বিয়ে–বিভ্রাট: ক্রিকেটার নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে মামলার রায় ১০ জুন
ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তাঁর স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মীর বিরুদ্ধে তাম্মীর সাবেক স্বামী রাকিব হাসানের করা মামলায় আগামী ১০ জুন রায় দেবেন ঢাকার আদালত। রাকিবের অভিযোগ, তাঁর সঙ্গে বিয়ের সম্পর্ক রেখেই নাসিরকে বিয়ে করেন তামিমা।
ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম বাদী ও আসামি—উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ বুধবার মামলাটির রায়ের দিন ধার্য করেন। শুনানিতে তাঁদের সর্বোচ্চ সাজা প্রার্থনা করে বাদীপক্ষ। অন্যদিকে আসামিপক্ষ নিজেদের নির্দোষ দাবি করে।
তামিমা এদিন দুপুরে কালো বোরকা ও কালো হিজাব পরে হাজির হন আদালতে। নাসিরের পরনে ছিল নেভি ব্লু টি–শার্ট ও জিনস প্যান্ট। তামিমার হাত ধরেই আদালতে ওঠেন নাসির। দুই ঘণ্টা ধরে শুনানি চলাকালে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে খুনসুটি করতে দেখা যায় তাঁদের।
শুনানি শেষে বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান সাংবাদিকদের বলেন, আসামি তামিমা দীর্ঘ সময় ধরে রাকিবের সঙ্গে সংসারজীবনে থাকার পর তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। রাকিবকে তালাকের যে কথা শুরুতে বলেছিলেন, তা ছিল অবৈধ। আদালতে এটি স্বীকারও করেন তিনি।
দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারায় নাসির ও তামিমার শাস্তি চেয়েছে আসামিপক্ষ। এই ধারা অনুযায়ী, যদি কোনো ব্যক্তি অন্য কোনো ব্যক্তির স্ত্রীর সঙ্গে সেই নারীর সম্মতি সাপেক্ষে সম্পর্ক স্থাপন করেন, তবে তা হবে ব্যভিচার। এর শাস্তি পাঁচ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড।
বাদীপক্ষের আরেক আইনজীবী বেলাল হোসাইন বলেন, ‘আমরা আদালতে সব কাগজপত্র উপস্থাপন করেছি। এ ধরনের ঘটনার শাস্তি হলে সমাজে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা হবে।’
অন্যদিকে বিবাদীপক্ষের আইনজীবী মোসলেম উদ্দিন জসীম সাংবাদিকদের বলেন, নাসির বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের একজন স্বনামধন্য খেলোয়াড়। নাসির ও তামিমা বৈধভাবে বিবাহ করেছেন। সেসব কাগজপত্রের সবই বৈধ। নাসির ও তামিমার সম্মানহানির উদ্দেশ্যে এই মামলা করা হয়েছে।
জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক খেলোয়াড় নাসির ২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমাকে বিয়ে করেন। রাজধানীর উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় তাঁদের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা হয়।
১০ দিন পর ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার সাবেক স্বামী রাকিব মামলা করেন। তাতে তিনি অভিযোগ করেন, তাঁকে তালাক না দিয়ে নাসিরকে বিয়ে করেছেন তামিমা।
মামলাটি তদন্ত করে ২০২১ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। তার ভিত্তিতে ২০২২ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি দুজনকে আসামি করে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে এই মামলার বিচার শুরু হয়। তার চার বছরের বেশি সময় পর রায় হতে যাচ্ছে।