কোথাও রেশনিং, কোথাও চাহিদামতো তেল মিলছে
সরকারের পক্ষ থেকে জ্বালানি তেল বিক্রিতে রেশনিং প্রথা তুলে দেওয়া হয়েছে গত রোববার থেকে। তবে রাজধানীর সব ফিলিং স্টেশনে চাহিদামতো তেল পাচ্ছেন না গ্রাহকেরা। কোথাও আগের নিয়মে রেশনিং করে তেল বিক্রি হচ্ছে। আবার কোথাও তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় বিক্রি বন্ধ রয়েছে।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর আসাদ গেট, বিজয় সরণি, পরীবাগ, মতিঝিল, রাজারবাগ ও মগবাজারে ১০টি ফিলিং স্টেশন ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র।
রাজারবাগ পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ওই পাম্পে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা এবং প্রাইভেট কারে ৫০০ টাকার বেশি অকটেন দেওয়া হচ্ছে না।
এত কম তেল সরবরাহ কেন জানতে চাইলে পাম্পের কর্মচারী মো. ইমন বলেন, ‘ডিপো থেকে এই বিধিনিষেধ দেওয়া আছে। আমাদের কিছু করার নেই।’
এই পাম্পে যানবাহনের অতিরিক্ত ভিড় নেই। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় যানবাহনের ভিড় সামান্য বেশি। প্রায় ২০ মিনিট লাইনে দাঁড়িয়ে মোটরসাইকেলে ২০০ টাকার তেল নেন মামুন হোসেন। তিনি মোটরসাইকেল চালিয়ে যাবেন কুষ্টিয়ায়।
মামুন হোসেন বলেন, ‘২০০ টাকার তেল তো রিজার্ভেই থেকে যাবে। সরকার বিধিনিষেধ তুলে দেওয়ার পরও তেল নিয়ে ঝামেলা করার কোনো অর্থ নেই। এত কম তেল নিয়ে বেশি দূর যাওয়া যাবে না। অন্য কোনো পাম্প থেকে আবার নেওয়ার চেষ্টা করব।’
মতিঝিলের করিম অ্যান্ড সন্স পাম্পে ২০ থেকে ২৫ মিনিট অপেক্ষা করে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন গ্রাহক। মতিঝিলের আরেক পাম্প পূবালী ফিলিং স্টেশনেও গ্রাহক চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন।
তবে দৈনিক বাংলা মোড়ের নাভানা পাম্পে বেলা একটায় গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে তেল সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এই পাম্পে অনেক মোটরসাইকেল চালক ও প্রাইভেট কার এসে তেল না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
তেল সরবরাহ বন্ধ থাকার কারণ জানতে চাইলে পাম্পের কর্মচারী খোকন শেখ বলেন, সকাল থেকে গাড়ির চাপ বেশি ছিল। তাই দুপুর নাগাদ তেল শেষ হয়ে গেছে। পুনরায় তেলের গাড়ি এলে তাঁরা তেল সরবরাহ করতে পারবেন বলে জানান।
দুপুর ১২টায় রাজধানীর পরীবাগের মেঘনা মডেল পাম্পে গিয়ে দেখা যায়, ওই পাম্পে ৩০ মিনিট অপেক্ষা করে তেল পাচ্ছেন গ্রাহক। মেঘনা পাম্পের পার্শ্ববর্তী পূর্বাচল ট্রেডার্স পাম্পেও কিছু সময় অপেক্ষা করে চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন গ্রাহক।
সরেজমিন আজ সকাল ১০টায় রাজধানীর আসাদ গেটের সোনার বাংলা সার্ভিস স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, পাম্পটিতে জ্বালানি তেলের জন্য যানবাহনের সারি প্রায় এক কিলোমিটারের বেশি ছাড়িয়ে গেছে।
ফিলিং স্টেশনটিতে জ্বালানি তেলের জন্য অপেক্ষায় ছিল মোটরসাইকেল, প্রাইভেট কার, মিনি বাস ও পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহন। তবে অন্যান্য দিনের তুলনায় মোটরসাইকেলের সারি ছিল ছোট।
এই পাম্পে তেলের জন্য প্রায় ৪৫ মিনিট অপেক্ষা করেছেন মো. জসিম নামের এক প্রাইভেট কার চালক। পাম্পের কাছাকাছি কথা হলে তিনি বলেন, অন্য দিন আরও বেশি সময় অপেক্ষা করতে হতো। আজকে তুলনামূলক কম সময় অপেক্ষা করতে হয়েছে।
তবে আসাদ গেটের আরেকটি পাম্প তালুকদার ফিলিং স্টেশনে সকাল থেকে তেল দেওয়া হলেও সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধ হয়ে যায়। এই পাম্পে তেলের জন্য অপেক্ষায় থাকা যানবাহনের লাইন প্রায় দেড় কিলোমিটার লম্বা হতে দেখা গেছে।
এই পাম্পের ক্যাশিয়ার মো. আজম জানান, তেল শেষ হয়ে যাওয়ায় তাঁরা আপাতত তেল দেওয়া বন্ধ রেখেছেন। তেল এলে পুনরায় দিতে পারবেন।
এই পাম্পে তেলের জন্য গাড়ি নিয়ে অপেক্ষায় ছিলেন শিহাব আহমেদ সুজন নামের এক প্রাইভেট কার চালক। তিনি বলেন, সকাল ১০টার কিছু আগে হঠাৎ তেল দেওয়া বন্ধ করে দেয়। পাম্প কর্তৃপক্ষ বলছে তেল শেষ হয়ে গেছে।
প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষা করে পাম্পের কাছাকাছি এসেছেন এই চালক। কিন্তু এখন তেল শেষ হয়ে যাওয়ার ঘোষণা শুনে চিন্তিত হয়ে পড়েছেন। তিনি বলেন, ‘আজকে ছুটির দিন। তবু তেলের জন্য এত লম্বা লাইন। কতক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে বুঝতে পারছি না।’
বিজয় সরণি এলাকার ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের সামনেও দেখা গেছে যানবাহনের দীর্ঘ সারি। এখানকার মোটরসাইকেলের সারি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও প্রাইভেট কারের সারি জাহাঙ্গীর গেট পর্যন্ত চলে গেছে।
রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করেন রাসেল আহমেদ। সারিতে তিনি প্রায় ৫০ মিনিট অপেক্ষা করে ট্রাস্ট ফিলিং স্টেশনের কাছাকাছি এসেছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে তিনি জানান, এবারের ঈদের ছুটিতে গ্রামের বাড়ি পাবনায় মোটরসাইকেল চালিয়ে যাবেন। তাই ট্যাংক ভর্তি করে নিতে এত সময় ধরে অপেক্ষা করে আছেন।