রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোর নিরাপত্তা নজরদারিতে পুলিশ

জ্বালানি সংকটের উদ্বেগে রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে বেড়েছে ভিড়। ফিলিং স্টেশনের কর্মীরা তা সামাল দিতে না পারায় পুলিশ সদস্যদেরও হস্তক্ষেপ করতে হচ্ছে। আজ শনিবার দুপুরে পরীবাগের ফিলিং স্টেশনের সামনেছবি: শুভ্র কান্তি দাশ

রাজধানীর বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনের নিরাপত্তা নজরদারি করছে পুলিশ। জ্বালানি তেল নিয়ে সংকটের আশঙ্কায় ফিলিং স্টেশনগুলোতে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে জন্য ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এ পদক্ষেপ নিয়েছে।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথ হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এ হামলার পাল্টা জবাব দিচ্ছে ইরান। এতে মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ নৌ রুট হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানিসংকট দেখা দেওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়।

জানতে চাইলে আজ শনিবার ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার প্রথম আলোকে বলেন, একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা রাজধানীর ফিলিং স্টেশনগুলোতে নজরদারি করছে। এসব স্টেশনে পুলিশের টহলদল তৎপর রয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির উদ্ভব হলে পুলিশ তা সামাল দেবে।

আরও পড়ুন

হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৈশ্বিকভাবে জ্বালানি তেলের সরবরাহ কমে গেছে। এতে দেশেও জ্বালানি তেলের সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে ফিলিং স্টেশনে ভিড় করছে এবং বেশি বেশি তেল কিনছে। গতকাল শুক্রবার রাজধানীর একাধিক ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেল নিতে লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মোটরসাইকেলের চালকদের মধ্যে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতি হয়।

জ্বালানি তেলের জন্য লাইন। আজ শনিবার দুপুরে রাজধানীর আসাদ গেইটের একটি ফিলিং স্টেশনে
ছবি: তানভীর আহাম্মেদ

এদিকে গতকাল ফিলিং স্টেশন থেকে তেল সরবরাহের সীমা বেঁধে দেয় বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বিপিসির এক নির্দেশনায় বলা হয়, একটি মোটরসাইকেলে দিনে দুই লিটার পেট্রল বা অকটেন নেওয়া যাবে। ব্যক্তিগত গাড়ির ক্ষেত্রে নেওয়া যাবে ১০ লিটার তেল। স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিকেল বা এসইউভি (যা জিপ নামে পরিচিত) ও মাইক্রোবাস দিনে নিতে পারবে ২০ থেকে ২৫ লিটার তেল। পিকআপ বা লোকাল বাস দিনে ডিজেল নিতে পারবে ৭০ থেকে ৮০ লিটার। আর দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান বা কনটেইনার ট্রাক দৈনিক ২০০ থেকে ২২০ লিটার তেল নিতে পারবে।