিকুল ইসলাম বলেন, ডিএমপি বাংলাদেশ পুলিশের সর্ববৃহৎ ইউনিট। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ কালরাতে রাজারবাগের বাঙালি পুলিশ সদস্যরা সামান্য ‘থ্রি নট থ্রি’ রাইফেল দিয়ে পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছেন। তাঁদের একটাই লক্ষ্য ছিল, দেশকে স্বাধীন করতে হবে।

আইজিপিকে চৌকস, পেশাদার ও দূরদৃষ্টিসম্পন্ন কর্মকর্তা আখ্যা দিয়ে অনুষ্ঠানে ডিএমপির কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যায়ের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। এর আগে মোটরকেড ও সুসজ্জিত অশ্বারোহী পরিবেষ্টিত হয়ে আইজিপি সংবর্ধনাস্থলে আসেন। এ সময় একটি চৌকস পুলিশ দল তাঁকে গার্ড অব অনার দেয়। ডিএমপি কমিশনার ফুল দিয়ে আইজিপিকে অভ্যর্থনা জানান।

আইজিপিকে দেওয়া এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও বিভিন্ন পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।