জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালের হত্যা মামলা
ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক মামুন খালেদের ৫ দিন রিমান্ড
জুলাই গণ–অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
পুলিশের আবেদনের ওপর শুনানি নিয়ে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সিদ্দিক আজাদ এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন এ তথ্য জানান।
মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) উপপরিদর্শক (এসআই) কফিল উদ্দিন। তিনি এ মামলায় মামুন খালেদের সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেছিলেন।
মামুন খালেদকে গতকাল বুধবার গভীর রাতে রাজধানীর একটি এলাকা থেকে আটক করে ডিবি। মামুন খালেদ ২০০৭-০৮ সালের সেনানিয়ন্ত্রিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলের শেষ দিকে ডিজিএফআইয়ের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোর (সিআইবি) পরিচালক ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পরও তিনি একই পদে ছিলেন। এরপর ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক হন তিনি। ২০১১ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন।
রিমান্ড আবেদনে বলা হয়, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বেলা ৩টা ২০ মিনিটে দেলোয়ার হোসেন (৪০) জুলাই ছাত্র আন্দোলনের পক্ষে মিরপুর-১০ নম্বর ফলপট্টিতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় এজাহারভুক্ত আসামিসহ অজ্ঞাতনামা ৫০০ থেকে ৭০০ জন আওয়ামী লীগের অঙ্গসংগঠনের সন্ত্রাসীরা মামুন খালেদের নির্দেশে নির্বিচার গুলি চালায়। এতে দেলোয়ার হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলে লুটিয়ে পড়েন। তাঁকে রক্তাক্ত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২১ জুলাই দেলোয়ার মারা যান। এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর পরিবার মামলা করে। এ মামলার ঘটনার সঙ্গে মামুন খালেদের জড়িত থাকার বিষয়ে প্রাথমিক তদন্তে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলার ঘটনার মূল রহস্য উদ্ঘাটনসহ সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে মামুন খালেদকে নিবিড়ভাবে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাত দিনের রিমান্ড দরকার।
গত বছরের মে মাসে মামুন খালেদ ও তাঁর স্ত্রী নিগার সুলতানার বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত এই আদেশ দেন। সে সময় দুদক তাঁদের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও সম্পদসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধানের কথা জানিয়েছিল।
একটি গোয়েন্দা সূত্র জানায়, মামুন খালেদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে অনুসন্ধান চলছিল। এর মধ্যে ডিজিএফআইকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার অভিযোগ, এক-এগারোর সময় তাঁর বিতর্কিত ভূমিকা এবং জলসিঁড়ি আবাসনসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয়গুলো রয়েছে।