প্রতিবাদী এই আয়োজনে অংশ নেন আদর্শ প্রকাশনীর প্রকাশক মাহবুবুর রহমান। তিনি বলেন, ‘আদর্শ প্রকাশনী অমর একুশে বইমেলায় স্টল পেল কি পেল না, আমার কাছে তার চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। মূলত এর পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় আজকে এ জটিলতা (স্টল বরাদ্দ না পাওয়া) তৈরি হয়েছে। আমরা স্টল পেলেও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পক্ষে আদর্শ প্রকাশনী ও ব্যক্তি হিসেবে আমার যে অবস্থান, সেই অবস্থান বা দাবি থেকে আমরা কখনোই সরে আসব না।’

লেখক ও সাংবাদিক সালাহ উদ্দিন শুভ্র বলেন, আদর্শ প্রকাশনী থেকে তাঁর দুটি বই প্রকাশিত হয়েছে। বাংলা একাডেমি একটি বইয়ের ব্যাপারে আপত্তি তুলে আদর্শ প্রকাশনীকে এবারের বইমেলায় স্টল বরাদ্দ দিচ্ছে না। কাজেই তাঁর বই দুটি পাঠক কীভাবে পাবেন, তার কোনো সদুত্তর তিনি পাচ্ছেন না। এই লেখক বলেন, ‘বই দুটির ভবিষ্যৎ একরকম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেল। কোন আইন বা নীতিমালার ভিত্তিতে বাংলা একাডেমি এটা করতে পারে, সেটা আমরা জানি না। বাংলা একাডেমিও এর উত্তর দিতে পারবে কি না, সন্দেহ। এই যে আমার লেখা দুটি বই বইমেলায় প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না, এটা লেখক ও নাগরিক হিসেবে আমার জন্য অবমাননাকর ও অধিকারবঞ্চিত করে রাখা।’

লেখক অনুপম দেবাশীষ রায় বলেন, ‘আমরা এখন এমন একটি বিরূপ রাষ্ট্রে বাস করছি, যেখানে আমাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। আমাদের চিন্তা করতে দেওয়া হচ্ছে না। বর্তমান বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রকল্পটি চিন্তাভাবনাবিরোধী। কারণ, আমাদের মধ্যে সৃজনশীলতার উৎপাদন হলে তা রাষ্ট্রের জন্য ভয়ংকর হয়ে দাঁড়ায়।’

উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর সাবেক সাধারণ সম্পাদক জামশেদ আনোয়ার বলেন, অবিলম্বে আদর্শ প্রকাশনীকে বইমেলায় স্টল দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হোক। দুর্নীতিবাজ, লুটপাটকারী ও সন্ত্রাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার জন্য প্রণীত ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করা হয়েছে। এই আইনসহ সব ধরনের নিবর্তনমূলক আইন বাতিল করতে হবে।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি বলেন, ‘ধীরে ধীরে আমাদের প্রতিটি নাগরিক অধিকার চলে যাচ্ছে। আমাদের দেখতে হচ্ছে, যে বই বাংলাদেশের সব জায়গায় বিক্রি হবে, সেই বই বইমেলাতে বিক্রি করা যাবে না। সরকারের যেকোনো কিছু নিষিদ্ধ করার বিরুদ্ধেই আমাদের অবস্থান নিতে হবে।’

আয়োজনে আরও বক্তব্য দেন শিল্পী অরূপ রাহী। বক্তব্যের ফাঁকে ফাঁকে চলে গান ও কবিতা আবৃত্তি। অধিকারকর্মী মার্জিয়া প্রভা আয়োজনটি সঞ্চালনা করেন।