মার্কিন দূতাবাস ও বেঙ্গল ফাউন্ডেশন যৌথভাবে মৌখিক ইতিহাস সংগ্রহের কার্যক্রম ‘ভয়েসেস অব বাংলাদেশ: দ্য জার্নি টু ফিফটি’–এ এভাবেই যুদ্ধদিনের বর্ণনা দিলেন ৭ নম্বর সেক্টরের বীর মুক্তিযোদ্ধা উত্তম কুমার সরকার। একাত্তরে চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে সম্মুখযুদ্ধে বীরত্ব দেখিয়েছেন তিনি।

এ কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গত ৩০ অক্টোবর থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ঢাকার বেঙ্গল শিল্পালয়ে ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে বড় প্রজেক্টরে মুক্তিযোদ্ধাদের গল্পগুলো প্রচার করা হয়। শুধু উত্তম কুমার নয়, এখন পর্যন্ত ১০ জন মুক্তিযোদ্ধা ও প্রত্যক্ষদর্শীর বক্তব্য ধারণ করে প্রচার করা হয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষদর্শী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক আজাদি পারভিন বলছিলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁর বয়স ছিল সাত বছর। তিনি জানান, যুদ্ধকালে মানুষ তাদের বাসার সামনে দিয়ে শরণার্থীশিবিরের পথে যেতেন। তাঁর বাবা তখন খুলনায় পুলিশে চাকরি করতেন। পাকিস্তানিদের পক্ষে যুদ্ধ করবেন না বলে বিভিন্ন সময়ে নির্যাতন সইতে হয়েছে। শেষে খুলনা থেকে পালিয়ে বাড়ি এসেছিলেন তাঁর বাবা। সেই ঘটনা বলতে বলতে চোখ ছলছল করে ওঠে আজাদির।

‘ভয়েসেস অব বাংলাদেশ: দ্য জার্নি টু ফিফটি’র সমন্বয়ক, যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামে অংশগ্রহণকারী গবেষক আইরিন খান জানান, স্বাধীনতা অর্জন ও পরবর্তী পাঁচ দশকে রাজনৈতিক ও সামাজিক নানা পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে এগিয়ে যাওয়া বাংলাদেশের অজানা গল্পগুলো তুলে আনার চেষ্টা করছেন তাঁরা।

মার্কিন দূতাবাসের তত্ত্বাবধানে গত বছরের সেপ্টেম্বের এ কার্যক্রম শুরু করেন আইরিন, পরবর্তী সময়ে এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেঙ্গল ফাউন্ডেশন। মুক্তিযোদ্ধাদের ধারণ করা বক্তব্য প্রচারের পাশাপাশি বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের সংগ্রহে থাকা বেশ কিছু শিল্পকর্ম ও আলোকচিত্র দিয়ে সাজানো হয়েছে ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীটি।
বেঙ্গল শিল্পালয়ে আয়োজনের আগে খুলনা ও রাজশাহীতে এ ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনী হয়েছে।