ঢাকা দক্ষিণে ২৮ জুন প্রায় ৬ লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে
৬ থেকে ১১ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে নীল রঙের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় আগামী রোববার প্রায় ছয় লাখ শিশুকে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। জাতীয় ভিটামিন এ প্লাস ক্যাম্পেইনের আওতায় ৬ থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের এই টিকা খাওয়ানো হবে।
২৮ জুন সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ডিএসসিসির ১ হাজার ৭৬০টি কেন্দ্রে একযোগে এ কার্যক্রম চলবে। কর্মসূচি বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ে ৩ হাজার ৬৫৪ জন স্বেচ্ছাসেবক ও ১৫০ জন সুপারভাইজার দায়িত্ব পালন করবেন।
এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আজ বৃহস্পতিবার নগর ভবন মিলনায়তনে আয়োজিত কেন্দ্রীয় অ্যাডভোকেসি ও ওরিয়েন্টেশন সভা হয়। সেখানে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন ‘এ’ প্রয়োজন। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে শিশুর রাতকানা রোগসহ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা রাসেল রহমান গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী ১ লাখ ৩৫ হাজার ৬০৬ শিশুকে একটি করে নীল রঙের ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। প্রতিটি নীল ক্যাপসুলে ভিটামিন এ-এর মাত্রা এক লাখ আইইউ। এ ছাড়া ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী ৪ লাখ ৫৪ হাজার ৯৩২ শিশুকে একটি করে লাল রঙের ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে। লাল ক্যাপসুলে ভিটামিন ‘এ’-এর মাত্রা দুই লাখ আইইউ।
শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি, দৃষ্টিশক্তি ও রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বজায় রাখতে ভিটামিন এ প্রয়োজন। শরীরে এই ভিটামিনের ঘাটতি হলে শিশুর রাতকানা রোগসহ দৃষ্টিশক্তির সমস্যা দেখা দিতে পারে। সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। নিয়মিত ভিটামিন এ গ্রহণ অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতেও সহায়তা করে।
ডিএসসিসির প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. জাহানে ফেরদৌস বিনতে রহমানের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, ‘ভিটামিন এ শিশুদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি, অন্ধত্ব প্রতিরোধ এবং শিশুমৃত্যুর ঝুঁকি কমাতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই জাতীয় কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সব অংশীজনের সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।’
সভায় জানানো হয়, সরকারের সরবরাহ করা ভিটামিন এ ক্যাপসুল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত পরীক্ষাগারে পরীক্ষা করা হয়েছে এবং সেগুলো শিশুদের জন্য নিরাপদ। ক্যাপসুল নিয়ে কোনো গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্যে কান না দিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে ডিএসসিসি।
একই সঙ্গে নির্ধারিত সময়ে শিশুদের নিকটস্থ কেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে ভিটামিন এ ক্যাপসুল খাওয়ানোর অনুরোধ জানানো হয়েছে।