গরম কম, রমজানে জুসের বাজারে ভাটা

ইফতারের আগে ফাঁকা সময়, তারাবিহর পর বাড়ে ভিড়—বিক্রেতাদের অপেক্ষা তাপমাত্রা বাড়ার।

রাজধানীর আজিমপুরের একটি জুসের দোকান। গতকাল শনিবারছবি: প্রথম আলো

রমজান এলে রাজধানীর অলিগলিতে ইফতারের আগে অন্য রকম একটা সুর কানে বাজে। বরফ ভাঙার ঠকঠক আওয়াজ, ব্লেন্ডারের ঘূর্ণি। রঙিন জুসে ভরা গ্লাসের সারিতে চোখ জুড়ায়। সাধারণত ইফতারের আগে জুসের দোকানগুলোতে থাকে উপচে পড়া ভিড়। তবে এবারের রমজানে সেই চেনা চিত্রে ভাটা পড়েছে।

রোজার শুরুতে গরমের তেজ কম থাকায় রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জুস ও শরবতের বাজারে এখন ভাটা। তবু বিক্রেতারা আশাবাদী, রমজান থাকতে থাকতে গরম পড়লে আবার জমে উঠবে জুসের ব্যবসা।

শনিবার সরেজমিনে রাজধানীর মিরপুর, আজিমপুর, লালবাগ ও পলাশী এলাকার কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা গেছে, ইফতারের আগমুহূর্তেও জুসের দোকানগুলোতে ক্রেতা নেই। বিক্রেতারা কেউ মুঠোফোনে স্ক্রিনে তাকিয়ে আছেন, কেউবা গ্লাস মুছতে মুছতে ক্রেতার অপেক্ষা করছেন।

রমজানের শুরুতে সাধারণত বিক্রি একটু কম থাকে। মানুষ বাসায় ফল কেটে বা শরবত বানিয়ে ইফতার করে। মাসের মাঝামাঝি এলে বিক্রি বাড়ে।
রিয়াদ আহমেদ, পুরাতন পলাশী এলাকার জুসের দোকানের মালিক

দুপুরের পর মিরপুর–১১ ও ১২ নম্বরের কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, বিকেলের ব্যস্ত সময়েও কয়েকটি দোকানে অল্পবিস্তর বেচাকেনা চলছে। দোকানিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তুলনামূলক কম গরম পড়ায় জুস ও ঠান্ডা পানীয়ের চাহিদা খুব একটা নেই এবার। রোজার শুরুতে অনেক পরিবার ঘরোয়া আয়োজনে ইফতার করায় বাইরের জুসের বিক্রি এখনো জমেনি বলেও মত তাঁদের।

আসরের নামাজের পর কথা হয় আজিমপুরের একটি জুসের দোকানের বিক্রেতা মুকুল দেবনাথের সঙ্গে। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘গত রমজানে এই সময়ে অনেক বেচাবিক্রি ছিল। এবার গরম তেমন না থাকায় বিক্রি কম। ইফতারের আগে ভিড় থাকে না বললেই চলে। তবে তারাবিহর নামাজের পর কিছুটা ক্রেতা বাড়ে।’

মুকুল জানান, পেস্তা বাদামের জুস, জাম ও কতবেলের জুস, অ্যাভোকাডো মিল্কশেক এবং জিরাপানি তুলনামূলক বেশি বিক্রি হচ্ছে।

দোকানগুলোর মূল্যতালিকায় চোখ বুলিয়ে দেখা গেল, জুসের দাম ৫০ থেকে ৮০ টাকার মধ্যে। কাঁচা আম, পাকা আম, তরমুজ, আনারস ও পেঁপের জুস ৮০ টাকা। মাল্টা ও কমলার জুস ৬০ থেকে ৮০ টাকা। কালোজাম ও আঙুরের জুস ৬০ টাকা। লেমন মিন্ট ৪০ টাকা। কতবেল ও জলপাইয়ের জুস ৮০ টাকা। বেদানার জুসের দাম ১৫০ টাকা। মিল্কশেকের ক্ষেত্রে দাম কিছুটা বেশি। কলা মিল্কশেক ৮০ টাকা, স্ট্রবেরি মিল্কশেক ৯০ টাকা, চকো মিল্কশেক ৬০ টাকা। কাজু মিল্কশেক ৮০ টাকা, পেস্তা মিল্কশেক ১০০ টাকা। ড্রাগন ও অ্যাভোকাডো মিল্কশেক ১০০ টাকা। লাচ্ছি ও ম্যাঙ্গো লাচ্ছির দাম ৭০ থেকে ৯০ টাকার মধ্যে।

রোজার শুরুতে বাজারসদাই, নিত্যপণ্যের খরচ সামলাতে মানুষ একটু হিসাব করে চলে। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জুসের বিক্রি বাড়বে। ফলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় লাভের মার্জিনও কমেছে।
তসলিম হোসেন, আজিমপুরের জুসের দোকানের মালিক

ইফতারের আগমুহূর্তে কথা হয় পুরাতন পলাশী এলাকার একটি জুসের দোকানের মালিক রিয়াদ আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘রমজানের শুরুতে সাধারণত বিক্রি একটু কম থাকে। মানুষ বাসায় ফল কেটে বা শরবত বানিয়ে ইফতার করে। মাসের মাঝামাঝি এলে বিক্রি বাড়ে।’ তিনি জানান, গত বছরের তুলনায় এ বছর এখন পর্যন্ত বিক্রি ২০ থেকে ৩০ শতাংশ কম।

আজিমপুরের আরেক দোকানমালিক তসলিম হোসেন বলেন, রোজার শুরুতে বাজারসদাই, নিত্যপণ্যের খরচ সামলাতে মানুষ একটু হিসাব করে চলে। কয়েক দিন পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জুসের বিক্রি বাড়বে। তিনি আরও বলেন, ফলের দাম তুলনামূলক বেশি থাকায় লাভের মার্জিনও কমেছে।

রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দৃশ্য কিছুটা বদলায় বলে জানালেন বিক্রেতারা। তাঁরা বলেন, তারাবিহর নামাজ শেষে তরুণেরা দল বেঁধে জুস খেতে আসেন। কেউ আসেন বন্ধুদের সঙ্গে, কেউবা পরিবার নিয়ে। বিক্রেতাদের আশা, সামনে তাপমাত্রা বাড়লে বাজার আবার চাঙা হবে।