প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মহাকালের বিচারে মানুষের জীবন যে কী, সেটা চিন্তারও বাইরে। পৃথিবীটা কিছু নয়। সেই পৃথিবীর মানুষ আমরা। এর মধ্যেও কিছু কিছু মানুষ দেশকে, মানুষকে কাঁদায়। আলম খান ও শর্মিলী আহমেদের সঙ্গে আমার পরিচয় নেই। যতটা চিনি, টিভি পর্দায়। এই দুজন মানুষ আমাদের সংস্কৃতির অঙ্গনকে সমৃদ্ধ করে গেছেন। তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখা আমাদের দায়িত্ব। এফডিসির নতুন ভবনে প্রয়াত এ গুণীদের স্মৃতি সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে পরবর্তী প্রজন্ম তাঁদের সম্পর্কে জানতে পারবে।’

স্মরণসভায় স্মৃতিচারণা করেন চলচ্চিত্র নায়ক আলমগীর, এফডিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত ইয়াসমিন, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন, গীতিকার গাজী মাজহারুল আনোয়ার, প্রয়াত আলম খানের ছেলে শিল্পী আরমান খান, শর্মিলী আহমেদের বোন অভিনেত্রী ওয়াহিদা মল্লিক জলি প্রমুখ।

স্মরণসভায় আলমগীর বলেন, ‘এই দুজনকে আমি ১৯৭২ সাল থেকে চিনি। শর্মিলী আহমেদ কখনো বড় বোন, কখনো ভাবি, আবার কখনো মা হিসেবে অভিনয় করেছেন। তাঁর অনেক স্নেহ, ভালোবাসা ও আদর পেয়েছি। “আমার জন্মভূমি” ছবিতে প্রথম কাস্ট হলাম, আলমগীর কুমকুমের কাছে জানলাম আলম খান ছবিটির সংগীত পরিচালক। গীতিকার মুকুল চৌধুরীর সঙ্গে তখন পরিচয়। ফোন করলে কখনো হ্যালো বলতেন না। বলতেন, “বলো, মিতা।” যে কাজ তাঁরা করে গেছেন, যদি সংরক্ষণ না–ও করি, তাঁদের কর্ম এত বড় যে তাঁরা বিস্মৃত হবেন না।’

ওয়াহিদা মল্লিক জলি বলেন, ‘এই সভা আয়োজনের জন্য আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা। আমাদের পরিবার বা চলচ্চিত্র পরিবারের পক্ষ থেকে তাঁদের স্মৃতি ধরে রাখার জন্য কিছু একটা করতে হবে। হতে পারে, তাঁদের কাজের বিশ্লেষণাত্মক একটি বই।’

শিল্পী সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বলেন, ‘সুরকার আলম খানের সঙ্গে আমার সখ্য ছিল না তেমন। আপনাদের মুখ থেকে তাঁদের সম্পর্কে যা জানতে পেরেছি, তাতে বুঝতে পারছি, কীভাবে তাঁরা শুক্রবার ও হজের মতো পবিত্র একটা সময়ে চলে গেলেন। কর্মের মাধ্যমে তাঁরা মানুষের ভালোবাসা পেয়ে সৌভাগ্যবান মানুষের মতো মৃত্যুবরণ করেছেন।’

আরমান খান বলেন, ‘বাবা এফডিসিকে নিজের বাড়িঘর মনে করতেন। গানের চেয়ে ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক করতে বেশি পছন্দ করতেন, গুরুত্ব দিতেন। চলচ্চিত্র সম্পর্কে, মিউজিক ইন্ডাস্ট্রি সম্পর্কে সব সময় ইতিবাচক কথা বলতেন। পরবর্তী প্রজন্মের কাছে আলম খানকে পৌঁছে দেওয়াই থাকবে আমাদের লক্ষ্য। তাঁর নামে এফডিসিতে একটি চত্বর করার অনুরোধ থাকবে।’

চলচ্চিত্র পরিচালক সোহানুর রহমান সোহানের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন চলচ্চিত্রকার মসিহ উদ্দিন সাকের, প্রয়াত কণ্ঠশিল্পী এন্ড্রু কিশোরের স্ত্রী লিপিকা এন্ড্রু, পরিচালক দেলোয়ার জাহান ঝন্টু, মুশফিকুর রহমান গুলজার, ফোয়াদ নাসের বাবু, গীতিকার মিল্টন খন্দকার, কবির বকুল, অভিনেতা সাইমন সাদিক প্রমুখ।

রাজধানী থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন