দগ্ধ অভিব্যক্তি রংতুলিতে আঁকলেন সুপর্ণা

‘কল্পনার রাজ্যে দগ্ধ অভিব্যক্তি’ শীর্ষক চিত্রকর্ম প্রদর্শনীর উদ্বোধনী আয়োজনে (বাঁ থেকে) প্রথম আলো সম্পাদক মতিউ‌র রহমান, চিত্রশিল্পী শহিদ ক‌বির, সুপর্ণা এ‌লিস গমেজ, জি এম খলিলুর রহমান ও মিন্টু দে।গতকাল রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়েছবি : প্রথম আলো

সেই তৃষ্ণার্ত কাকের কথা মনে আছে? পানির পাত্র, নুড়ি পাথর আর কাককে রংতুলির আঁচড়ে তুলে ধরেছেন চিত্রশিল্পী সুপর্ণা এলিস গমেজ। শুধু কাক নয়; ফড়িং, মাকড়সা থেকে জবা, সূর্যমুখীকে ক্যানভাসে বুনেছেন তিনি। পাশাপাশি লালন, সুলতান, চার্লি চ্যাপলিনেরও দেখা মিলল। প্রতিটি ছবিই মলিন, ছোপ ছোপ দাগ রয়েছে। মনে হবে, ছবিগুলো বহু পুরোনো; হয়তো পুড়ে গেছে।

জলরং, অ্যাক্রিলিক আর কফি রঙে আঁকা ৫৯টি ছবি নিয়ে ‘কল্পনার রাজ্যে দগ্ধ অভিব্যক্তি’ শীর্ষক সুপর্ণার প্রথম একক চিত্রকর্ম প্রদর্শনী শুরু হয়েছে গতকাল শনিবার। রাজধানীর ধানমন্ডির সফিউদ্দীন শিল্পালয়ে চিত্রশিল্পী শহিদ কবির, জি এম খলিলুর রহমান, মিন্টু দে ও সুপর্ণা এলিস গমেজকে নিয়ে প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন প্রথম আলো সম্পাদক মতিউর রহমান। উদ্বোধনের পর তাঁরা প্রদীপ প্রজ্বালন করেন। প্রতিদিন বেলা ১১টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত প্রদর্শনী চলবে। প্রদর্শনী শেষ হবে আগামী মঙ্গলবার।

প্রদর্শনী ঘুরে দেখছেন সবাই
ছবি: প্রথম আলো

প্রদর্শনী ঘুরে চিত্রশিল্পী শহিদ কবির প্রথম আলোকে বলেন, ‘খুবই মনোক্রমিক। কোনো কালার, কোনো কালারকে ডিস্টার্ব করে না। আর খুব ইনোসেন্ট। ছবিতে ইনোসেন্সি রাখা খুব মুশকিল, আমরা সেটা পারি না। ওর ছবিতে ইনোসেন্সি আছে। এটা আমার খুব ভালো লেগেছে। অনেক কালার ইউজ (ব্যবহার) করেছে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মনে হচ্ছে, দু-তিনটা কালার।’

উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন চিত্রশিল্পী সুপর্ণা এলিস গমেজ
ছবি: প্রথম আলো

প্রদর্শনী নিয়ে চিত্রশিল্পী সুপর্ণা এলিস গমেজ বলেন, ‘যাপিত জীবনের নানা মুহূর্ত পুরোনো হয়ে যায়। একসময় মরচে পড়ে যায়। অনেক সময় আগুনে পুড়ে যায়। সেই দগ্ধ অভিব্যক্তি রং দিয়ে প্রকাশ করেছি।’

প্রদর্শনী দেখছেন দর্শনার্থীরা
ছবি: প্রথম আলো

ছবির জন্য বার্নট সিয়েনা কালার ব্যবহার করা হয়েছে জানিয়ে এই চিত্রশিল্পী বলেন, ‘এটা খয়েরি রং। পুড়ে গেলে এমন রং চলে আসে। এর মধ্যে ২১টি ছবি কফি কালারে এঁকেছি। কফির সঙ্গে গরম পানি মিশিয়ে ছবিগুলো আঁকা।’

বেশ কয়েকটি ছবিতে ফড়িং ও মাকড়সাকে প্রতীকীভাবে তুলে ধরেছেন সুপর্ণা। তাঁর ভাষ্য, ‘এটার মধ্যে কেউ জীবন দেখতে পারে, পারিপার্শ্বিক অবস্থা দেখতে পারে। কেউ দেশের পরিস্থিতিতে দেখতে পারেন।’

প্রদর্শনী উদ্বোধনের পর প্রদীপ প্রজ্বালন করা হয়
ছবি: প্রথম আলো

ফড়িং ও মাকড়সার বাইরে ঘুরেফিরে জবা ফুল আঁকতে দেখা গেছে তাঁকে। বিষয়টি নিয়ে তিনি বলেন, ‘জবার পাপড়িটা খুব নরম, পাপড়িতে হাত দিয়ে চাপ দিলে দাগ পড়ে যায়। থেঁতলে যায়। যেকোনো মুহূর্তে চাপ পড়লে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। ফুলেরও জীবন আছে। জীবনের সঙ্গে তুলনা করে জবার কাজগুলো করা হয়েছে।’

উদ্বোধনী আয়োজনে বক্তব্য দেন মতিউর রহমান, শহিদ কবির, জি এম খলিলুর রহমান, মিন্টু দে ও সুপর্ণা এলিস গমেজ।

আয়োজনটি সঞ্চালনা করেছেন মুক্তা মজুমদার। প্রদর্শনীতে আর্থিক সহযোগিতা করেছে সিটি ব্যাংক।