সভার ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী। এতে বলা হয়, বর্তমানে রাজধানীতে কখনো গেটলক-সিটিং সার্ভিস, কখনো ওয়েবিলের নামে বাসযাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

গত ১৩ নভেম্বর মিরপুর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী ৩০টি কোম্পানির বাসে ই-টিকিট চালু করা হয়। এই ব্যবস্থায় কোনো কোনো যাত্রী ই-টিকিটে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ করেছেন। আবার অনেক ক্ষেত্রে আগে যে ভাড়া নেওয়া হতো, ই-টিকিট চালুর পর তা কমেছে বলেও জানিয়েছেন যাত্রীরা।

মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ই-টিকিট ভালো উদ্যোগ। প্রতিটি ই-টিকিটে বাসের নাম, নম্বর, যাত্রা-গন্তব্যের নাম, দূরত্ব, ভাড়ার পরিমাণ, তারিখ ও অভিযোগ জানানোর নম্বর থাকতে হবে। মালিক সমিতি, শ্রমিক ফেডারেশন, যাত্রী কল্যাণ সমিতি ও বিআরটিএর সমন্বয়ে একটি পর্যবেক্ষক দল গঠন করে ই-টিকিট কার্যক্রমের অভিযোগ নিষ্পত্তি করতে হবে।

কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সদস্য আবুল কালাম আজাদ বলেন, কেউ উত্তরা থেকে বনানী নামছেন। কিন্তু ই-টিকিটে তাঁর কাছ থেকে মহাখালীর ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। যাত্রী যে দূরত্বে যাবেন, সেই দূরত্বের ভাড়াই নিতে হবে।

ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান বলেন, অতিরিক্ত ভাড়া আদায় দীর্ঘদিনের সমস্যা। এক মাসেই এই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে না। মালিক-শ্রমিকেরা ই-টিকিটের বিষয়ে আন্তরিক। যাত্রী, সরকারি সংস্থাগুলোকেও নিজ নিজ দায়িত্ব পালন করতে হবে।

বিআরটিএর উপপরিচালক স্বদেশ কুমার বলেন, তাঁর সংস্থা ই-টিকিট কার্যকরের মাধ্যমে যাত্রীদের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাসহ তদারকির কাজ চলছে।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক ইনসুর আলী বলেন, সড়ক পরিবহন শ্রমিকদের জন্য নিম্নতম মজুরি নির্ধারণ করা হয়েছে। কিন্তু মালিকেরা তা দিচ্ছেন না। ই-টিকিট বাস্তবায়ন করতে হলে শ্রমিকদের বেতন ঠিকভাবে দিতে হবে।

১২ নভেম্বর ঢাকা সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি এক সংবাদ সম্মেলনে ঘোষণা দেয়, ১৩ নভেম্বর থেকে মিরপুর অঞ্চলের সব কোম্পানির বাস ই-টিকিটিংয়ের মাধ্যমে যাত্রী নেবে।

আর আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে ঢাকা শহরের সব বাস কোম্পানিকে ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় চলাচলকারী সব বাস কোম্পানিকে ই-টিকিটিংয়ের আওতায় আনা হবে।